ছবি-সংগ্রহীত

(দিনাজপুর২৪.কম) ফয়সল আহমদ ফাহাদ। বয়স চল্লিশের ঘরে। রাজনীতি করেন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের। মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনের সভাপতি সিসিক কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খানের অনুসারী তিনি। গতকাল বুধবার নগরীর চৌহাট্টায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়ে আলোচনায় এসেছেন নতুন করে। কেউ বলছেন, শ্রমিকদের পক্ষে বন্দুক নিয়ে ফাহাদ চৌহাট্টায় অবস্থান করছিলেন। আর সিটি করপোরেশনের (সিসিক) কর্মকর্তাদের দাবি, মেয়রকে হত্যার উদ্দেশ্যে বন্দুক নিয়ে তেড়ে এসেছিলেন এই যুবক।

সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু দাস মিঠু বলেন, ‘ফাহাদ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক তা সঠিক। তবে তিনি সিটি করপোরেশন কিংবা শ্রমিকদের কেউ নন। ওই স্থানে তিনি কেন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গেলেন, তা বুঝতে পারছি না। তার বিরুদ্ধে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অনুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘদিন থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ফাহাদ। সংগঠনের সভাপতি কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খানের অনুসারী হওয়ায় ভাগিয়ে নেন মহানগরের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক পদ।

মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কারের অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ নিয়ে সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় গতকাল বুধবার দুপুরে সিসিক কর্মী ও পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন ফাহাদ। সিসিকের গণসংযোগ কর্মকর্তা আবদুল আলীম শাহ দাবি করেন, ‘সংঘর্ষের একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর দিকে বন্দুক নিয়ে তেড়ে যান। পরে পুলিশ তাকে ধাওয়া দিয়ে আটক করে।’

সিলেট মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার নিশারুল আরিফ বলেন, ‘সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। শিপলু নামে একজন এসআই মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। তার চিকিৎসা এবং বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের অবরোধ তুলতেই পুলিশ ব্যস্ত সময় কাটিয়েছে। তাই তাৎক্ষণিক অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ফাহাদ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। তার উদ্দেশ্য কী ছিল জিজ্ঞাসাবাদেই জানা যাবে। অস্ত্র আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন।’

কোতোয়ালি থানার ওসি এসএম আবু ফরহাদ বলেন, ‘পুলিশ আধা ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ১৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।’ তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ফয়সল আহমদ ফাহাদ (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে সংঘর্ষের স্থানে অস্ত্র নিয়ে কী কারণে তিনি অবস্থান করছিলেন এরও কারণ খোঁজা হচ্ছে।’

সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবদুল আলিম শাহ বলেন, ‘উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে মেয়র, কাউন্সিলর ও ম্যাজিস্ট্রেটদের আলাপচারিতার একপর্যায়ে পরিবহন শ্রমিকরা আচমকা হামলা চালান। এ সময় কাউন্সিলরসহ সিসিকের অন্তত ১০-১৫ জন আহত হয়েছেন। হামলার একপর্যায়ে বন্দুক নিয়ে ফাহাদ নামে একজন মেয়রের দিকে তেড়ে আসেন। পুলিশ অবশ্য সঙ্গে সঙ্গেই তাকে আটক করেছে। আমাদের আশঙ্কা, মেয়রকে হত্যার উদ্দেশ্যেই ওই যুবক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এসেছিলেন।’ -ডেস্ক রিপোর্ট