(দিনাজপুর২৪.কম) রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে হঠাৎ একদিনের ব্যবধানে কাঁচামরিচ দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০-২৪০ টাকায়। তাছাড়া পেঁয়াজ এখনও কেজি প্রতি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে আবারো চালের দাম বেড়েছে। ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কথা বলে চালের দাম বাড়াচ্ছেন আমদানিকারকরা। স্থলবন্দরগুলোয় আমদানি করা চালের দাম এরই মধ্যে কেজিতে ১ টাকা বেড়েছে। এর সুযোগ নিচ্ছেন মিল মালিকরাও। একই হারে দাম বাড়িয়েছেন তারা। যদিও পাইকারি ও ভোক্তা পর্যায়ে দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ২-৩ টাকা পর্যন্ত। তবে, সরবরাহ বাড়ায় রাজধানীসহ সারাদেশে কমতে শুরু করেছে শীতের সবজির দাম। সবজির দাম সামনে আরও কমবে বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা। এখনও স্বাভাবিক হয়নি। পেঁয়াজের দাম এ সপ্তাহের কমার সম্ভাবনা নেই। নভেম্বর মাসের প্রথম তিন সপ্তাহে দেশি ও আমদানি করা পেঁয়াজ ৮০ ও ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও শেষ সপ্তাহে এসে তা দাঁড়ায় ১০০ টাকায়। সবশেষ খুচরা বাজারের তথ্য অনুযায়ী, কেজি প্রতি দেশি পেঁয়াজ ৯৫-১০০ টাকা ও আমদানি করা পেঁয়াজ ৮৫-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বাড্ডা, মহাখালী ও কারওয়ানবাজারসহ রাজধানীর কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজারে ১০০ গ্রাম কাঁচামরিচ ২০-২৫ টাকা এবং ২৫০ গ্রাম মরিচ ৫০-৬০ টাকার ওপর বিক্রি হতে দেখা গেছে। অথচ একদিন আগেও ব্যবসায়ীরা ২৫০ গ্রাম মরিচ ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি করেছেন। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, বাজারে কাঁচামরিচের সরবরাহ কম, তাই দাম বেড়ে গেছে। একদিন আগেও ২৫০ গ্রাম মরিচ ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি করেছি। সেই মরিচ এখন ৬০ টাকা পোয়া (২৫০ গ্রাম) বিক্রি করতে হচ্ছে। একের পর এক নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে অতিষ্ঠ ক্রেতারা। মাহস্খপ্তজ নামের এক ক্রেতা আমার সংবাদকে বলেন, এক এক করে সবকিছুতেই দাম বাড়ছে। কিন্তু কেউ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সব বোঝা এসে পড়ছে আমাদের মতো স্বল্প আয়ের মানুষের ওপর। এর আগে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়লো, এখন আবার মরিচের দাম বেড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে তো আমাদের জীবন চালানো দুরুহ হয়ে পড়বে। সবশেষ সবজির খুচরা বাজারের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিকেজি বেগুন ৫০ ধনিয়াপাতা ৮০-৯০, গাজর ৮০, শসা ৪০, আলু ২০ পেঁপে ২০-২৫, সিম ৪০-৫০, টম্যাটো ৮০-৯০, কাঁচা টম্যাটো ৪০-৫০, চিচিঙ্গা ৫৫-৬০, প্রতিপিস বাঁধাকপি ২০-২৫, প্রতিপিস স্খপ্তলকপি ২০-২৫, বরবটি ৫০-৫৫, পেঁয়াজ পাতা ৫০ ও লালশাক আঁটি প্রতি ১০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। টানা ৬ মাসেরও বেশি সময় ধরে চালের বাজারে বিরাজ করছে অস্থিরতা। প্রতিকেজি নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৭৩, মিনিকেট ৬২, বিআর-আটাশ কেজিপ্রতি ৫০-৫৫ ও স্বর্ণা-পারিজা কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪৬ টাকা।
এছাড়া সবশেষ খুচরা বাজার দর অনুযায়ী দেশি রসুন ৮০, আমদানি রসুন ১০০, চিনি ৫৫, দেশি মসুর ডাল ১০০-১২০, আমদানি করা মসুর ডাল ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারে তেমন একটা অস্থিরতা নেই। কাতল ২৫০, পাঙ্গাশ ১২০, রুই ১৮০-২৮০, সিলভারকার্প ১৩০, তেলাপিয়া ১৩০, শিঙ্গি ৪০০ ও চিংড়ি ৪৫০-৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের বাজার গত সপ্তাহের দামেই স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতিকেজি গরুর মাংস ৪৮০-৫০০, খাসির ৭০০-৭৫০ ও ব্রয়লার মুরগি ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কক মুরগি প্রতিপিস সাইজ অনুযায়ী দাম ১৫০-২২০ টাকা ।
মহাখালী বাজারের ক্রেতা জাহিদ হোসেন বলেন, সবজির দাম কিছুটা কমতির দিকে, যা ভালো খবর। কিন্তু এখনও পুরোপুরি কমেনি সবজির দাম। কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের বাজারে যে মূল্যবৃদ্ধি তা মেনে নেওয়া যায় না। কাঁচামরিচ কেজি ২০০ টাকার উপরে এবং পেঁয়াজ ১০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি অন্যায়। ধোঁকাবাজি করে সরকার ও ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের পকেট কাটছেন।
পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকা ছোঁয়ার কারণ হিসেবে ব্যাবসায়ীরা বলছেন, নতুন পেঁয়াজ এখনও বাজারে আসেনি। এর সঙ্গে আমদানিগত কিছু সমস্যা হওয়ায় বাজারে দাম বেড়ে গেছে। চিন্তার কোনো কারণ নেই। আশা করা যায় নতুন মাসের প্রথম সপ্তাহ শেষেই দাম কমা শুরু হবে পেঁয়াজের। -ডেস্ক