মো. জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (দিনাজপুর২৪.কম) নীলফামারীর সৈয়দপুর আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ তৌহফা বেগমের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা চার্জশীট গৃহীত হওয়ায় মামলার প্রধান আসামী নীলফামারী-৪ আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ ও বর্তমানে নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র আমজাদ হোসেন সরকারকে পৌর মেয়র পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ২৯ জুলাই বুধবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (পৌর-১) মো. খলিলুর রহমান সাক্ষরিত এক পত্রে ওই আদেশ জারী করা হয়। ওই আদেশটি  ফ্যাক্স যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে পৌঁছলে বৃহস্পতিবার বিকেলে সেটি প্রকাশ পায়। সাময়িক বরখাস্তের পত্রে বলা হয়, যেহেতু ২০০৯ সালের ৩ নভেম্বর সৈয়দপুর থানায় মামলা নম্বর-১ দন্ডবিধি ৩০৬, জিআর ১৩০/৯ (এস) ধারায় দাখিলীয় অভিযোগ বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক গৃহিত হয়েছে, তাঁর দ্বারা পৌরসভার মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ পৌরসভা তথা জনস্বার্থের পরিপন্থী এবং প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমিচীন নয় মর্মে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিয়মান হয়েছে। সেহেতু সরকার তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ২০০৯ এর ৩১ (১) ধারার বিধান অনুযায়ী সাময়িকভাবে বরখাস্তের ওই আদেশটি জারি করে জনস্বার্থে অবিলম্বে কার্যকরের কথা বলা হয়েছে।
নীলফামারীর ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক (অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব) মো. মুজিবুর রহমান বৃহস্পতিবার বিকেলে পত্র প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে বলেন, সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র আমজাদ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় ফ্যাক্স যোগে ওই পত্র নীলফামারী  এসে পৌঁছেছে।
ঘটনার বিবরনে জানা গেছে, নীলফামারীর সৈয়দপুর আর্দশ বালিকা বিদ্যালয় ও মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ তৌহফা বেগমের আতœহত্যার ঘটনায় ২০০৯ সালের ২ নভেম্বর স্বামী আখতার হোসেন বাদি হয়ে সৈয়দপুর থানার ৩০৬ ধারায় এই মামলা দায়ের করেন ( মামলা নম্বর ১ )।
বিএনপি জামায়াত জোট সরকার আমলের সে সময় নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা আমজাদ হোসেন সরকার ভজে ক্ষমতার দাপটে কলেজের ২০ লাখ টাকা আত্মসাত করেন। কলেজের অধ্যক্ষ তৌহফা বেগম এই টাকার জন্য ধর্ণা দিয়েও শেষ পর্যন্ত বিফল হন। ওই বছরের ৩০ অক্টোবর ভোরে নিজবাড়িতে আতœহত্যার আগে তার স্বামী আখতার হোসেন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কাছে  লিখে যাওয়া পৃথক দুটি চিঠি পুলিশ উদ্ধার করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২০ লাখ টাকা আতœসাতের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তিনি যে আতœহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন তা সভাপতির কাছে লিখা চিঠিতে ফুটে উঠে। ৩০ অক্টোবর ভোরে এই অধ্যক্ষ সৈয়দপুর শহরের নয়াবাজার নিজ বাসভবনের শোয়ার ঘরে সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আতœহত্যা করেন। পুলিশ তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। ঘটনাটি নিয়ে সৈয়দপুরে রিতিমত তোলপাড় সৃষ্টি হয়। অভিযোগ উঠে একটি প্রভাবশালী মহল লাশের ময়না ছাড়াই দাফনের শত চেষ্টা করে।  কিন্তু জেলা প্রশাসনের পক্ষে অনুমতি না মেলায় লাশের ময়না তদন্ত করা হয়।
সৈয়দপুর থানার ওসি ইসমাইল হোসেন জানান অধ্যক্ষ তৌহফা বেগম যে আত্মহত্যা করেছে তা প্রমানিত। ঘরের বন্ধ দরজা ভেঙ্গে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। সেখানে দুটি চিঠি পাওয়া যায়। একটি তিনি তার স্বামী কে অপর টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে উদ্যেশ্য করে লিখা। যা তদন্তের কারনে জব্দ করে রাখা হয়।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি  কাছে লিখা চিঠিতে  অধ্যক্ষ তৌহফা বেগম  কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি (নীলফামারী-৪ আসনের বিএনপি সাবেক সংসদ সদস্য ও সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক) আমজাদ হোসেন সরকার ভজে, তার ছোট ভাই সৈয়দপুর যুবদলের সাবেক সভাপতি রশিদুল হক সরকার ও কলেজের অফিস সহকারী ইসমাইল হোসেন কে দায়ি করেন।
পাশাপাশি তিনি স্বামীর কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন আমি আজ ষড়যন্ত্রে শিকার । ওরা আমাকে বেঁচে থাকতে দিলোনা। আমাকে ক্ষমা করে দিও। তুমি তোমার ২ ছেলে ১ ছেলেকে আগলে রেখে মানুষের মতো মানুষ করবে।
নীলফামারীর জজ কোটের পিপি এ্যাডঃ অক্ষয় কুমার রায় বলেন ওই মামলাটির প্রথমে পুলিশ আসামীদের বিরুদ্ধেঅভিযুক্ত করে চার্জশীট দেয়। কিন্তু আসামীরা উচ্চ আদালতে মামলাটি পুনরায় তদন্ত চেয়ে রিট করলে মামলাটি পুনরায় তদন্ত করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ দ্বিতীয় দফায় চলতি বছরের ২৮ জুন নীলফামারী জজ আদালতে আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জশীট প্রদান করেন। চার্জশীটটি গৃহিত হওয়ায় ওই মামলায় সৈয়দপুর পৌর মেয়র আমজাদ হোসেন সরকার ভজে কে মন্ত্রনায়ল পৌর মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন।