(দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরে কলেজিয়েট গালস স্কুল এন্ড কলেজ বিল্ডিংটি “মোহাম্মদ আলীর চৌধুরী” নামে নাম করণের জন্য দাবী তুলেছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং দিনাজপুরবাসী। এ বিষয়ে সোস্যাল মিডিয়ায়ও তিনি ভাইরাল হয়েছেন। কৃত্তিমান এর মৃত্যু নেই, এই প্রবাদের সূত্র ধরে বাস্তবতায় এগিয়ে, মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর সাফল্য কলেজিয়েট গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ আজ প্রতিষ্ঠিত একটি বিদ্যাপিঠ। ১৯৮০ দশকের শেষ দিক থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত মোহাম্মদ আলী চৌধুরী কলেজিয়েট গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের সদস্য পদে অধিষ্ঠিত থেকে অত্র প্রতিষ্ঠানটির জন্য যে অবদান রেখেছেন তা আজ দৃশ্যমান। তিনি একে একে গড়ে দিয়েছেন শিক্ষক কমন রুম, বিজ্ঞান ল্যাবরেটরী। আরডি আরএস এর মাধ্যমে এবং কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া (কচি)’র সহায়তায় আর.ডি.আর.এস ঠাকুরগাও থেকে একটি টিন সেট বিল্ডিং শিক্ষা মন্ত্রালয়ের সচিবের সঙ্গে তার দপ্তরে কথা বলে সেই মোতাবেক দরখাস্ত দাখিলের মাধ্যমে দোতলা স্কুল বিল্ডিং জেলা পরিষদ সচিব বরাবর দরখাস্ত দিয়ে ছাত্রীদের শৌচাগার নির্মান সম্পূর্ণ করা হয়। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বরাবর ২৫/০৯/২০০৭ সালে তিনি দরখাস্ত দাখিলের মাধ্যমে বর্তমানে অত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চতুর্থ তলা কলেজ ভবন নির্মিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শ্রেণী কক্ষে বৈদুতিক পাখা ও বাল্ব সংযোজন, চতুর্থ শ্রেনির কর্মচারীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম পুরুষদের সাফারি ও মহিলাদের শাড়ি পান তাঁরা।
উল্লেখ্য, মোহাম্মদ আলী চৌধুরী যখন গর্ভনিং বর্ডির সদস্য পদে দায়িত্ব ভার গ্রহণ করেন তখন কলেজিয়েট গার্লস স্কুলের সার্বিক অবস্থা নাজুক এবং শোচনীয় ছিলো। মূলত এসময় অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রীবৃন্দের লেখাপড়া করার জন্য প্রয়োজনীয় শ্রেনী কক্ষের অভাব ছিল। গৃষ্মকালে প্রচন্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ক্লাস করতে পারতেন না শিক্ষার্থীরা। দ্বিতীয়ত শিক্ষকবৃন্দের বসার জন্য কমন রুম ছিল না। একটি কক্ষে প্রধান শিক্ষয়িত্রী, পুরুষ শিক্ষক, অফিস সহকারী এবং আয়া পিয়নরা বসতো। অপর দিকে একটি শ্রেনীকক্ষের এক পার্শে শিক্ষার্থীবৃন্দ বসতেন। অপরদিকে ছাত্রীবৃন্দ সাইন্স ল্যাবরেটরীতে ক্লাস করতো। এ বিষয়গুলি অবগত হয়েছেন এবং সার্বিক উন্নয়নের জন্য তিনি কার্যক্রম গ্রহণ করেন। এসময় এডিসি (রাজস্ব) একেএম আমিনুল হকের সভাপতিত্বে এক সভায় জিবি সদস্য মোহাম্মদ আলী চোধুরীর প্রস্তাবে কলেজিয়েট গার্লস স্কুলে কলেজ সংযোজন প্রস্তাব সর্ব সম্মতিক্রমে পাশ হয়। তবে সভায় মোহাম্মদ আলী চৌধুরীকে কলেজ বিল্ডিং নির্মানের সকল প্রকার দায়িত্ব প্রদান করা হয়। মোহাম্মদ আলী চৌধুরী কলেজিয়েটে কলেজ শাখার জন্য পৃথক কলেজ বিল্ডিং নির্মানের সকল দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এমনতাবস্থায় আত্মত্যাগী ব্যক্তিত্ব কর্ম সাধক মোহাম্মদ আলী চৌধুরী স্বেচ্ছায় তার দায়িত্ব পালনের যাত্রা অব্যাহত রাখেন।
প্রসঙ্গক্রমে জানা গেছে যে, কলেজিয়েট গার্লস স্কুলের জমি অধিগ্রহণ করার কারণে জমির মালিক সাবেক এসডিও এর নাজির আব্দুস সাত্তার বনাম কলেজিয়েট গার্লস হাইস্কুল কর্তৃপক্ষের মধ্যে জমির মূল্য নির্ধারণ করনের লক্ষ্যে দিনাজপুর জেলা মুনসেফ আদালতে এবং পরে জেলা সাবজজ কোর্টের মামলায় কলেজিয়েট গার্লস হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ হেরে যায় এবং বাদী আব্দুস সাত্তার অর্থ ডিগ্রি প্রাপ্ত হন। মামলাটি চলে প্রায় ৭/৮ বছর। এমতাবস্থায় জেলা প্রশাসক এবং জিবি সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন মোহাম্মদ আলী চৌধুরীকে দায়ীত্বদেন মামলার সকল ঝামেলা মিটিয়ে জমির মালিক আব্দুস সাত্তারকে তার প্রাপ্য অর্থ তাকে বুঝিয়ে দিতে। সেই মোতাবেক মোহাম্মদ আলী চৌধুরী প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষয়িত্রী গুল বেগম, সদস্য হাফিজুল্লাহ এবং শিক্ষক প্রতিনিধি মরহুম মোঃ মফিজ উদ্দীনকে নিয়ে মিশনরোডে আব্দুস সাত্তারের বাড়ীতে যান এবং কিস্তি মোতাবেক তার দেনার অর্থ পরিশোধ করা হবে মর্মে তাকে জানিয়ে দেয়া হয়। এমতাবস্থায় মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর গৃহিত কার্যক্রমের ভিত্তিতে কলেজিয়েট গার্লস স্কুল জমি অধিগ্রহণ মামলা নিষ্কৃতি লাভ করে। সকল ঝামেলা অন্তে সে সময়ের দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানান।
প্রসঙ্গক্রমে ২০১৩ সালে দিনাজপুর কলেজিয়েট গার্লস হাই স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গনে সাবেক দিনাজপুর সুরেন্দ্রনাথ কলেজের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দের এক পূর্নমিলনী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ঐ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী ভাষণে কলেজিয়েট গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষয়ত্রী এবং পরবর্তীতে প্রাক্তন অধ্যক্ষ গুল বেগম প্রথমে তার বক্তব্যে বলেন, আজকে আপনারা এই কলেজিয়েটের যে উন্নয়ন এবং যে অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করছেন এর অবদান সাবেক গর্ভঃবডী সদস্য মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়, সততা, নিষ্ঠা এবং আপসহীন কর্মকান্ডের ভিত্তিতে অত্র কলেজিয়েট গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ আজ দিনাজপুর জেলার একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আত্ম প্রকাশ করেছে। ইমদাদুল হক নামে প্রাক্তন জিবি সদস্য জানান, ১৯৮০ এর দশক থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত মোহাম্মদ আলী চৌধুরী অত্র কলেজিয়েট গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জিবি সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠানের যতগুলি নিয়োগ বোর্ড এর সদস্য হিসেবে উপস্থিত থেকে যতগুলো স্কুল শিক্ষক, কলেজ শিক্ষক, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছেন তারা সকলেই সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে হয়েছেন। এর মধ্যে ২০০৬ সালে অধ্যক্ষ পদে মোহাম্মদ হাবিবুল ইসলাম এর নিয়োগ জলন্ত প্রমাণ। এর সুবাদে কলেজিয়েট গার্লস স্কুল এন্ড কলেজে নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষকবৃন্দ মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সেই সাথে দিনাজপুরবাসী মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর প্রতি তার সততার জন্য আন্তরিক সাধুবাদ জানিয়েছেন। আরো উল্লেখ্য যে, ১৯৮০এর দশক থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত মোহাম্মদ আলী চৌধুরী কলেজিয়েট গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। তার উপর অর্পিত দ্বায়িত্ব পালনকালে তিনি কলেজিয়েট গার্লস স্কুল এন্ড কলেজে কোন রকম দুর্নীতি হতে দেননি বা তার বিরুদ্ধে কেউ কোন দিন অভিযোগ উপস্থাপন করেননি। এর সুবাদে শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও সর্বস্তরের মানুষ মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর প্রতি সাধুবাদ জ্ঞাপন করেছেন। প্রসঙ্গক্রমে সমাজসেবা, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, ব্রিজ, কালভাট, বাঁধ, রাস্তা-ঘাট, সেই সাথে ফুলবাড়ী সরকারি কলেজে অনার্স কোর্স বাস্তবায়নে তার জীবনে একটি উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে। এজন্য সর্বস্তরের জনগন মোহাম্মদ আলী চৌধুরীকে লৌহমানব এবং ব্রিজ মাষ্টার উপাধিতে ভূষিত করে একাধিক বার সম্বর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।
পরিশেষে কলেজিয়েট স্কুল ও কলেজের নির্মিত চতুর্থ তলা ভবনটির নাম করন “মোহাম্মদ আলী চৌধুরী বিল্ডিং” করার দাবী জানান শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও দিনাজপুরের সর্বস্তরের জনগণ। কলেজিয়েট গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ নেক নজরে দেখবেন বলে আশা ব্যক্ত করেছেন তারা। মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর উদ্যেশ্যে কবিগুরুর ভাষায়। “জীবন উৎসব শেষে দুই পায়ে ঠেলে, মৃতপাত্রের মতো যাও ফেলে। তোমার কীর্তির চেয়ে তুমি যে মহৎ, তাই তব জীবনের রথ। পশ্চার্তে ফেলিয়া যায় কীর্তিতে তোমার বারম্বার। তাই চিহ্ন তব পড়ে আছে, তুমি হেতা নাই”।