(দিনাজপুর২৪.কম) গুলশানে সন্ত্রাসী হামলার সূত্রের খোঁজে বাংলাদেশ র‌্যাবের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল কলকাতায় এসে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সিআইডির গোয়েন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। মঙ্গলবার তারা র‌্যাবের গোয়েন্দাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। জানা গেছে, একজন এসপি পদমর্যাদার অফিসারসহ তিন সদস্যের র‌্যাবের প্রতিনিধিরা কিছুদিন আগে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমে ধৃত আইএস এজেন্ট আবু আল মুসাকে জেরা করে জামাতুল মুজাহিদিনের মহম্মদ সুলেমান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা করবেন। র‌্যাব যাতে মুসাকে জেরা করতে পারে সেজন্য মঙ্গলবার এনআইএ মুসাকে তাদের হেফাজতে নেয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানিয়েছে। তবে এদিন মুসা আদালতে বিচারকের কাছে প্রশ্ন রাখেন যে, কেন বাংলাদেশের র‌্যাব তাকে জেরা করবে? র‌্যাবের জেরা করা নিয়ে মুসা যে বেশ বিচলিত সেদিন তা আদালতে তার কান্নায় ভেঙ্গে পড়া থেকেই স্পষ্ট হয়েছে। মুসা ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সিআইডি ও এনআইএ’র গোয়েন্দাদের জানিয়েছে, সুলেমানই তাকে নিয়োগ করেছিল। সে যে সুলেমানের সঙ্গে একাধিকবার মিলিত হয়েছে তাও জানা গেছে।  মুসার তদন্তে নিযুক্ত সিআইডির অফিসারদের সঙ্গে র‌্যাবের প্রতিনিধিরা মুসার জেএমবি যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। ইতিমধ্যে সিআইডি মুসাকে জেরা করে যে সব তথ্য জানতে পেরেছেন তাও র‌্যাবের প্রতিনিধিরা জানতে চেয়েছেন। এনআইএ-র সঙ্গে মঙ্গলবারের বৈঠকে গুলশান হামলা সহ অন্যান্য হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এনআইএ-র পক্ষ থেকে তাদের হাতে থাকা অনেক তথ্যই র‌্যাবকে জানানো হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সুত্রে জানা গেছে। জেএমবির সঙ্গে মুসার যোগাযোগের কথা জানার পরেই র‌্যাবের প্রতিনিধিরা কলকাতায় আসার সিদ্ধান্ত নেয়। মুসাকে জেএমবির সুলেমান প্রথমে জিহাদি জন হিসেবে নিজের পরিচয় দিয়েছিল। তবে গত বছরের মার্চে মুসার ভাইয়ের বিয়েতে অতিথি হয়ে আসা সুলেমান নিজের আসল পরিচয় জানিয়েছিল মুসাকে। সুলেমান পরবর্তী সময়ে মুসাকে নানা নির্দেশও দিয়েছে। সুলেমানই মুসাকে ভারতে আইএসের  এজেন্ট হিসেবে কাজ করার জন্য উৎসাহিত করেছিল বলেও জানা গেছে। তবে সুলেমান মুসাকে জানিয়েছিল, জেএমবিতে আইএসকে সমর্থন করা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। সুলেমান যে ভারতে বসেই জেএমবির তৎপরতা বজায় রেখেছিল তাও মুসা তদন্তকারীদের জানিয়েছে। সুলেমান বর্তমানে ভারতেই লুকিয়ে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতীয় গোয়েন্দারা সুলেমানের খোঁজে বেশ কয়েক জায়গায় হানা দিয়েও তাকে ধরতে সফল হয়নি। এনআইএ-র গোয়েন্দারা সুলেমান সম্পর্কে র‌্যাবের কাছে থাকা তথ্য জানতে চেয়েছে। -ডেস্ক