(দিনাজপুর২৪.কম) ‘এতদ্বারা ইনস্টিটিউটের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, অফিস চলাকালীন সময়ে মোবাইল/ল্যান্ডফোন বন্ধ রাখা এবং মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য পুরুষ টাখনুর ওপর ও মহিলা হিজাবসহ টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান করা আবশ্যক এবং পর্দা মানিয়া চলার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হলো।’

এটি স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীন রাজধানীর মহাখালীর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মুহাম্মদ আব্দুর রহিম স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি। গতকাল বুধবার আদেশটি জারি হয়।

সরকারি এ কর্মকর্তা নিজস্ব ক্ষমতাবলে অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে পুরুষ-মহিলা উভয়কে টাখনুর ওপর ও নিচে পোশাক পরিধান এবং পর্দা মেনে চলার নির্দেশনা সম্বলিত বিজ্ঞপ্তি জারি করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার এ বিজ্ঞপ্তটি নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিনি পর্দা মেনে চলার ব্যাপারে এমন নির্দেশনা দিতে পারেন কি-না বা প্রতিষ্ঠান প্রধান হলেও তিনি সরকারের অনুমতি ছাড়া এমন বিজ্ঞপ্তি প্রদান করতে পারেন কি-না, তা নিয়ে সবাই প্রশ্ন তুলেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ডা. মুহাম্মদ আব্দুর রহিম বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানের মুসলিম কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেন ইসলামের নির্দেশনা মেনে চলেন, পর্দার মধ্যে থাকেন, তারা যেন কবিরা গুনাহ না করেন, সেজন্যই প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে এ বিজ্ঞপ্তটি দেয়া হয়েছে। তবে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা তাদের পছন্দমাফিক রুচিশীল পোশাক পরিধান করতে পারবেন।’

পরিচালক হতাশার সুরে আরও বলেন, ‘ভালো একটি নির্দেশনা ভাইরাল হয় কিন্তু তিনি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হিসেবে যোগদানের পর প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে যে সকল ভালো ভালো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তা ভাইরাল হয় না।’
‘পরিচালক হিসেবে যোগদানের পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কে কে তিন বছরের অতিরিক্ত সময় এ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন, তাদের কার কাছে কী কী অর্থসম্পদ রয়েছে, কে কতটুকু জাকাত দিচ্ছে, সকাল বেলা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হাজিরা খাতায় উপস্থিতি নিশ্চিত করা, প্রতিটি কক্ষে জাতীয় সঙ্গীতের আয়োজনসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সেসব ভাইরাল হয় না। পর্দা মেনে চলার ব্যাপারটি ভাইরাল ও সমালোচনা হয়, যা দুঃখজনক’, যোগ করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ডা. মুহাম্মদ আব্দুর রহিম। -ডেস্ক