-ফাইল ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম) পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে শর্ত সাপেক্ষে আজ রবিবার থেকে খুলবে রাজধানীসহ সারাদেশের দোকানপাট-বিপণিবিতান, হাটবাজার। তবে করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণ ঝুঁকির আশঙ্কায় রাজধানীসহ দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ শপিংমল-সুপারমার্কেট না খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি।

ইতিমধ্যে রাজধানীর বসুন্ধরা শপিংমল, যমুনা ফিউচার পার্ক, নিউমার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনী চক, বায়তুল মোকাররম, নূর ম্যানশন, ইস্টার্ন মল্লিকা, চিশতিয়া, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, সব জুয়েলারি দোকান, মিরপুর ১ নম্বর থেকে মিরপুর ১১ নম্বর পর্যন্ত মার্কেটগুলো, মোতালিব প্লাজা, গুলিস্তান ও ফুলবাড়িয়া এলাকার পাইকারি মার্কেট, বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স, এনেক্সকো টাওয়ার, মহানগর কমপ্লেক্স, ঢাকা ট্রেড সেন্টার, ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট, সুন্দরবন সুপার মার্কেট, জাকির প্লাজা, নগর প্লাজা, সিটি প্লাজা, গুলিস্তান পুরান বাজার, বঙ্গ ইসলামী সুপার মার্কেট এবং মৌচাক এলাকার মৌচাক ও আনারকলি মার্কেটসহ ৩৮টি নামীদামি মার্কেট খুলবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে মার্কেট কর্তৃপক্ষ ও দোকান মালিকেরা। এছাড়া চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী, রংপুরসহ প্রায় সব নগর-মহানগরীর শপিংমল ও বড়ো মার্কেটগুলো বন্ধ থাকবে। বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ঈদের আগে শপিংমল খুলে দিলে ভিড় বাড়বে। আর এই ভিড় থেকেই বিপুলসংখ্যক মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক জরিপে বলা হয়েছে, দেশের ৯৩ শতাংশ মানুষ চায় না শপিংমল খোলা হোক। শপিংমল খুলে দিলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে বলে তারা মনে করে।

এদিকে গতকাল শনিবার রাজধানীর কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সরকারি নির্দেশনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খোলার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন ব্যবসায়ীরা। যারা দোকান খুলবেন সেই সব ব্যবসায়ী বলছেন, দীর্ঘদিন দোকান বন্ধ থাকায় তারা বড়ো রকমের সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ঈদ হলো সারা বছরের বেচাবিক্রির মূল মৌসুম। বছরের অন্য সময়ে বিক্রিবাট্টা কমে যায়। এই ঈদুল ফিতরেই যা বিক্রি হয়। ঈদকেন্দ্রিক এই ব্যবসা দিয়ে সারা বছরের লোকসান পুষিয়ে নেওয়া হয়। ফলে ঝুঁকি নিয়েই দোকান ও বিপণিবিতান খোলার উদ্যোগ নিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ যাতে না বাড়ে, সেজন্য সারাদেশে প্রায় ৯৫ শতাংশ শপিংমল বন্ধ রাখা হচ্ছে। এছাড়া ঝুঁকি এড়াতে অন্যান্য দোকানপাটও বন্ধ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যারা একেবারেই চলতে পারছেন না, সেই সব দোকানদারের দোকান খোলা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর সংখ্যা খুব একটা বেশি হবে না। যারা দোকান খুলছেন, তাদের অধিকাংশই ছোটোখাটো দোকান ও বিপণিবিতান। শপিংমল থেকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় সর্বপ্রথম বসুন্ধরা সিটি শপিংমল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। এরপর যমুনা ফিউচার পার্ক, নিউমার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনি চকসহ গুরুত্বপূর্ণ ১১টি মার্কেট বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ। পরে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য মার্কেট কর্তৃপক্ষও মার্কেট বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়।

ঢাকায় শপিং করতে লাগবে প্রমাণপত্র

এদিকে দোকান খুললেও তা হতে হবে সীমিত সময়ের জন্য এবং কঠোর বিধিবিধান মেনে চলতে হবে। সরকারের নির্দেশনা ও পুলিশের পৃথক নির্দেশ জারি করা হয়েছে। সরকারের এক নির্দেশনায় বলা হয়, রমজান ও ঈদুল ফিতর সামনে রেখে সীমিত পরিসরে ব্যবসা-বাণিজ্য চালু রাখার স্বার্থে দোকানপাট খোলা রাখা যাবে। তবে ক্রয়-বিক্রয়কালে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্য স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করতে হবে। ডিএমপির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকার ঘোষিত নির্ধারিত সময় সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শপিংমল ও দোকান খোলা রাখা যাবে। তবে ফুটপাতে বা প্রকাশ্য স্থানে হকার, ফেরিওয়ালা ও অস্থায়ী দোকানপাট বসতে দেওয়া যাবে না। ক্রেতারা তাদের নিজ নিজ এলাকার দুই কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত শপিংমলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেনাকাটা করতে পারবে। এক এলাকার ক্রেতা অন্য এলাকার শপিংমলে কেনাকাটা বা যাতায়াত করতে পারবে না। বসবাসের এলাকা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ক্রেতাকে পরিচয়পত্র বা প্রমাণপত্র (এনআইডি, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা বিদ্যুত্-গ্যাস-পানির বিলের মূল কপি) সঙ্গে রাখতে হবে এবং শপিংমলে প্রবেশের সময় তা দেখাতে হবে।

নির্দেশনায় আরো বলা হয়, মুখে মাস্ক ছাড়া কোনো ক্রেতা দোকানে প্রবেশ করতে পারবে না। বিক্রেতা ও দোকান কর্মচারীদের মাস্ক ও হ্যান্ডগ্লাভস পরতে হবে। প্রতিটি শপিংমলে প্রবেশ, বের হওয়া এবং কেনাকাটার সময় ক্রেতা-বিক্রেতাকে কমপক্ষে এক মিটার (প্রায় ৪০ ইঞ্চি) দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে দোকানে যতজন ক্রেতা অবস্থান করতে পারে, তার বেশি ক্রেতাকে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য প্রত্যেক দোকানের সামনে দূরত্ব মেপে মার্কিং করতে হবে। শপিংমলগুলোতে বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থদের (হূদেরাগ, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য) যাতায়াতে নিরুত্সাহিত করতে হবে। কেনাকাটা শেষে মার্কেটে অযথা জটলা বা ভিড় করা যাবে না। এছাড়া পার্কিং এলাকায় চালকেরা যেন একজোট হয়ে আড্ডা না দেন এবং যার যার গাড়িতে অবস্থান করেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। শপিংমলগুলোতে যাতায়াতের জন্য সীমিত পরিসরে সাধারণ রিকশা ও অটোরিকশা চালু থাকবে। তবে অটোরিকশায় দুই জনের বেশি যাত্রী পরিবহনে নিরুত্সাহিত করা হচ্ছে। সূত্র : ইত্তেফাক