প্রতীকী ছবি

(দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) দেশে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সামনে থেকে যুদ্ধ করা চিকিৎসকদের অনেকেই রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আবার কেউ করোনার উপসর্গ নিয়ে।

চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটিসের (এফডিএসআর) হিসাব অনুযায়ী, করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়ে ১৭ চিকিৎসক মারা গেছেন। পাঁচ চিকিৎসক মারা গেছেন করোনার উপসর্গ নিয়ে। এ ছাড়া ভাইরাসটিতে এ যাবৎকাল পর্যন্ত আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৬ জন চিকিৎসক।

এফডিএসআর’র যুগ্ম সম্পাদক ডা. রাহাত আনোয়ার চৌধুরী গণমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমে বলেন, ‘যেসব চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগই রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন। যারা মারা গিয়েছেন, তাদের বেশিরভাগের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা।’

হাসপাতালে কাজ করতে গিয়ে এসব চিকিৎসক আক্রান্ত হচ্ছেন মন্তব্য করে নজরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘চিকিৎসকরা তো এমনিতেই সচেতন। তারা তো কোনো গাফিলতি করছেন না। কাজের মধ্যেই হয়তো দুর্ঘটনাবশত কোনো কারণে তারা সংক্রমিত হয়েছেন। কোনো সময় এমনো হয়ে থাকতে পারে যে, তাড়াহুড়োর কারণে তারা পিপিই ব্যবহারের সুযোগই পায়নি।’

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন যারা-
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিন— বাংলাদেশে তিনিই প্রথম চিকিৎসক, যিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। গত ১৫ এপ্রিল রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

গত ৩ মে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. কর্নেল (অব.) মো. মনিরুজ্জামান।
গত ১৩ মে সিএমএইচে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অধ্যাপক ডা. আবুল মোকারিম।
১৮ মে মারা যান ডা. আজিজুর রহমান রাজু।
২২ মে মারা যান মৌলভীবাজারের প্রাক্তন সিভিল সার্জন ডা. এমএ মতিন, একই দিনে মৃত্যু হয় ডা. কাজী দিলরুবা খানমের।
২৬ মে মৃত্যু হয় সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আব্দুর রহমানের, একই দিনে মারা যান গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. আমিনা খান।
২৭ মে মারা যান অধ্যাপক ডা. মোশাররফ হোসেন।
৩০ মে মারা যান ডা. সাইদুর রহমান।
গত ১ জুন মারা যান যক্ষ্মারোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ওয়াহিদুজ্জামান আকন্দ বাবলু।
২ জুন মৃত্যু হয় প্রখ্যাত ইউরোলজিস্ট ডা. মঞ্জুর রশীদ চৌধুরীর।

৩জুন মারা যান চট্টগ্রামের মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক (মেডিসিন) ডা. এহসানুল করিম। একই দিনে মারা যান ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মহিউদ্দীন ও ডিজি হেলথের অবসরপ্রাপ্ত ইভালুয়াটার অফিসার ডা. একেএম ওয়াহিদুল হক।

আজ বৃহস্পতিবার মৃত্যু হয় ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মুহিদুল হাসান।

করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হলো যে ৫ জনের-
অধ্যাপক ডা. মাহবুবুল আলম, অধ্যাপক (অব.) আনিসুর রহমান, ডা. সারওয়ার ইবনে আজিজ, ডা. জাফর রুমি ও ডা. তাজউদ্দিন।

উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৫৭ হাজার ৫৬৩ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। মারা গেছেন ৭৮১ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ১২ হাজার ১৬১ জন।

সূত্র: আ.সময়