সাভারে অবস্থিত ঢাকা চামড়া শিল্প নগরী-ছবি সংগ্রহীত

(দিনাজপুর২৪.কম) ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র কয়েকটি দিন। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের কারণে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিস্থিতিতে এই ধর্মীয় উৎসব পালিত হবে। ফলে গত কয়েক বছর লোকসানে থাকা দেশীয় চামড়া ব্যবসায়ীদের আর্থিক সংকট আরো বেড়েছে। এতে কাঁচা চামড়া সংগ্রহের সবচেয়ে বড় মৌসুম ঈদে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কতটা তাঁরা সংগ্রহ করতে পারবেন তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা করোনায় সৃষ্ট মন্দা পরিস্থিতির মধ্যেও টিকে থাকতে সরকারের কাছে অতি দ্রুত আর্থিক ও নীতি সহায়তার দাবি করেছেন। চামড়া ব্যবসা গতিশীল রাখতে তাঁরা সাভার চামড়া শিল্প নগরীর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করারও তাগাদা দিয়েছেন।

দেশের বেশির ভাগ ট্যানারি নিয়ে গড়ে উঠেছে সাভার চামড়া শিল্প নগরী। প্রতিবছর কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার ৯০ শতাংশই এসব ট্যানারিতে সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া থেকে পাওয়া কঠিন বর্জ্য সংরক্ষণ ও শোধনে এখানকার ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণের কাজ এখনো চলছে। এ ছাড়া এখানকার কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) ধারণক্ষমতা ২৫ হাজার কিউবিক ঘন লিটার হলেও গত বছর ঈদুল আজহায় তা বেড়ে প্রায় ৪৫ হাজার কিউবিক ঘন লিটার বর্জ্য হয়। এবারেও বর্জ্যের পরিমাণ ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি হবে বলেই ধারণা করা হয়েছে। এতে শিল্পনগরীর পরিবেশ নষ্ট হতে পারে। তবে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আসন্ন ঈদে সব সমস্যার সমাধান করে সাভার চামড়া শিল্প নগরীতে সুষ্ঠুভাবে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদবলেন, আর্থিক সংকটে থাকা ট্যানারির মালিকদের কাঁচা চামড়া কিনতে এবার চাহিদা মতো ঋণ দেওয়া হয়নি। আর্থিক সংকটে ঈদে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করা সম্ভব হবে না। বর্তমানে চামড়াশিল্পের ভয়াবহ লোকসান চলছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে এবার ঈদের আগেই জরুরি ভিত্তিতে চামড়াশিল্পের সহায়ক নীতি এবং আর্থিক সহায়তা এখন সময়ের দাবি।

একই ধরনের মত দিয়েছেন বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, চামড়া কিনলেই হবে না তা সংগ্রহ করে সুন্দরভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। সাভার চামড়া শিল্প নগরীর সিইটিপিজনিত সমস্যা এবং ডাম্পিং ইয়ার্ডের কাজ শেষ করা না হলে কাঁচা চামড়ার বর্জ্যে সাভার শিল্পনগরী দূষিত হয়ে যাবে। ট্যানারিতে পরিবেশবান্ধব পরিস্থিতি বজায় না থাকলে বাংলাদেশের চামড়ার আন্তর্জাতিক বাজার হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া সুষ্ঠুভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণসংক্রান্ত সব বিষয় নিয়ে শিল্প, বাণিজ্য এবং আর্থিক বিভাগের সচিব চামড়া খাতের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে গত ও চলতি মাসে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি মুনতাকিম আরশাফ বলেন, চামড়া ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার দেব, দিচ্ছি, হবে, হচ্ছে—এ ধরনের কোনো আশ্বাস দিলে চামড়া খাত এবারে শেষ হয়ে যাবে। সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

সাভারে অবস্থিত ঢাকা চামড়া শিল্প নগরীর প্রকল্প পরিচালক জিতেন্দ্রনাথ পাল  বলেন, ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবেন সরকার সহযোগিতা করবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে কোরবানির পশুর দাম নির্ধারণ করবে এবং তাদের নির্ধারিত দামে বেচাকেনা হচ্ছে কি না তা নজরদারি করবে। অন্যদিকে শিল্প মন্ত্রণালয় কোরবানির পশুর চামড়া সম্পূর্ণভাবে সংগ্রহ করে সংরক্ষণে সাভার শিল্পনগরী প্রস্তুত রাখবে। সরকারের সব প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের চেষ্টা করছে।

শিল্পনগরীতে সব কাজ ঈদুল আজহার আগে শেষ করা সম্ভব হবে কি না, এমন প্রশ্নে সাভারে অবস্থিত ঢাকা চামড়া শিল্প নগরীর প্রকল্প পরিচালক জিতেন্দ্রনাথ পাল স্বীকার করেন যে সংগৃহীত কোরবানির পশুর চামড়ার কঠিন বর্জ্য সংরক্ষণে শিল্পনগরীতে তিনটি ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণের কথা থাকলেও তা এখনো শেষ হয়নি।

শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সাভার চামড়া শিল্প নগরীতে প্লটের সংখ্যা ২০৫টি, ট্যানারির সংখ্যা ১৫৫টি। পরিবেশগত ছাড়পত্র নিয়ে এসব ট্যানারি উৎপাদনে রয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, চামড়া বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য তৈরি পোশাক শিল্পের পরেই জনসম্পৃক্ত খাত। এই খাতের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করতে পারলে রপ্তানি আয় অনেক বেড়ে যাবে। এই খাতে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে। এবারে করোনার কারণে চামড়া ব্যবসায়ীরা বিপাকে আছেন।

-সূত্র : কা. কন্ঠ