(দিনাজপুর২৪.কম) করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য আইসিইউ ভেন্টিলেটরের চেয়ে হাইফ্লু নজেল কেনোলা বেশি কার্যকর বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। রোগীর শরীরে অধিক পরিমাণ অক্সিজেন প্রবাহের জন্য এটি বেশি কার্যকর বলে জানিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসরা জানিয়েছেন, সাধারণ লাইন দিয়ে যেখানে রোগীদের ১৫ লিটার অক্সিজেন সরবরাহ করা যায়, সেখানে হাইফ্লু নজেল কেনোলা ব্যবহার করে ৭০ থেকে ৮০ লিটার অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব। তবে তা সংযোজন করতে হবে আইসিইউর সঙ্গে।

চট্টগ্রামের ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে রূপান্তরিত চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আবদুর রব বলেন, আইসিইউ ভেন্টিলেটরে ভর্তি হওয়া করোনা রোগীদের অবস্থার উন্নতির উদাহরণ খুবই সামান্য। এ মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বেশি দরকার হাইফ্লু নজেল কেনোলা। এর মাধ্যমে স্যাচুরেশন কমে যাওয়া রোগীকে ৭০ থেকে ৮০ লিটার পর্যন্ত অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব।

করোনা সংক্রমণ বাড়ার পর চট্টগ্রামে চিকিৎসাব্যবস্থার অসহায়ত্ব ফুটে ওঠে। এর পর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ ভেন্টিলেটর ব্যবস্থা উন্নত করার প্রয়াস চালানো হয়। বিশেষ করে বেসরকারি হাসপাতাল মালিকদের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ২০টি আইসিইউ শয্যার ব্যবস্থা করা হয়; কিন্তু চিকিৎসকরা দেখতে পান, আইসিইউ ভেন্টিলেটরের চেয়ে হাইফ্লু নজেল কেনোলা ব্যবহারেই রোগী অধিক সুস্থ হয়ে ওঠেন। কারণ অতি সংকটাপন্ন রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহ করা অনেক বেশি প্রয়োজন।
চমেক হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, আইসিইউ নয়, এ মুহূর্তে করোনা আক্রান্ত সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য বেশি দরকার হাইফ্লু নজেল কেনোলা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রামে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে হাইফ্লু নজেল কেনোলার সংখ্যা খুবই সীমিত। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে আছে মাত্র চারটি। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আছে তিনটি। আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে আছে দুটি। বেসরকারি ম্যাক্স ও মেট্রোপলিটন হাসপাতালে তিনটি করে হাইফ্লু নজেল কেনোলা রয়েছে। এর বাইরে বেসরকারি হাসপাতাল সিএসসিআর ও ন্যাশনাল হাসপাতালে একটি করে এই যন্ত্র রয়েছে।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম হুমায়ুন কবির জানান, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সেখানে আরও চারটি হাইফ্লু নজেল কেনোলা স্থাপন করা হবে।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. বদিউল আলম আমাদের সময়কে বলেন, চট্টগ্রামের বড় বড় শিল্পপতি ও উদ্যোক্তারা বিভিন্ন হাসপাতালে হাইফ্লু নজেল কেনোলা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। এর মধ্যে এস আলম গ্রুপ ১০০টি আনছে, যা আগামী ২৬ জুন নাগাদ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার কথা রয়েছে। এর মধ্য থেকে ৫০টি চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে স্থাপন করা হবে। অন্যগুলো ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে স্থাপন করা হবে। আরও একাধিক ব্যবসায়ী গ্রুপও এই উদ্যোগ নিয়েছে।

জানা গেছে, আগামী ২২ থেকে ২৬ জুনের মধ্যে বেসরকারি ইমপেরিয়াল হাসপাতাল ও বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতাল ৫টি করে হাইফ্লু নজেল কেনোলা আনছে বিদেশ থেকে।

এদিকে করোনা রোগীদের আইসিইউ ভেন্টিলেটর সংকটের মধ্যে চট্টগ্রামের পাঁচ হাসপাতালকে ২০টি ভেন্টিলেটর দিয়েছে টিকে গ্রুপ। গতকাল শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেনের কাছে এসব ভেন্টিলেটর হস্তান্তর করেন টিকে গ্রুপের পরিচালক (মার্কেটিং) মো. মোফাচ্ছেল হক। এ সময় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. বদিউল আলম, সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বিসহ জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

টিকে গ্রুপের দেওয়া ২০টি ভেন্টিলেটরের মধ্যে ১০টি চমেক হাসপাতালে, ৩টি চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে, ৩টি চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালে, ২টি সার্জিস্কোপ হাসপাতালে এবং ২টি পার্কভিউ হাসপাতালে দেওয়া হয়েছে।

গত ৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম নগরীর দামপাড়া এলাকায় এক ব্যক্তির শরীরে প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। সর্বশেষ গতকাল সকালে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চট্টগ্রামে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৯১১ জন।

লাফিয়ে লাফিয়ে করোনা শনাক্ত বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সংকটাপন্ন রোগীর সংখ্যাও। এতে চট্টগ্রামে মৃত্যুও বেড়ে চলেছে। -সূত্র : আ. সময়