ছবি: নিউইয়র্ক টাইমস

(দিনাজপুর২৪.কম) মুসলমান বিশ্বাস করে ইসলামে প্রতিটি সমস্যারই সমাধান রয়েছে। করোনাও এর ব্যতিক্রম নয়।

করোনা তথা কোভিড-১৯ একটি উচ্চমাত্রার সংক্রামক রোগ, যা প্রধানত শ্বাসতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। যাদের অন্য কোনো স্বাস্থ্যজটিলতা আছে অথবা কম রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের জন্য করোনা অত্যন্ত ভয়ানক; এমনকি কখনও কখনও এটি তাদের মৃত্যুর কারণও হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে ইতিমধ্যে করোনাভাইরাস ভয়ানক আকার ধারণ করেছে। এখন পর্যন্ত করোনার কার্যত কোনো ভ্যাকসিন কিংবা চিকিৎসা বের হয়নি।

করোনা কবলিত দেশগুলোর সরকার এটির বিস্তার রোধ করতে দেশজুড়ে চালু করেছে লকডাউন ও জরুরি অবস্থা। গৃহবন্দি থেকে প্রতিনিয়ত অবস্থার অবনতি দেখে কারও পক্ষে স্বাভাবিক থাকা অত্যন্ত কঠিন।

কিন্তু এমন কঠিন অবস্থায়ও একজন মুমিন হতাশ হয় না। কেননা সে বিশ্বাস করে– ভালোমন্দ যাই ঘটে আল্লাহতায়ালার হুকুমেই ঘটে। আল্লাহতায়ালা যা করেন ভালোর জন্যই করেন; যদিও আমরা আমাদের দুর্বল মেধাশক্তি দ্বারা সবসময় তা বুঝতে পারি না।

দুর্যোগ-দুর্দশা আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ। এসব আমাদের হাতের কামাই। বিপদে ধৈর্যধারণ করে একজন মুমিন সহজেই আল্লাহতায়ালার কাছ থেকে পুরস্কৃত হতে পারে। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি– যে কোনো বিপদ দিয়ে আল্লাহ বান্দার পাপমোচন করেন ও তার নেকি বৃদ্ধি করেন। এমনকি তা যদি সামান্য একটি কাঁটা বিধিয়েও হয়। (মুসলিম)

সুতরাং বিপদে পতিত হলে একজন মুসলিমের প্রতিক্রিয়াই তার ঈমানি শক্তি নির্ধারণ করে।

সবসময় মনে রাখতে হবে, এটি আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা।

মনে রাখা উচিত যে, আল্লাহ বান্দাকে বিপদগ্রস্ত করে তার ধৈর্য পরীক্ষা করে থাকেন। তিনি দেখতে চান, তার বান্দা বিপদে পড়ে তাকে ভুলে যায় কিনা, তার ওপর আস্থাহীন হয়ে পড়ে কিনা।

আল্লাহতায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ভয়, ক্ষুধা, জানমালের ক্ষতি ও কর্মফলের মাধ্যমে পরীক্ষা করব। আর ধৈর্যশীলদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ। (সুরা বাকারা: ১৫৫)

অন্যত্র আল্লাহ বলেন, তোমরা কি এমন ধারণা পোষণ কর যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ লাভ করবে, অথচ এখনও পর্যন্ত তোমাদের আগের লোকেদের মতো অবস্থা তোমাদের সামনে আসেনি?

তাদের অভাবের তীব্র তাড়না ও মুসিবত স্পর্শ করেছিল এবং তারা এতদূর বিকম্পিত হয়েছিল যে, নবী ও তার সঙ্গের মুমিনগণ চিৎকার করে বলেছিলেন- আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে? জেনে রেখো– নিশ্চয়ই আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী। (সুরা বাকারা: ২১৪)

এ আয়াতের শেষাংশে আল্লাহতায়ালা মুমিনদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, তার সাহায্য অতিনিকটে। একজন মুসলিম জানে, আল্লাহ বিপদে তার বান্দাকে পরিত্যাগ করেন না। তিনি কখনই কারও ওপর তার সাধ্যাতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ নিজেই বলেন, আল্লাহ কারও ওপর তার সাধ্যাতীত বোঝা চাপিয়ে দেন না। (সুরা বাকারা: ২৮৬)

এসব আয়াত সর্বাবস্থায় একজন মুসলমানের মনে সাহস সঞ্চার করে।

আল্লাহর ফয়সালা

তাকদিরে বিশ্বাস করা ঈমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি। আল্লাহতায়ালা পৃথিবী সৃষ্টির ৫ হাজার বছর আগে সবার তাকদির নির্ধারণ করে রেখেছেন।

জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তাকদিরে বিশ্বাস করা ছাড়া কোনো আল্লাহর বান্দা প্রকৃত মুমিন হতে পারে না।

এ ব্যাপারে সুরা তাগাবুনের ১১ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, সব মুসিবত আল্লাহর আদেশেই সংঘটিত হয়। এই বিশ্বাসটি বিপদে মুমিনের মনকে প্রশান্ত করে।

করোনার এই মুসিবতটিও আল্লাহর ফয়সালা। সুতরাং এটিকে প্রতিরোধ করার মতো উপযুক্ত শক্তি-সামর্থ্যও আল্লাহতায়ালা মানুষকে দেবেন। আর এতে যদি কারও মৃত্যু হয়ে যায়, এটিকেও আল্লাহর ফয়সালা বলেই মেনে নিতে হবে।

কেননা আল্লাহতায়ালার ফয়সালা বলেই কোনো ওষুধ কিংবা চিকিৎসা তার কোনো কাজে আসেনি।

সবর ও তাওয়াক্কুল

বিপদে পতিত হলে মুমিন আল্লাহর ওপর ভরসা স্থাপনপূর্বক ধৈর্যধারণ করে তার কাছ থেকে এর জন্য পুরস্কৃত হয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, মুমিনের বিষয়াদি কত আশ্চর্যের! তার সব কিছুই কল্যাণকর। আর এটি তো কেবল মুমিনের ক্ষেত্রেই হতে পারে। সচ্ছলতায় সে শুকরিয়া আদায় করে, তখন তা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আর যদি তার ওপর কোনো বিপদ নেমে আসে, তা হলে সে সবর করে, ফলে তাও তার জন্য কল্যাণকর হয়ে যায়। (মুসলিম)

ধৈর্যসহকারে আল্লাহতায়ালার সব সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া একজন মুমিনের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য। তবে এর মানে এই নয় যে, বিপদ থেকে রক্ষা পেতে সে কোনো ধরনের সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেবে না।

আল্লাহতায়ালার ফয়সালা মেনে নেয়া আর বিপদে হাত গুটিয়ে বসে থাকা এক নয়।

একজন সচেতন মুসলিম যেমন এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, তেমনি যে কোনো পরিস্থিতিতে আল্লাহর ফয়সালাকেই চুড়ান্ত বলে মেনে নেবে। আর কেবল তখনই আল্লাহতায়ালা তার সব চেষ্টাকে ফলপ্রসু করবেন।-ডেস্ক

মুসলিম ইংক থেকে অনূদিত