পেঁয়াজের দাম আরেক দফা বাড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা

ভারত থেকে আসা পেঁয়াজ শেষের পথে। গেল মাসে রফতানি আদেশপ্রাপ্ত যেসব পেঁয়াজভর্তি ট্রাক ভারতের মহদীপুর স্থলবন্দরে আটকে ছিল সেগুলো আজ বুধবারের মধ্যে আসা শেষ হয়ে যাবে। এতে আরেক দফা পেঁয়াজের দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

দেশীয় পেঁয়াজ ওঠার আগপর্যন্ত আর পেঁয়াজের দাম কমার কোনো লক্ষণ দেখছেন না ব্যবসায়ীরা। তবে পেঁয়াজের বাজার সামাল দিতে মেঘনা ও সিটি গ্রুপের মতো বড় প্রতিষ্ঠানকে মাঠে নামিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

সিটি গ্রুপ জানিয়েছে, তারা এরই মধ্যে তুরস্ক থেকে আড়াই হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির ঋণপত্র খুলেছে। এ পেঁয়াজ দেশে আসবে চলতি মাসের শেষদিকে। প্রতি কেজির আমদানি মূল্য পড়বে ৪০ টাকার মতো। এর আগে আরো কিছু পেঁয়াজ আমদানির চেষ্টা করছে সিটি গ্রুপ। পেঁয়াজ আমদানিকারক জহির ট্রেডিং আইল্যান্ডের স্বত্বাধিকারী জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে সরকার বেশ আন্তরিক। আমরা এলসি খুলে যাচ্ছি। তবে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর বন্দরে পেঁয়াজ পড়ে থাকে ৭ থেকে ৮ দিন। বিশেষ ব্যবস্থায় ওই দেশের সরকারকে রাজি করিয়ে এই সময়টা কমিয়ে আনা সম্ভব। সচিব বলেছেন, তিনি বিষয়টি দেখবেন।

পেঁয়াজ আমদানিতে বাংলাদেশ সাধারণত ভারতের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ভারত নিজের বাজার সামাল দিতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণা করে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি ভারত সফরে গিয়ে পেঁয়াজের প্রসঙ্গ তোলেন। ভারত তখন আগের এলসির বিপরীতে কিছু পেঁয়াজ ছাড় করে। তখন দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকার নিচে নেমে আসে, যদিও তা মাত্র তিন দিন স্থায়ী ছিল।

আমাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সোনামসজিদ স্থলবন্দরে গত ৮ দিনে ভারতের মহদীপুর স্থলবন্দর থেকে ১৮০টি পেঁয়াজভর্তি ট্রাক প্রবেশ করেছে। এতে মোট ২ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ ভারত থেকে বন্দরে প্রবেশ করেছে।

সোনামসজিদ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য বাবুল হাসনাত দুরুল জানান, আমদানি করা পেঁয়াজ দ্রুত ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পানামা পোর্ট লিমিটেড থেকেও পেঁয়াজভর্তি ট্রাক জরুরি ভিত্তিতে আনলোড করা হচ্ছে।

বাবুল হাসনাত দুরুল জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বরের আগে এলসি করা পেঁয়াজ ভারত থেকে আগামী ২৮ তারিখের মধ্যে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে প্রবেশ করবে। এরই মধ্যে এলসি করা আটকেপড়া ২ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে, কিন্তু বাজারে পেঁয়াজের দাম আগের মতোই।

শিবগঞ্জের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আবদুল ওহাব জানান, বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কম থাকায় পেঁয়াজের দাম বেশি। তবে গত ২ দিন থেকে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পায়নি। বর্তমানে বিভিন্ন বাজারে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৯০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়।

মহদীপুর স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোশিয়েশনের ভুগতি মন্ডল জানান, ২৯ সেপ্টেম্বরের পেঁয়াজ রফতানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার আগের এলসি করা পেঁয়াজ আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে আসবে।

পানামার পোর্ট ম্যানেজার মইনুল ইসলাম জানান, রফতানি নিষেধাজ্ঞার আগে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের অর্ডার দেওয়া পেঁয়াজের মধ্যে গত ৭ দিনে ১৬৭ ট্রাক পেঁয়াজ ভারতের মহদীপুর স্থলবন্দর থেকে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে প্রবেশ করেছে।

এর মধ্যে রোববার মহদীপুর স্থলবন্দর থেকে ২৩, সোমবার ৩১, মঙ্গলবার ২৯, বুধবার ৩০, বৃহস্পতিবার ২৫, শনিবার ২৫ ও রোববার ৪ সোমবার ৯ এবং মঙ্গলবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ৫ ট্রাক ভারতীয় পেঁয়াজ সোনামসজিদ বন্দরে প্রবেশ করেছে।

এদিকে চাহিদামত পেঁয়াজ না আসায় সোনামসজিদ বন্দরসংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা করে। যদি এ বন্দর দিয়ে পুরোপুরি পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যায়, তবে এ পণ্যটির দাম আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সোনামসজিদ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক জানান, শর্তানুয়ায়ী ভারত থেকে আর মাত্র ১৬ ট্রাক পেঁয়াজ বাংলাদেশে আসবে। এরপর পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে গেলে বাজারে এর প্রভাব পড়বে। -ডেস্ক