-সংগ্রহীত

(দিনাজপুর২৪.কম) নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কুতুবপুরের শাহীবাজারে গতকাল শনিবার এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা কবর খুঁড়ে মার্কেট নির্মাণচেষ্টার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সেইসঙ্গে যেকোনো মূল্যে মার্কেট নির্মাণচেষ্টা প্রতিহত করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তারা।

জানা যায়, স্থানীয় শাহীবাজার কবরস্থান ও মসজিদ কমিটি উদ্যোগে সম্প্রতি কবরস্থানের জমির উপর নতুন করে বর্ধিত আকারে মসজিদ নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। আর সেই মসজিদের নিচতলায় মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। সে লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি কবর থেকে মরদেহের অবশিষ্টাংশ সরিয়ে নেওয়া হয়। পাশপাশি স্থানীয় দুই দোকানদারের কাছ থেকে দোকান বরাদ্দ বাবদ অগ্রিম ২০ লাখ টাকা নেওয়া হয়।

গত ১৪ জুন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু, জেলা পরিষদের সদস্য মোস্তফা চৌধুরী, কবরস্থান ও মসজিদ কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন হাওলাদার, কমিটির সেক্রেটারি হুমায়ুন কবির, নারী ইউপি সদস্য অনামিকা হকসহ আরও অনেকেই উপস্থিত থেকে নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।

তবে নির্মাণকাজ চালাতে গিয়ে শ্রমিকেরা বেশ কয়েকটি মাথার খুলি, হাড়গোড় খুঁজে পান। কিন্তু সেগুলো অন্য স্থানে সরিয়েই চলতে থাকে নির্মাণকাজ। এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সংগঠিত হন স্থানীয় তরুণেরা। মা তার সন্তানের কবর পাচ্ছেন না অথবা সন্তান তার বাবার কবর খুঁজে পাচ্ছেন না, এমন অভিযোগ আসতে থাকে একের পর এক। তবে এতকিছুর পরেও চলতে থাকে নির্মাণকাজ।

এদিকে, ধীরে ধীরে দানা বাঁধতে থাকে আন্দোলন। স্থানীয় তরুণদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন বিভিন্ন দলের রাজনীতিবিদসহ ব্যবসায়ী, চাকরিজীবি, ছাত্র, শ্রমিকেরা।

গতকাল অনুষ্ঠিত হওয়া মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কবরস্থানের মতো পবিত্র ভূমিতে মার্কেট নির্মাণ সম্পূর্ণভাবে ইসলামবিরোধী। যেভাবে কবর খুঁড়ে মরদেহের অবশিষ্টাংশ সরিয়ে ফেলা হয়েছে, তা মেনে নেওয়ার মতো নয়। কবর খুঁড়ে ফেলার আগে মৃত ব্যক্তির স্বজনদের জানানোর প্রয়োজনও বোধ করেননি তারা। কবরস্থানে মার্কেট নির্মাণকে যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করা হবে।

বক্তারা আরও বলেন, ‘এই অঞ্চলটি বেশ ঘনবসতিপূর্ণ। পূর্বে কবরস্থানের সামনেই ঈদগাহের জন্য একটি জায়গা নির্ধারিত ছিল, যেখানে জানাযাও দেওয়া হতো। কিন্তু ডিএনডি প্রকল্পের কারণে সেখানে আর জানাযা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আমরা রাস্তা আটকে দিয়ে জানাযা সম্পন্ন করতে বাধ্য হচ্ছি। তাই মার্কেটের নিচতলায় মার্কেটের পরিবর্তে জানাযার স্থান নির্ধারণ করা হোক।’

সেইসঙ্গে কবরস্থান ও মসজিদ কমিটির পদত্যাগ ও পূর্বের সকল হিসেব জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানানো হয়। দাবি মেনে নেওয়া না হলে বৃহৎ আন্দোলনের ঘোষণাও দেন বক্তারা।

মাটি খুঁড়তে গিয়ে পাওয়া বেশ কয়েকটি খুলি, হাড়গোড় মানববন্ধনে প্রদর্শন করা হয়। এ সময় স্থানীয় বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- মহানগর শ্রমিক লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও মার্কেট নির্মাণ প্রতিরোধ কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুর রহমান হক, উপদেষ্টা আব্দুল খালেক মুন্সি, রোকনউদ্দিন মেম্বার, আলমগীর ভূঁইয়া, হাজী আবুল কালাম, আহ্বায়ক হাজী মীর হোসেন মীরু, যুগ্ম আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিন মিন্টু, সদস্য সচিব জাহের মোল্লা, ইউপি সদস্য অনামিকা হক, মোজাফফর আহমেদ, রশিদ মোল্লা, শ্রমিক নেতা খবির উদ্দিন, পাগলা স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আতিকুল ইসলাম খোকন, ইঞ্জিঃ সাইদ রেজা খান, আক্তারুজ্জামান লিমন, ফয়সাল খান স্বপন, শাকিল মৃধা, সজীব কাজী প্রমুখ।

অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু বলেন, ‘এখানে যারা আছেন, সকলেই মূলত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। স্থানীয় ইউপি মেম্বার, ইউনিয়ন যুবলীগের সেক্রেটারিসহ আরও অনেকেই আছেন। গতকাল দুই পক্ষকে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। আগামী শনিবার নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এসে মীমাংসা করে দেবেন। সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’

কমিটির পদত্যাগের দাবি প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, ‘কমিটির মেয়াদ আর অল্প কিছুদিন রয়েছে। ফলে পদত্যাগের প্রয়োজন নেই।’

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মেম্বার ও কবরস্থান কমিটির সভাপতি আলাউদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী এই আন্দোলন করছে রাজনৈতিক কারণে। এর নেতৃত্বে থাকা মীরু হত্যাসহ ৩৫টি মামলার আসামি। খালেকও চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার ভাই দুবার নির্বাচনে অংশ নিয়েও জিততে পারেনি। জাহের মোল্লার বাড়ি নয়ামাটি। সেও এখানে ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে এসেছে। আমি গতকাল শনিবার সকালে চেয়ারম্যানের কাছে গিয়ে মানববন্ধনের কারণ জিজ্ঞেস করি। তিনি জানান, তার কথায় মানববন্ধন স্থগিত করা হয়েছে। মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম ভাইও মানববন্ধন চাননি। কিন্তু কিছু সন্ত্রাসী অন্য স্থান থেকে খুলি, হাড়গোড় এনে মানবন্ধন করেছে।’

মসজিদ ও মার্কেট নির্মাণের বিষয়ে আলাউদ্দিন বলেন, ‘চেয়ারম্যান সাহেব, দুজন নারী ইউপি সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। কাজের প্রয়োজনে যেসব কবর খোঁড়া হয়েছিল, সেগুলো আমরা আবার কবরস্থ করেছি। এখানে কবরস্থান কমিটির অফিসসহ নয়টি দোকান হওয়ার কথা রয়েছে, কিন্তু কোনো মার্কেট হবে না। আর আমি স্থানীয় সাংসদের নির্দেশ ছাড়া কারও কথায় পদত্যাগ করব না।’ -সূত্র : আ.সময়