(দিনাজপুর২৪.কম) জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নির্বাচিত সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব গ্রহণের কিছুদিন পর বলেছিলেন, খুব শিগগিরই তারা কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি ঘোষণা করবেন। গত ২৫ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল বলেছেন, ‘আগামী ১০ দিনের মধ্যে কমিটি ঘোষণা করবো।’

কিন্তু এরইমধ্যে ২০ দিন পেরিয়ে গেছে। কবে নাগাদ কমিটি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত তারিখ জানাতে পারেননি তারা। এদিকে প্রথম দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে না পারায় সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে কর্মী-সমর্থকদের মাঝে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রদলের পদ প্রত্যাশী একজন নেতা জানান, দায়িত্বগ্রহণের ১৫ দিনের মধ্যে কমিটি দেওয়ার কথা থাকলেও সঠিক সময়ে কমিটি দিতে পারেননি সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক। গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রথম কথা রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা।’

জানতে চাইলে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলের জানান, তারা এরইমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি প্রস্তুত করে রেখেছেন। শিগগিরই তা ঘোষণা করবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কমিটি জমা দিয়েছি। খুব শিগগিরই কমিটি হয়ে যাবে। গঠনতান্ত্রিক জটিলতায় কমিটি দিতে দেরি হচ্ছে।’

ছাত্রদল সূত্রে জানা যায়, বিবাহিতদের পদ নিয়ে গঠনতান্ত্রিক জটিলতা থাকায় কমিটি ঘোষণা করতে দেরি হচ্ছে। সংগঠনের দুই শীর্ষ নেতা বিবাহিতদের দলে রাখতে চাইলেও এ বিষয়ে হাইকমান্ডের ইচ্ছা কম। ছাত্রদলের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক দু’জনেই এ ব্যাপারে হাইকমান্ডকে কনভিন্স করার চেষ্টা করছেন। নির্বাচনের সময় দুটি শর্ত ছিল। প্রথমত হচ্ছে, বিবাহিতরা ছাত্রদলের প্রার্থী হতে পারবে না। অন্যটি হলো, নির্বাচনে প্রার্থীরা কাস্টিং ভোটের ১০ শতাংশের কম পেলে জামানত হারাবেন। যারা জামানত হারাবেন, তাদের কেউ ছাত্রদলের সদস্য পদেও থাকতে পারবেন না।

জানা যায়, ২৯ জনের মধ্যে জামানত পেয়েছেন মাত্র চার জন প্রার্থী। যে কারণে, জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় কমিটি দিতে দেরি হচ্ছে।’

শ্যামল বলেন, ‘বিবাহিতের বিষয়টি সংগঠনের গঠনতন্ত্রে উল্লেখ নেই। যারা এত দিন দলের দুঃসময়ে একসঙ্গে ছিল, তাদের বাদ দিলে খারাপ লাগবে।’

সূত্র আরও জানায়, প্রত্যেকটি ইউনিটে আগে কিছুদিনের জন্য আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হবে। পরে সম্মেলনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। এক্ষেত্রে আহ্বায়ক কমিটির সময়সীমা সর্বোচ্চ ৪৫ দিন হতে পারে। -ডেস্ক