(দিনাজপুর২৪.কম) না ফেরার দেশে চলে গেলেন কথাসাহিত্যিক শওকত আলী। বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া অাটটার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে কথাসাহিত্যিক শওকত আলীর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি তিন ছেলসহ বহু আত্মীয়-স্বজন, ভক্ত-অনুরাগী রেখে গেছেন।
তার মৃত্যুতে দেশের সাহিত্যাঙ্গণে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

শওকত আলীর মেজ ছেলে আসিফ শওকত কল্লোল তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন, সকাল সোয়া অাটটার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।ছোট ভাই গালিব শওকত শুভ সিলেট থেকে ঢাকায় অাসার পর দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। শওকত অালীর অারেক ছেলে ডা. আরিফ শওকত পল্লব এখন দেশের বাইরে অাছেন।

অাসিফ শওকত কল্লোল জানান, গত ৬ জানুয়ারি কথাসাহিত্যিক শওকত আলীকে সংকটাপন্ন অবস্থায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে দেয়া হয়। পরে তাকে ল্যাবএইড হাসপাতাল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়।

শওকত আলী ১৯৩৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। সারাজীবন শিক্ষকতা করে পার করেছেন তিনি। চাকরি থেকে অবসর নেন সরকারি সঙ্গীত কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে। শিক্ষকতা থেকে অবসর নিয়ে রাজধানীর হাটখোলায় নিজ বাসভবনে নিভৃত জীবনযাপন করছেন তিনি।

দেশভাগের পর দিনাজপুরে এসে তার প্রথম লেখা গল্প প্রকাশিত হয় কলকাতার বামপন্থিদের প্রকাশিত ‘নতুন সাহিত্য’ নামে একটি পত্রিকায়। এরপর দৈনিক মিল্লাত, মাসিক সমকাল এবং ইত্তেফাকে তার অনেক গল্প, কবিতা এবং বাচ্চাদের জন্য লেখা প্রকাশিত হয়। ছাত্রাবস্থায় সাংবাদিকতাও করেছেন তিনি। কাজ করেছেন মিল্লাত, মাসিক সমকাল ও সাপ্তাহিক মিঠেকড়ায়।

তার লেখা উপন্যাসের মধ্যে অন্যতম- প্রদোষে প্রাকৃতজন, ওয়ারিশ, অপেক্ষা, গন্তব্যে অতঃপর, পিঙ্গল আকাশ, উত্তরের খেপ, অবশেষে প্রপাত, জননী ও জাতিকা, জোড় বিজোড় ইত্যাদি।

দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত এবং পূর্বরাত্রি পূর্বদিন ত্রয়ী উপন্যাসের জন্য তিনি ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার পান। কথাসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য পেয়েছেন একুশে পদক। এ ছাড়া বাংলা একাডেমি পুরস্কার, হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার, অজিত গুহ স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার, লেখিকা সংঘ, স্বদেশ চিন্তা সংঘসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন শওকত আলী। -ডেস্ক