(দিনাজপুর২৪.কম) নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অব্যাহত আন্দোলনে জনদুর্ভোগ এবং অশুভ শক্তির আস্ফালনে কঠোর হচ্ছে সরকার। আন্দোলনের ৮ম দিনে গতকাল রোববার পুলিশ ছিলো আগের দিনগুলোর চেয়ে কিছুটা শক্ত অবস্থানে। ঢাকার সায়েন্সল্যাব, জিগাতলা, মিরপুর, বিমানবন্দর সড়ক ও মিরপুরসহ বেশকটি এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থী-পুলিশ ও ছাত্রলীগকর্মীদের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়েছে। এসব সংঘর্ষে সাংবাদিক, শিক্ষার্থী, পুলিশ ও সাধারণ পথচারীসহ অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, অরাজকতা চলবে আর আমরা বসে বসে সে দৃশ্য দেখব, তা মোটেই নয়। ধৈর্যের সীমা ছাড়ালে কাউকে ছাড় নয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যারা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের দিকে গুলি করতে করতে আসবে, তাদের বলপ্রয়োগ না করে কি করবো? এদিকে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তার অবস্থান নেওয়ার পর থেকে ঢাকার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোয় বাস চলাচল একেবারেই কমে যায়। এমনকি আন্ত:জেলা বাস চলাচলও বন্ধ করে দেন মালিক-শ্রমিকরা। গণপরিবহণ মালিক-শ্রমিক সমিতির নেতারা বলছেন, নিরাপদ বোধ না করা পর্যন্ত রাস্তায় বাস নামাবেন না। ফলে অঘোষিত পরিবহণ ধর্মঘট চলছে। এরই মধ্যে ঢাকায় চলছে ট্রাফিক সপ্তাহ। গণপরিবহণের অভাবে জনদুর্ভোগের শেষ নেই নগরবাসীর। এছাড়া ছাত্র আন্দোলনে হামলা-পাল্টা হামলায় আতঙ্কিত সবাই। গতকালের আন্দোলনে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, গত শনিবার স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে জিগাতলায় ছাত্রলীগ-যুবলীগকর্মীরা হামলা চালায়। এ হামলার প্রতিবাদে গতকাল দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে জিগাতলার দিকে যাচ্ছিল। পথে সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় ছাত্রলীগ-যুবলীগ তাদের ওপর আবারো একই ধরনের হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, বারডেমসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গতকাল সকাল ১১টার দিকে শাহবাগ এলাকায় জড়ো হয়। তারা গত শনিবার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংহতি প্রকাশের মাধ্যমে হঠাৎই নিরাপদ সড়কের আন্দোলন যেন তীব্র হয়ে ওঠে। তারা শাহবাগে ঘণ্টাখানেক অবস্থানের পর মিছিল নিয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরি হয়ে জিগাতলার দিকে রওনা দেয়। শিক্ষার্থীরা জিগাতলা বাসস্ট্যান্ডে এলে সেখানে সতর্ক অবস্থানে থাকা পুলিশ শিক্ষার্থীদের ফিরে যেতে অনুরোধ করে। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ সেখান থেকে ঘুরে সায়েন্স ল্যাবরেটরির পথ ধরে। কিন্তু, অপর অংশ সেখানেই অবস্থান নেয়। মিছিলে স্কুল ইউনিফর্ম পরা সামান্য শিক্ষার্থীকেও দেখা যায়। তারা পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। এতে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। এসময় হঠাৎই ধানমন্ডি লেকের দিক থেকে একদল সন্ত্রাসী লাঠিসোঁটা, রামদা, কিরিচ নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। ২৫টি কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে
পুলিশ। কাঁদানে গ্যাস থেকে বাঁচতে অনেক শিক্ষার্থী লেকের পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পাড়ে দাঁড়িয়ে ওই সময় পুলিশ শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে ও ঢিল ছোড়ে। কয়েকজনকে পানি থেকে টেনে তোলে পুলিশ। তিন শিক্ষার্থীকে ধরে নিয়ে যেতেও দেখা যায়। এছাড়া জিগাতলায় সীমান্ত স্কয়ারের দিকে পুলিশ সাঁজোয়া যান নিয়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দিলে তারা আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায়। অনেকে নির্মাণাধীন ভবনগুলোয় আশ্রয় নেয়। দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৩টা এ দুই ঘণ্টায় জিগাতলা-সাইন্সল্যাব রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা ছাত্রলীগের কর্মী। তারা হেলমেট পরা ছিলো। প্রায় একই সময় ছাত্রলীগের একটি মোটরসাইকেলবহর মিছিল নিয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরি হয়ে শাহবাগের দিকে আসার পথে সিটি কলেজের বিপরীতে সংঘর্ষ হয়। মিছিলে থাকা এক মোটরসাইকেল আরোহী শিক্ষার্থীদের হামলার মুখে পড়ে। তিনি রক্তাক্ত জখম হন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা কলেজের দিক থেকে একদল দুষ্কৃতকারী বের হয়। যাদের সকলের হাতেই ছিলো হকিস্টিক, রামদা ও লাঠিসোঁটা। তারাও এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে বেশকজন ফটোসাংবাদিক ও পথচারী গুরুতর আহত হন। তারা সাংবাদিকদের ক্যামেরা ভাঙচুর করে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হামলায় অন্তত তিনজনের মাথা ফেটে গেছে। এছাড়াও একজনের গাল ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কেটে গেছে। রক্তক্ষরণ ঠেকাতে ও প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক তাদের পপুলার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত একজন হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র মাহমুদুর রহমান। আহতদের মধ্যে একজন নারী শিক্ষার্থীও রয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা চলে যাওয়ার পর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মোটরসাইকেলবহর নিয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় মহড়া দিতে দেখা গেছে। মারধরের শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, তারা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচির উদ্দেশে সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় এলে সেখানে হঠাৎ করেই ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীরা হামলা চালায়। হামলায় অনেক শিক্ষার্থীর মাথা ফেটে গেছে। অনেকের গাল-মুখ কেটে গেছে। অন্তত শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল সূত্র মতে, সেখানে ৮ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। তারা হচ্ছেন ঢাবির শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান (২১), সুসমিতা রয়েল লিসা (২৩), তুষার (২৪), মারুফ (২৫) ও শিমন্তী (২৬), বুয়েটের রাকিন (২৩), আইইউবির ছাত্র এনামুল হক (২৪) ও তামিম (২৩)। দুর্বৃত্তদের হামলায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অ্যাসোসিয়েট প্রেস (এপি)-র সাংবাদিক এএইচ আহাদসহ স্থানীয় গণমাধ্যমের বেশকজন সাংবাদিক ব্যাপক মারধরের শিকার হন। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও রেহাই পাননি তারা। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এপির ফটোসাংবাদিক এমএন আহাদকে ল্যাবএইড হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হামলার শিকার ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থী নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, নিরাপদ সড়ক, শনিবার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও নৌপরিবহণমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে মিছিল করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জড়ো হন নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থী ও ব্যবসায় অনুষদভুক্ত কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। রাজু ভাস্কর্য ও অপরাজেয় বাংলায় মিছিল নিয়ে জড়ো হওয়ার কথা ছিল। পরে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর সেই মিছিল সাড়ে ১১টার দিকে শাহবাগে এসে জড়ো হয়। মিছিলটি সায়েন্স ল্যাব হয়ে জিগাতলার দিকে যায়। সেখানে তাদের অবস্থানের কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। জিগাতলা থেকে ঘুরে আবার শাহবাগে ফিরে আসার পরিকল্পনা ছিলো। জিগাতলায় মিছিল থেকে একটি অংশ পুলিশের বিরুদ্ধে সেøাগান দিচ্ছিল। ওই সময় জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের সামনে থেকে মিছিলটি ইউটার্ন নেওয়ার সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়া শুরু করে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। এ সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলে পড়ে। মিরপুর ১, ২, ১০ নম্বর থেকে ভাসানটেক এলাকায় শিক্ষার্থীরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশ তাদের হটিয়ে দেয়। এছাড়াও মিরপুর ১০ নম্বর ও ২ নম্বর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে মিরপুর এলাকায় বিআরটিসি ছাড়া বেসরকারি মালিকদের পরিচালিত গণপরিবহণ দেখা যায়নি। রামপুরা ওভারব্রিজ এলাকায় অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সাথে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এক স্কুলছাত্র আহত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। এদিকে বিকাল তিনটার দিকে বিভিন্ন কলেজের পাঁচশর মতো শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে মিরপুর ১০ নম্বরের দিকে আসে। পুলিশ তাদের সেখানে অবস্থান না নেওয়ার জন্য চেষ্টা করে। মিছিলে রোমান নামে বহিরাগত এক যুবক প্রবেশ করে। তার পকেটে বোমা রয়েছে বলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের সন্দেহ হলে তারা যুবকটিকে মারপিট করে। এতে রোমান অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে শিক্ষার্থীরা তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরপর তার পকেটে রাখা কৌটাটি বের করে পুলিশ। দেখা যায়, সেটি একটি আঁঠার কৌটা। এরপর পুলিশ রোমানকে চিকিৎসার জন্য আল হেলাল হাসপাতালে পাঠায়। পরে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এদিকে বর্তমান পরিস্থিতি ধৈর্যের সীমা অতিক্রম করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। গতকাল রোববার গুলিস্তান জিরো পয়েন্টে দেশব্যাপী ট্রাফিক সপ্তাহ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোমলমতি ছাত্ররা যেটা চাচ্ছিল, সেটাকে ডাইভার্ট করে অন্যদিকে, অন্য দৃশ্যে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা আমরা দেখলাম। আমাদের পুলিশ, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছে। তার মানে এই নয় যে, তারা অরাজকতা করতেই থাকবে, আমরা বসে বসে দৃশ্য দেখবো। মোটেই নয়। আমাদেরও ধৈর্যের সীমা রয়েছে। সেটা অতিক্রম করলে ব্যবস্থা আমরা অবশ্যই নেবো। কোনো দাবি অপূর্ণ নেই উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নয়টা দাবি ছিল, নয়টা দাবিই মেনে নেওয়া হয়েছে। ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস সেটাও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন, তারা কাজ শুরু করছেন। যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অপরদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যারা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের দিকে গুলি করতে করতে আসবে, তাদের বলপ্রয়োগ না করে কি চুমু খাবো? বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল রোববার সকালে বনানীতে তার কবরস্থানে শ্রদ্ধা জানান ওবায়দুল কাদের। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওই মন্তব্য করেন তিনি। ষড়যন্ত্রের কোনো আভাস দেখা যাচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ষড়যন্ত্র তো চলছেই। এ আগস্ট মাসেও ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বাতাসে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। অশুভ শক্তির আস্ফালনের গন্ধ, পদধ্বনি পাওয়া যাচ্ছে। আজকে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপদ সড়কের দাবিতে যে অরাজনৈতিক আন্দোলন, সেই আন্দোলন কারা নোংরা রাজনীতির দিকে ?নিয়ে যেতে চায়, সেটা পরিষ্কার হয়ে গেছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি এবং তাদের উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির দোসররা কীভাবে এই নিরীহ কোমলমতি আন্দোলনের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে আন্দোলনকে নোংরা রাজনীতির খেলায় পরিণত করতে তৎপরতা চালিয়েছে, তা দেশবাসী লক্ষ্য করেছে। বিএনপি এবং উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তিরা ছাত্রছাত্রীদের পোশাক পরে ভুয়া পরিচয়পত্র বানিয়ে ধোঁকাবাজির নোংরা রাজনীতি তারা করেছে। বিধ্বংসী রাজনীতির সূচনা করেছে বিএনপি। নিজেদের ধৈর্যের কথা উল্লেখ করে কাদের বলেন, এই অশান্তির রাজনৈতিক শক্তিকে যেকোনো মূল্যে প্রতিরোধ করতে হবে। সাতদিন ধরে ধৈর্য ধরেছি। আজ পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তা, এমপি-মন্ত্রী আমাদের নেতাদের হয়রানি, নাজেহাল করা হয়েছে। তারপরও আমরা হাসিমুখে সহনশীলতার সঙ্গে ধৈর্যের সঙ্গে তা মেনে নিয়েছি। উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলার বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহণের বাসের চাপায় নিহত হয় রাজিব ও মীম নামে দুই কলেজশিক্ষার্থী। এ ছাড়া আহত হয় বেশ কয়েকজন। এ ঘটনায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের নিহতদের সহপাঠীরা। তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে আন্দোলনে যোগ দেয় ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ কলেজের শিক্ষার্থীরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে এরই মধ্যে ২০ লাখ টাকার অনুদান দিয়েছেন। নৌমন্ত্রী শাজাহান খানও নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন। মেনে নেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের দাবিসমূহ। এর পরও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন অব্যাহত রাখে। গত শনিবার জিগাতলায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় একদল যুবক। হামলার প্রতিবাদে গতকাল রাস্তায় বিক্ষোভে নামে বিশালসংখ্যক শিক্ষার্থী। -ডেস্ক