(দিনাজপুর২৪.কম)ফ্রান্সের তিনজন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ, নিকোলাস সারকোজি ও তার পূর্বসূরি জ্যাক শিরাকের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর ফাঁস করে দিয়েছে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলা বিকল্পধারার গণমাধ্যম উইকিলিকস। তাদের দাবি, ২০০৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট জ্যাক শিরাক, নিকোলাস সারকোজি ও ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের ফোনে আড়ি পেতেছে। এ খবরে প্যারিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করে প্রতিবাদ জানিয়েছে ক্ষুব্ধ ফ্রান্স। ‘টপ সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট অ্যান্ড টেকনিক্যাল ডকুমেন্টস’-এর বরাত দিয়ে এ কথা জানানো হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এসব নথির সত্যতা নিশ্চিত করেনি। এ ঘটনায় মিত্র দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পারেন।
প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের তৎপরতা ফ্রান্স কখনোই সহ্য করবে না।’ গতকাল বিষয়টি প্রকাশের পর ফ্রান্সের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ওলাঁদ প্রতিরক্ষা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে বসেন। ফ্রান্সের পত্রিকা লিবারেশন ও মিডিয়াপার্ট তদন্ত ওয়েবসাইট উইকিলিকসের এসব তথ্য প্রকাশ করেছে। ২০১৩ সালে স্নোডেনের প্রকাশিত নথিতে আরেক বন্ধু রাষ্ট্র জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দিলমা রৌসেফের ফোনে আড়ি পাতার ঘটনায় দু’দেশের মধ্যে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়। খবর : বিবিসি, এএফপি, রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান।
মার্কিন মিত্রদের মধ্যে ফ্রান্স হলো দ্বিতীয় রাষ্ট্র, যাদের বিরুদ্ধে মার্কিন গোপন নজরদারি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠল।
‘এসপিওনাজ এলিসি’ শীর্ষক গোয়েন্দা নথির প্রথম খণ্ড মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে উইকিলিকস। এতে বলা হয়েছে, ওই নেতাদের কথাবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসএ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করত। এ ছাড়া ফ্রান্সের মন্ত্রিসভার সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফরাসি রাষ্ট্রদূতের যোগাযোগের ওপর সরাসরি নজরদারি চালানো হতো।
এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ গোপন রাষ্ট্রীয় গোপন নথি ফাঁস করে বিশ্বজুড়ে হইচই ফেলে দিয়েছিল উইকিলিকস।
নথি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা ছাড়াই সারকোজি ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনা আবার শুরু করার কথা ভেবেছিলেন। আর ওলাঁদ ২০১২ সালে ইউরো জোন থেকে গ্রিসের বেরিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় ছিলেন। ইউরোপের অন্য দেশের কর্মকর্তা ও কোম্পানির ওপর নজরদারিতে এনএসএকে সহযোগিতা করেছে জার্মানির বিএনডি গোয়েন্দা সংস্থা_ এমন খবর প্রকাশের পর পশ্চিমা মিত্রদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারির এ তথ্য ফাঁস হলো। শিগগিরই আরও ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ প্রকাশ হবে জানিয়ে উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ বলেছেন, ‘ফরাসি জনগণের জানার অধিকার রয়েছে যে, তাদের নির্বাচিত সরকারও কথিত মিত্রের নজরদারিতে থাকছে।’ ফরাসি প্রেসিডেন্টের মোবাইল ফোনসহ এলিসি প্রাসাদের বহু কর্মকর্তার ফোন নম্বরও এসব নথিতে রয়েছে বলে উইকিলিকসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। উইকিলিকসের ওই তথ্য ফাঁস করার পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ওলাঁদ বলেছেন, ‘ফ্রান্স তার নিজের নিরাপত্তার ওপর কোনো রকম হুমকি সহ্য করবে না।’ ফরাসি প্রেসিডেন্সিয়াল ভবন থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ফরাসি নেতাদের ওপর গোয়েন্দাগিরি না করার প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই মেনে চলতে হবে।’
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা অভিযোগের সত্যতা পুরোপুরি না জেনে এখনই কোনো মন্তব্য করবে না।

তবে তারা এটাও বলেছে, তারা বর্তমান প্রেসিডেন্ট ওলাঁদের ওপর নজরদারি করছে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না।
গত সপ্তাহে সৌদি আরবের ৬০ হাজারের বেশি কূটনৈতিক নথি প্রকাশ করে উইকিলিকস। আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও পাঁচ লাখের মতো নথি প্রকাশ করবে বলে জানিয়েছে তারা।
উইকিলিকসের মুখপাত্র ক্রিস্টিন র‌্যাফনসন বলেন, এর আগে তারা জার্মানির চ্যান্সেলের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের যে নজরদারির কথা প্রকাশ করেছিলেন, তখন অবশ্য অতটা স্পষ্ট করে তথ্য দেওয়া হয়নি। ওটা নিয়ে উইকিলিকস নিজেও সন্তুষ্ট ছিল না। তবে এবার তারা বিশদ খবর ফাঁস করতে পেরেছে।(ডেস্ক)