(দিনাজপুর২৪.কম) নিজের ঘরে দুষ্কৃতীর হামলায় গুরুতর আহত দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের ইউএনও ওয়াহিদা খানমের অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অস্ত্রোপচারে অংশ নেন ছয়জন সার্জন, তাঁদের সঙ্গে ছিলেন একজন অবেদনবিদ।

বর্তমানে তাকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ডা. বদরুল হক।

তিনি বলেন, ‘অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর বেশি কিছু এখনি বলা যাবে না। আগেই বলেছিলাম, তার অবস্থা অত্যন্ত  গুরুতর এবং অপারেশনটাও ছিল জটিল।

আগামী ২৪ ঘণ্টা আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকবেন। যেহেতু অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে সে কারণেই আমারা আশাবাদী হতে চাইছি।

তবে, আবারও সবার উদ্দেশ্যে বলি আমরা আমাদের চেষ্টা করেছি, ডাক্তাররা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। এ ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে আগে থেকে পরিষ্কার করে কিছুই বলা যায় না। এখন আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’

এর আগে রাত ৯টার দিকে ওয়াহিদা খানমের অস্ত্রোপচার শুরু হয় বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

তখন অধ্যাপক ডা. বদরুল হক বলেছিলেন, ‘রাতে ওয়াহিদার আরেকটি সিটি স্ক্যানে দেখা যায় তার রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়েছে। এ কারণেই তাকে রাতেই অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অপারেশনে অংশ নিচ্ছেন অধ্যাপক ডা. রাজিউল হক, অধ্যাপক ডা. এহসান, অধ্যাপক ডা, জাহিদ, ডা. মাহফুজ ও ডা. আমীর।’

এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইউএনও ওয়াহিদা খানমের চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব নিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

বুধবার রাতে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ ক্যাম্পাসে ইউএনওর বাসভবনের ভেন্টিলেটর দিয়ে বাসায় ঢুকে ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলীর ওপর হামলা চালানো হয়।

এই হামলা কে বা কারা কেন চালিয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ধারণা স্থানীয় পুলিশ কিংবা প্রশাসন দিতে পারেনি।

গুরুতর আহত ওয়াহিদাকে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার বিকালে হেলিকপ্টারে তাকে ঢাকার এনে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ওয়াহিদার বাবা ওমর আলীকে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নওগাঁ থেকে তিনি মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। ওয়াহিদার স্বামী মেজবাহুল হোসেন রংপুরের পীরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।