(দিনাজপুর২৪.কম) ” নদী কভু পান নাহি করে নিজ জল,তরুগণ নাহি খায় নিজ নিজ ফল,,,,পরহিত-তরে”।অমর কবি রজনীকান্ত সেন এর ‘পরোপকার’ কবিতার সারমর্ম অনুসারে সেই ১৮৫৪ সাল থেকে ছাত্রদের জ্ঞানের পিপাসা মিটিয়ে তাঁদের আলোকিত করে আজও সগৌরবে,সৌরভের সাথে কালের স্বাক্ষীর মত দাঁড়িয়ে আছে উত্তর জনপদের গর্ব,অহংকারের ঐতিহ্যের ধারক বাহক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরের মহামিলনের অনিন্দ্যসুন্দর দিনাজপুর জিলা স্কুল। শহরের প্রাণকেন্দ্র পৌরসভার সামনে আজ অস্বাভাবিক পরিবেশেও জীবন ও জীবিকার জরুরী প্রয়োজনে নিজের বুক পেতে অকাতরে অস্থায়ী বাজার হিসেবে মানব সেবায় বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করছে না, The Greatest Place of Knowledge দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার Map পাথরে সূচারুরুপে নির্মিত আছে একমাত্র এখানেই। নিতান্ত নীরবে দেশ ও জাতিকে ক্লান্তিহীন ভাবে উপহার দিয়েই চলেছেন মাননীয় প্রধান বিচারপতি, বিচারপতি, সেনাপ্রধান, সচিব, প্রধান প্রকৌশলী, ইমেরিটাস অধ্যাপক, শহীদ বুদ্ধিজীবি, চিকিৎসক এবং বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ প্রমুখ। স্কুলের পাশ দিয়ে গেলে মনে পড়ে যায় ছান্দসিক, নীতিকথামুলক, আদর্শবান শিক্ষাবিদ ও কবি কলকাতা বিশ্ববিদ্যায়ের ইংরেজীতে অনার্স সহ এম,এ কাজী কাদের নেওয়াজ (১৯০৯-১৯৮৩) এর প্রধান শিক্ষক (১৯৫১-১৯৬৬) পদে কর্মরত জীবনের অতীত দিনগুলো। যা কল্পনায় চলে আসে, আমি তো তাঁকে দেখিনি তবে তাঁর ছাত্রদের কাছে শুনেছি। অসংখ্য কবিতার মাঝে স্যারের দুটো অমর কবিতা সবার ভাল লাগে। “মা” কবিতার প্রথম অংশ “মা” কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু জেনো ভাই, ইহার চেয়ে নাম যে মধুর তিন ভূবনে নাই……। “শিক্ষাগুরুর মর্যাদার” শেষ অংশ “…. আজ হতে চির উন্নত হল শিক্ষা গুরুর শির, সত্যিই তুমি মহান উদার বাদশা আলমগীর।” অতুলনীয় কবিতা দুটোর সুনিপুণ গাঁথুনি অপূর্ব কথামালা পাঠ করলে হৃদয় জুড়িয়ে যায়। দিনাজপুর জিলা স্কুলের একজন ক্ষুদে ছাত্র অভিভাবক (পৌরবাসী) এবং গ্রামের সাধারণ শিক্ষক হিসেবে দিনাজপুর জেলা সদরের অভিভাবক তথা দিনাজপুর সদর-৩ আসনের এমপির কাছে অনুরোধ করছি চির অমলিন কবিতা দুটো স্কুলের ভিতরে বা বাহিরে দেওয়ালে বড় করে প্রতিস্থাপন করলে পাঠকের মনে পড়ামাত্রই মূল্যবোধ জাগ্রত হবে। দিনাজপুর জেলার রতœগর্ভা মাকে দিয়ে “মা” কবিতা এবং দেশবরেণ্য স্কুলের সাবেক কৃতিছাত্র Warrant of Precedence হিসেবে এগিয়ে বা সাংবিধানিক পদে দায়িত্বরত কোনো মহান ব্যক্তিকে দিয়ে “শিক্ষাগুরুর মর্যাদা” কবিতাখানি অথবা আপামর জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আপনি নিজে বা আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী কোনো এক বিশেষ দিনে তথা মাহেন্দ্রক্ষণে শুভ উদ্বোধন করবেন, এটা আপনার কাছে আমার ব্যক্তিগত হৃদয়ের অদম্য অনুভূতি।