(দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম)দেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে চলতি বছর (২০২০) আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের মতে, আসন্ন শীতে দেশে করোনার প্রকোপ ফের বাড়তে পারে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা। এই কারণে করোনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা উচিৎ হবে না বলে মনে করছেন তারা।

এর আগে, করোনার তাণ্ডবে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কয়েক দফায় ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি বর্ধিত করা হয়েছে।

এদিকে শিক্ষাখাত সংশ্লিষ্টরাও ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত বিদ্যালয় না খোলার পরামর্শ দিয়েছেন। এমন অবস্থায় এ বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খোলা একেবারে সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশে আগামী নভেম্বর থেকে শীত শুরু হবে। এই কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি আরও বাড়তে পারে। শীতে দেশে নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডা জনিত রোগের লক্ষণ বেশি দেখা যায়। ফলে সবার মধ্যেই করোনার লক্ষণ দেখা যেতে পারে।

এছাড়া আগামী বছরের জানুয়ারিতেও শীত শেষ হবে কিনা সেটিও বলতে পারছেন না স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের জীবন সঙ্কটে ফেলতে চায় না সরকার। তাই পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খোলার পক্ষেই মত দিয়ে সংশ্লিষ্টদের অনেকেই।

দেশের মাধ্যমিক স্কুল-কলেজ ও উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেখভাল করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)। তারাও বলছেন, একই কথা। তাদের মতে, সংক্রমণ না কমলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে না।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, করোনা সংক্রমণ পুরোপুরি কমে না আসলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সুযোগ নেই। আমাদের কাছে শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা সবার আগে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিরাপদ মনে না হলে স্কুল-কলেজ খোলার খোলার সুযোগ নেই। তবে চলমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের টেলিভিশন, অনলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমের সাহায্যে পাঠদান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল হোসেন বলেন, বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, শীতে করোনার প্রকোপ বাড়বে। করোনার প্রকোপ বাড়লে তো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কোনো সুযোগ থাকবে না। করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রাথমিক পর্যায়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডার পর্যালোচনা করে আগামী ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। এর মধ্যেও যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা না যায় তবে তো অটো প্রমোশন ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। -ডেস্ক রিপোর্ট