এ টি এম শামসুজ্জামান। পুরোনো ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম) একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান আর নেই। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর পুরান ঢাকার সূত্রাপুর এ নিজ বাসায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এ টি এম শামসুজ্জামানের মেয়ে কোয়েল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আব্বা আর নেই। গতকাল বিকেলে হাসপাতাল থে‌কে আব্বাকে বাসায় নিয়ে আসছিলাম। উনি হাসপাতালে থাকতে চাইছিলেন না। আমি রাত ২টা ৩০ মিনিটে আব্বার বাসায় আসছি।’ বাবার আত্মার শান্তির জন্য তিনি সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

গত বুধবার তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে পুরান ঢাকার আজগর  আলী হাসপাতালে ভর্তি হন এ টি এম শামসুজ্জামান। হাসপাতালে তিনি ডা. আতাউর রহমান খানের তত্ত্বাবধানে ছিলেন।গতকাল শুক্রবার বিকেলে তাকে হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

এর আগে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ অসুস্থ হন এ টি এম শামসুজ্জামান। তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিন ব্লকের তৃতীয় তলায় তার চিকিৎসাসেবা চলে।

১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন এ টি এম শামসুজ্জামান।সহকারী পরিচালক হিসেবে তিনি প্রথমে চলচ্চিত্রাঙ্গণে পা রাখেন। উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ সিনেমায় সহকারী পরিচালক হিসেবে প্রথম কাজ শুরু করেন তিনি।অভিনেতা হিসেবে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ১৯৬৮ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত ‘এতটুকু আশা’ ছবির মাধ্যমে।এরপর ১৯৭৬ সালে আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘নয়নমণি’ চলচ্চিত্রে খলনায়ক হিসেবে তিনি আলোচনা আসেন।

এ টি এম শামসুজ্জামান প্রথম কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছিলেন ‘জলছবি’ সিনেমার। ২০০৯ সালে ‘এবাদত’ নামে প্রথম সিনেমা পরিচালনা করেন।  যাতে অভিনয় করেন রিয়াজ ও শাবনুর। অসংখ্য চলচ্চিত্রের কাহিনী, সংলাপ ও চিত্রনাট্য রচনা করেছেন তিনি।

১৯৮৭ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘দায়ী কে’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে প্রথম বারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান এ টি এম শামসুজ্জামান। ২০১২ সালে রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘চোরাবালি’ ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের জন্যে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি।২০১৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা পান এ টি এম শামসুজ্জামান।এ ছাড়া শিল্পকলায় অসামান্য অবদানের জন্য ২০১৫ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। -ডেস্ক