*পরীক্ষা শুরুর ৩৮ মিনিটের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন

*২০১৮ সালের প্রশ্ন দিয়েই কোনো কোনো কেন্দ্রে পরীক্ষা
*৪০ মিনিট থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে পরীক্ষা শুরু
*প্রশ্ন সংকটের কারণে ফটোকপি করে সরবরাহ
*পরীক্ষার্থী ২১৩৫৩৩৩ জন অনুপস্থিত ৪৯৭৮
*একজন কেন্দ্র সচিবসহ বহিষ্কার ২৫ শিক্ষার্থী

(দিনাজপুর২৪.কম) এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস রোধে তীক্ষ্ম গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যেই পরীক্ষা চলাকালীন ফেসবুকে এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বাংলা প্রথমপত্রের নৈর্ব্যক্তিক ও বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নের ছবি পাওয়া গেছে। কার্যত শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির কঠিন নজরদারিতেও তা রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪০ মিনিট থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৮ সালের প্রশ্ন দিয়েও পরীক্ষা নেয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। আবার প্রশ্ন সংকটের কারণে ফটোকপি সরবরাহ করার খবর পাওয়া গেছে। ফলে শুরুতে এক হ-য-ব-র-ল অবস্থার মধ্য দিয়েই নেয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার প্রবেশদ্বার খ্যাত এসএসসি পরীক্ষা।গতকাল থেকে দেশের ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩৩ শিক্ষার্থী তিন হাজার ৪৯৭টি কেন্দ্রে একযোগে শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত এসএসসিতে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথমপত্র, সহজ বাংলা প্রথমপত্র এবং বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি প্রথমপত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর দাখিলে কুরআন মাজিদ ও তাজবিদ এবং এসএসসি ভোকেশনালে বাংলা-২ (১৯২১) (সৃজনশীল) (নতুন-পুরাতন সিলেবাস) ও দাখিল ভোকেশনালে বাংলা-২ (১৭২১) (নতুন-পুরাতন সিলেবাস) বিষয়ের পরীক্ষা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।গতকাল সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার পরই ১১টা ২০ মিনিটে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রশ্নের ছবি আপলোড করা হয়। সেই প্রশ্নের সঙ্গে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্ন মিলিয়ে দেখা গেছে, নৈর্ব্যক্তিক না মিললেও বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন হুবহু মিলে গেছে। ওই প্রশ্ন ‘ফাঁস’ করার উদাহরণ দেখিয়ে পরবর্তী পরীক্ষার প্রশ্নের জন্য টাকাও চাওয়া হচ্ছে। তবে পরীক্ষা শুরুর ৩৮ মিনিটের মধ্যেই বহুনির্বাচনী প্রশ্ন পোস্ট করা হয়। এ পোস্টের প্রশ্নগুলো একটু ঝাঁপসা থাকায় ইনবক্সে পরিষ্কার ছবি এবং বহু নির্বচনীর সমাধান চেয়ে কমেন্ট করছেন পরীক্ষার্থীর অভিভাবকেরা।এই বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির প্রধান ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিয়াউল হক বলেন, প্রশ্ন বাইরে আসার কোনো সুযোগ নেই। হতে পারে কোনো পরীক্ষার্থী হয়তো এক ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে গেছে, সে ফেসবুকে ছবি দিয়েছে। কারণ, পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা পর যদি কেউ বেরিয়ে যেতে চায়, বের হতে দেয়ার অনুমতি আছে। কিন্তু এভাবে প্রশ্ন আপলোড করে দিলে, এরপর থেকে তাহলে বলে দিতে হবে, পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা পর যারা বের হবে; তাদের কাছ থেকে প্রশ্ন রেখে দেয়ার জন্য। তারা প্রশ্ন নিয়ে পরীক্ষার হল থেকে বের হতে পারবে না। এটা করা যেতে পারে।রাজধানীর আশকোনায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন, সারাদেশের কোথাও কেউ প্রশ্নফাঁসের অপচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।পরীক্ষা শুরুর আগ মুহূর্তে প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আশা করছি সারাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে সব পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। আমরা শিক্ষক, অভিভাবক ও পরীক্ষার্থী সবার কাছে পূর্ণ সহযোগিতা আশা করছি।সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা চাই এবারো প্রশ্নফাঁস ও নকলমুক্ত পরীক্ষা হোক। এখন পর্যন্ত ভালোভাবেই হচ্ছে। কোথাও কোনো নেতিবাচক খবর পাইনি। আর গত বছর কোনো প্রশ্ন ফাঁস হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন। এ বছরও সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। এবার আরও জোরদার করা হয়েছে যেন প্রশ্নফাঁস না হয়। তীক্ষè গোয়েন্দা নজরদারি চলছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কোনো অপচেষ্টার প্রমাণ পেলে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তিনি আশা করছেন, দেশের কোথাও কেউ এ ধরনের অপচেষ্টায় যুক্ত হবেন না। আর কেউ অপচেষ্টায় যুক্ত হয়েছেন এমন তথ্য পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। অভিভাবক, শিক্ষক ও পরীক্ষার্থী কেউ কোনো ধরনের অপচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত হবেন না। চাহিদা না থাকলে প্রশ্নফাঁস করার কোনো আগ্রহ থাকবে না। কাজেই সবাইকে এটা পালন করতে হবে।এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার আগে থেকেই তৎপর শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তারা। তবে মন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের পর শিক্ষা বোর্ডগুলো পরীক্ষা চলাকালে বাড়তি সতর্ক ব্যবস্থা হাতে নিয়েছে। এবার প্রশ্ন ফাঁস এবং নকল রোধে কঠোর নীতি অবলম্বন করছে শিক্ষা বোর্ড। এবার প্রশ্নপত্রের সেট অনেক বেশি। তবে এবার কত সেট ছাপা হবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য কাউকে জানানো হয়নি।শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষার আগেই জেলা প্রশাসকদের কাছে প্রশ্নপত্র পৌঁছে দেয়া হবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে জেলা প্রশাসকদের মোবাইল নম্বরে সংশ্লিষ্ট জেলার প্রশ্ন সেট জানিয়ে দেয়া হবে। সেই অনুযায়ীই কেন্দ্র সচিবদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়।ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে আরও জানা গেছে, মডারেটরদের আলাদা আলাদাভাবে প্রশ্ন চূড়ান্ত করার পর সিলগালা করে বোর্ডের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেন। সিলগালা অবস্থায়ই প্রশ্নপত্র পাঠানো হয় আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সাব কমিটির প্রধান ও ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে। অন্য শিক্ষাবোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানরাও জানতে পারবেন না কোন সেট ছাপা হচ্ছে। প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এবার সিকিউরিটি টেপ ব্যবহার না করে আরও আধুনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রশ্নফাঁস রোধে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল পেপারের খামে প্রশ্নপত্র পাঠানো হয় প্রতিটি কেন্দ্রে। তাই খাম খোললেই ধরা পড়ে যাবে।শেরপুরের শ্রীবরদীতে ৭৪ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থীকে ২০১৮ সালের প্রশ্নপত্র দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার মথুরানাথ বিনোদিনী পাইলট (এমএনবিপি) সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের কয়েকটি কক্ষে এমন ঘটনা ঘটে।পরীক্ষার্থীরা জানায়, পরীক্ষার প্রায় এক ঘণ্টা পর তারা দেখতে পায় তাদের প্রশ্নপত্র ২০১৮ সালের। এতে বিপাকে পড়ে পরীক্ষার্থীরা। এমএনবিপি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের হলসুপার মনিরুজ্জামান জানান, বোর্ড থেকে এসএসসি পরীক্ষার ২০০ প্রশ্নপত্রের একটি প্যাকেটের ওপরে লেখা ছিল ২০১৯ সালের প্রশ্নপত্র। কিন্তু ভেতরে কিছু প্রশ্নপত্র ছিল ২০১৮ সালের। এখানে ৭৪ জন শিক্ষার্থীর কাছে এসব প্রশ্নপত্র দেয়া হয়েছিল। এসব প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থীদের নজরে আসে বিষয়টি। পরে কর্তৃপক্ষ ২০১৮ সালের প্রশ্নপত্র ও খাতা ফেরত নিয়ে ২০১৯ সালের প্রশ্নপত্র ফটোকপি করে প্রায় এক ঘণ্টা পর পরীক্ষার্থীদের হাতে দেয়া হয়। এ জন্য পরীক্ষার্থীদের সময় বাড়িয়ে দেয়া হয়েছিল।একই ঘটনা ঘটেছে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার চাম্পাফুল এপিসি বিদ্যালয়ে কেন্দ্রে। তবে এই ঘটনায় কেন্দ্র সচিব সুখলাল বাইনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ২০১৮ সালের প্রশ্নপত্র দিয়ে ৪৮ জন পরীক্ষার্থীর চলতি বছরের বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষা নেয়া হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা পর নতুন প্রশ্নপত্রে তাদের আবারো পরীক্ষা নেয়া হয়। ফলে তিন ঘণ্টার পরীক্ষা ছয় ঘণ্টা দিয়েছে তারা।বিষয়টি স্বীকার করে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহীন বলেন, ২০১৯ সালের প্রশ্নপত্র বণ্টনের প্রায় তিন ঘণ্টা পর বিষয়টি সবার নজরে আসে। পরে যশোর শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি নিয়ে তাদের নতুন বছরের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। চাম্পাফুল এপিসি বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৪৪০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৮ জন পরীক্ষার্থীর হাতে যায় ২০১৮ সালের বাংলা প্রথমপত্রের প্রশ্নপত্র। তারা ওই প্রশ্নে পরীক্ষাও দেয়। পরীক্ষা শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে বিষয়টি জানাজানি হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাদের উত্তরপত্র সংগ্রহ করে নেয়া হয়। তাৎক্ষণিকভাবে যশোর শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি নিয়ে ওই ৪৮ জনের চলতি বছরের প্রশ্নপত্রে আবার পরীক্ষা নেয়া হয়। বেলা ১টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে তাদের পরীক্ষা।চট্টগ্রামের চারটি কেন্দ্রেও ২০১৮ সালের প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে যে চার কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্র দেয়া হয়েছে, সেগুলো হলো নগরীর ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও মিউনিসিপ্যাল মডেল উচ্চ বিদ্যালয় এবং কক্সবাজারের পেকুয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও উখিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র। তবে কত জন পরীক্ষার্থী এই ভুলের শিকার হয়েছে, তা জানাতে পারেনি শিক্ষা বোর্ড।চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহবুব হাসান বলেন, এবার বাংলা পরীক্ষা ২০১৬, ২০১৮ এবং ২০১৯ সালের সিলেবাসের প্রশ্নপত্র অনুসারে হওয়ার কথা। এর মধ্যে চারটি কেন্দ্রে কেন্দ্র সচিবদের ভুলে ২০১৯ সালের সিলেবাসে যাদের পরীক্ষা দেয়ার কথা, তাদের মাঝে ২০১৮ সালের সিলেবাস অনুসারে প্রণিত প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছে। তবে এতে পরীক্ষার্থীরা যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে ব্যবস্থা অবশ্যই করা হবে বলেন জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।এদিকে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার একটি কেন্দ্রে পরীক্ষা শুরু হওয়ার ৪০ মিনিট পর রচনামূলক প্রশ্ন হাতে পায় পরীক্ষার্থীরা। এই কেন্দ্রে সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫৭৬ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।কেন্দ্রের একাধিক পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষার বোর্ড নির্ধারিত রচনামূলক প্রশ্ন কেন্দ্রে না থাকায় উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ করে প্রায় ৪০ মিনিট পর তা বিতরণ করেন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।দুয়ারিয়া এজি মডেল একাডেমির অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মো. আবু সেলিম ভূইয়া জানান, সকালে প্রশ্ন আনতে গিয়ে আমাদের কেন্দ্রে প্রশ্নের প্যাকেটে প্রশ্ন কম মনে হলে বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তাকে জানাই। তখন তিনি কেন্দ্রে এসে প্যাকেট খুলতে বলেন। তখন প্যাকেট খুলে দেখতে পান, প্রশ্নের যে সেটে পরীক্ষা নেয়ার কথা সেই সেটটি আমাদের প্যাকেটে নেই। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ করে দিলে পরীক্ষা শুরু করা হয়।এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবীন্দ্র চাকমা জানান, দুয়ারিয়া এজি মডেল একাডেমি কেন্দ্রে বোর্ড নির্ধারিত প্রশ্নের সেট না থাকায় পরীক্ষা বিলম্বিত হয়। পরে পরীক্ষার্থীদের লস্ট সময় ৪৫ মিনিট দেয়া হয়। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।এবার মাধ্যমিকের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেয়া মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০ লাখ ৬৪ হাজার ৮৯২ জন ছাত্রী এবং ১০ লাখ ৭০ হাজার ৪৪১ জন ছাত্র। এবছর ২৮ হাজার ৬৮২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়। বিদেশের আট কেন্দ্রে এসএসসিতে বসেছে ৪৩৪ জন শিক্ষার্থী।আট বোর্ডের অধীনে এসএসসিতে ১৭ লাখ ১০২ জন, কারিগরি বোর্ডের অধীনে দাখিলে তিন লাখ ১০ হাজার ১৭২ জন এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে এসএসসি ভোকেশনালে এবার এক লাখ ২৫ হাজার ৫৯ জন শিক্ষার্থী মাধ্যমিকের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে সাধারণ শিক্ষাবোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র এবং মাদ্রাসা বোর্ডে কুরআন মাজিদ পরীক্ষায় ৪৯৭৮ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করার দায়ে বহিষ্কৃত হয়েছে ২৪ জন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে কারিগরির ১৩ জন, মাদ্রাসার ছয়জন এবং সাধারণ বোর্ডের পাঁচজন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানায়, সাধারণ আট বোর্ডের মধ্যে ঢাকা বোর্ডে অনুপস্থিতির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ বোর্ডে ১৩৯৬ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। অনুপস্থিতিতে রাজশাহী বোর্ড দ্বিতীয় অবস্থানে ৭৬২ জন। এ ছাড়া কুমিল্লা বোর্ডে ৬৩১, যশোর বোর্ডে ৪৬৩, দিনাজপুর বোর্ডে ৫৪১, সিলেট ৩১৮, বরিশালে ৩৯০, চট্টগ্রামে ৪৭৭ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল।শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছেন, এবারো পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করে আসন গ্রহণ করতে হয়েছে। তবে গত ২৮ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রে বলেছে, অনিবার্য কারণে কোনো পরীক্ষার্থী এর পর (পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে) পরীক্ষা কেন্দ্রে এলে রেজিস্ট্রারে নাম, ক্রমিক নম্বর ও বিলম্বের কারণ উল্লেখ করতে হবে। বিলম্বে আসা পরীক্ষার্থীদের তালিকা প্রতিদিন কেন্দ্র সচিব সংশ্লিষ্টবোর্ডকে অবহিত করবে। কেন্দ্র সচিব ছাড়া অন্য কেউ পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। কেন্দ্র সচিব ছবি তোলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধাবিহীন একটি সাধারণ (ফিচার) ফোন ব্যবহার করতে পারবেন।দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সেরিব্রাল পালসিজনিত প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই এমন প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী স্ক্রাইব (শ্রুতি লেখক) সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। এ ধরনের প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় দেয়া হবে। এ ছাড়া অটিস্টিক ও ডাউন সিনড্রোম প্রতিবন্ধীরা অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময়ের পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক বা সাহায্যকারীর বিশেষ সহায়তায় পরীক্ষা দিতে পারবে। -ডেস্ক