(দিনাজপুর২৪.কম) এমকে টেলিভিশনের সি ই ও এবং সংবাদ পাঠক এম কে ইসলাম বাবু ওরফে খোরশেদুল ইসলাম বাবু আমাদের মাঝে আর নেই। তিনি না ফেরার দেশে চলে গেছেন । ইন্নালিল্লাহি.. রাজিউন…..।
তার স্বপ্ন ছিল একজন সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। তাই ভারত থেকে ডিগ্রী নিয়ে আসার পরও হতাশ হয়ে পড়লো সে। দেশে তার মুল্যয়নের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। হয়তো এভাবেই মেধাবীরা দেশ থেকে পালানো চিন্তা করে সে ও চিন্তা করে ছিল কিন্তু বাবু তার দেশকেই বেশী ভালবাসতো বলে যেতে পারেনি। যায়নি। করলে এই মাটিতেই কিছু করা যায়। কিছু করতে হবে। তাই অনলাইন ভিত্তিক টিভি চ্যানেল আয়না টিভি নামে উদ্যোগ গ্রহন করেন যা এদেশে প্রথম ।
তার ইচ্ছা শক্তি প্রবল। কিন্তু শুধুই কিন্তু, নানা প্রতিকুলতা এসে গ্রাস করে। মেধাবী এই যুবককের স্বপ্ন ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে নিজেকে পরিবারের মাঝে প্রশ্ন বিদ্ধ করে। অভিমানীর কথা কেউ বোঝে না। তবু দেশের মাটি থেকেই শুরু করেন অনলাইন কার্যক্রম। বোঝে না সমাজ। সমাজের যাতাকলে পরিবারের ভ্রু কুচকিয়ে যায়।
প্রথমে ছোট ছোট ধাপে মিডিয়ার সাথে সম্পৃক্ত তারপর এড জগতে বিশ^চিন্তার ঝিলিক দেবার চেষ্টা। ছবি কথা বলে। সঞ্চয় হোক স্বপ্নপূরণ, হাসি খুশি সবার জীবন। এই প্রতিপাদ্যে পুবালী ব্যাংকের এই এডে নিজেকেই মডেল রুপে তুলে ধরা। এভাবে মিডিয়ার জগতে তার প্রতিভার বিকাশ করতে থাকে। পাশাপাশি অনলাইন মার্কেটিং এবং সি এন্ড এফ এর কার্যক্রম।
ইতোমধ্যে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব প্রিয় হাবিব ভাইকে পেয়ে সরাসরি তার সাথে সম্পৃক্ত হন। পরিবারিক ভাবে সক্ষতা থাকলেও এই জগতে অভিমানী প্রতিভাবানদের নিয়ে কাজে যোগ দিলেন স্ব-উদ্যোগে। নিজেকে যুক্ত করে ফেললেন এম কে টেলিভিশনের সাথে। কি করেননি- মিউজিক ভিডিও, নাটক, এড থিম, থিম ভয়েজ ইত্যাদি। এরপর নিজেই শুরু করলেন সংবাদ পরিবেশনা। আরো পরিচিত হয়ে ওঠলো দেশ ও বিদেশের মাটিতেও। আরো একধাপ এগুলো তার কার্যক্রম।
সদা হাস্যজ্জল যুবকটিকে সবাই এক নামেই চিনতো। বাবু ভাই। সেই প্রতিবাদী, মেধা সম্পূর্ণ এবং প্রতিভার অধিকারী খোরশদেুল ইসলাম বাবু ওরফে এম কে ইসলাম বাবু। সে পার্বতীপুর শহররে কালীবাড়ী ইসলামপুর মহল্লার অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার মোফাজ্জল হোসনেরে পুত্র । মা খালদো খানম ছিলেন এ্যসল্যিান্ড আফসিরে প্রধান হসিাব রক্ষক। তার গ্রামরে বাড়ী যশাই হয়বৎপুর গ্রাম।ে

খোরশেদুল ইসলাম বাবু গেল ২১ অক্টোবর মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১১ টার সময় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৪ বছর।
কাজের জন্য ঢাকায় গেলে শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করলে বাড়ি ফিরলে সেই রাতেই হঠাৎ করেই শ্বাসকষ্ঠ তীব্র হলে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শরিরের পরিস্থিতি আরো অবনতি হলে জরুরী ভিত্তিতে ঢাকায় স্থানান্তর করে আই সি ইউ তে রাখা হয়। ইতোমধ্যে কিছুটা উন্নতির লক্ষন দেখা দিলে আই সি ইউ থেকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয় , কিন্তু দুঃখের বিষয় হঠাৎ করেই পরদিন রাতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
পরিবারে বাবা, মা, ছোট বোনসহ স্ব-স্ত্রী ও একমাত্র পূত্র সন্তানসহ অসখ্য শুভাকাংখী ও গুনগ্রাহী রেখে রেখে না ফেরার দেশে চলে গেলেন।
বধুবার বিকেল ৪টায় তার জানাজা শেষে নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন কার্য সম্পন্ন করা হয়।
মৃত্যুর আগের রাতে অক্সিজেন মুখে এম কে টেলিভিশনের চেয়ারম্যানের মাধম্যে সকলের কাছে দোয়া চেয়েছিলেন। কিন্তু তার আর নিউজ ডেস্কে ফেরা হলো না। সংবাদ জগতসহ মিডিয়া জগতের এক জ¦লন্ত তারা খসে পড়লো। হারালো এম কে টেলিভিশন আর এক মেধাবী স্বত্ত্বাকে। তিনি ছিলেন এম কে টেলিভিশনের চীফ এক্সকিউটিভ অফিসার। (সি ই ও)।
একই ভাবে এম কে টেলিভিশনের আর একজন প্রতিভাবান স্পোর্টসম্যান খ্যাত সাইফ উদ্দিন আহম্মেদ লাবু। তিনিও এম কে টেলিভিশনে সংবাদ পাঠ করতেন। এ ছাড়া তারা দু’জন একে ওপরের ভায়রা ভাই। কিন্তু আশ্চর্য জনক , লাবুর অকাল মৃত্যুর সংবাদটি বাবুই পরিবেশন করেছিলেন। দুই প্রতিভাবান ব্যক্তিকে একই ভাবে হারিয়ে এম কে টেলিভিশন পরিবার শুধু মানসিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি ক্ষতিগ্র¯ হয়েছে এই অঞ্চলের মানুষেরাও। এমকে টেলিভিশন পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা তাদের আতœার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি । -প্রেস বিজ্ঞপ্তি