(দিনাজপুর২৪.কম)বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডাব্লিউটিসি)’র নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত যাত্রীবাহী জাহাজ ‘এমভি মধুমতি’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২ টায় গণভবন থেকে সরদঘাট টার্মিনালের বুড়িগঙা নদীতে অবস্থানকারী এম ভি মধুমতি জাহাজে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি এটির উদ্বোধন করেন। যাত্রীবাহী জাহাজ এম ভি মধুমতি ছাড়াও ‘ভাষা সৈনিক ডা. গোলাম মাওলা’ ও ‘কুসুমকলি’ নামে দুটি ফেরি উদ্বোধন করেন। ডিভিও কনফারেন্সে অংশ নেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান ও ঢাকা-৬ আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফিরোজ রশিদ।এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব বেগম জিকরুর রেজা খান, বিআইডাব্লিউটিসি’র চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, বিআইডাব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর এম মোজাম্মেল হক, নৌ-পুলিশের ডিআইডি মো. মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন বীর বিক্রম।

উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিরা বলেন, ‘অতীতের নৌপথকে অবহেলার চোখে দেখা হতো। কিন্তু যাত্রী ও মালামাল পরিবহনে আরামদায়ক ও সহজ মাধ্যম নৌপথ। নৌ পথকে সম্প্রসারণ ও কার্যকর ব্যবহারে বর্তমান সরকার যুযোপযোগী সব সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় যাত্রীবাহী জাহাজ এমভি মধুমতি ও দুটি ফেরি উদ্বোধন করা হলো।’

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সামনে ঈদ। এই সময়ে যাত্রীবাহী একটি জাহাজ ও দুটি ফেরি সংযোজনের ফলে তা যাত্রী সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’প্রধানমন্ত্রী বিএনপি’র সমালোচনা করে বলেন, ‘তারা যতি এতগুলো বাস না পোড়াতো,  লঞ্চে যদি আগুন না দিতো, রেলের উপর ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড না চালাতো তাহলে আমরা আরো ভালোভাবে যাত্রীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে পারতাম।’

বিআইডাব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-বরিশাল নৌপথে স্বাচ্ছন্দ্য ও আরামদায়ক যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হবে অত্যাধুনিক যাত্রীবাহী জাহাজ এমভি মধুমতি। প্রায় ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিলাসবহুল এ জাহাজের যাত্রীধারণ ক্ষমতা ৭৫০ জন। দ্বিতলাবিশিষ্ট জাহাজটির যাত্রী ধারণক্ষমতা ৭৫০ জন। দৈর্ঘ্য ৭৫.৫০ মিটার এবং প্রস্থ ১২.৫০ মিটার। জাহাজটিতে ভিআইপি ফ্যামিলি স্যুট ৪টি  (গোলাপ, শাপলা, টিউলিপ, পদ্ম)। প্রথম শ্রেণির সিঙ্গেল ফ্যামিলি স্যুট (ডাবল বেডের কাপড়) ১৮টি, প্রথম শ্রেণির সিঙ্গেল কেবিন ৪টি। প্রথম শ্রেণির ডাবল কেবিন ৩৪টি এবং দ্বিতীয় শ্রেণির চেয়ার সিট ৪২টি। ডেকে প্রায় ৫৫০ যাত্রীর স্থান সংকুলান হবে। জাহাজটি জাপানি শক্তিশালী দু’ইঞ্জিনবিশিষ্ট। বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড এটি নির্মাণ করেছে।(ডেস্ক)