বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। পুরোনো ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম) কুয়েতে গ্রেপ্তার লক্ষীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলদের অপকর্মের দায় সরকার কোনোভাবে এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য চরম লজ্জার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আজ বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনলাইন ভিডিওতে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকে গত ১২ বছরে মালয়েশিয়া, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। মানবপাচার ও হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে কুয়েতে লক্ষীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলকে দেশটির সরকার গ্রেপ্তার করেছে। এ সব পাপুলদের অপকর্মের দায় সরকার কোনোভাবে এড়াতে পারে না।’

গত সোমবার দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কুয়েতে ভিসা বাণিজ্যের নামে মানবপাচার ও অবৈধ মুদ্রা পাচারের অভিযোগে আটক এমপি কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলকে রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির পাবলিক প্রসিকিউটর। কুয়েতের সিআইডির (ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

পাপুলকে গ্রেপ্তারের পর তাকে নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমসহ দেশের বিভিন্ন মিডিয়াতে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য চরম লজ্জার হলেও সরকারের টনক নড়েনি বলে উল্লেখ করেন রিজভী।

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘বিগত ১২ বছরে সুইস ব্যাংকসহ মালয়েশিয়া, কানাডায় লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে ক্ষমতা সংশ্লিষ্টরা। ব্যাংক লুট, শেয়ার বাজার লুট, মেগা প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার মহাদুর্নীতি, দখল ও নিয়োগ-বাণিজ্যের মাধ্যমে দেশজুড়ে যে লুটের মহোৎসব চলছে-কুয়েতে এমপি পাপুল গ্রেপ্তার তারই একটি নমুনা মাত্র।’

সরকারের ব্যর্থতায় প্রতি দিনই করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘সরকারি প্রেসনোটে প্রতিদিন যে খবর প্রকাশিত হচ্ছে, বাস্তবতার সাথে তার কোনো মিল নেই। একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার একটি ভেন্টিলেটরের জন্য মানুষ হাহাকার করছে।’

রিজভী বলেন, ‘করোনা মোকাবিলায় সমন্বিত ও গোছানো কোনো কাজ হয়নি। সরকারের মন্ত্রী ও নেতাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তার মাধ্যমে তারা এই সংকটকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের দুর্দশা চরম আকারে, অসুস্থ মানুষ হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরে চিকিৎসা পাচ্ছে না, জনগণ দিশেহারা হয়ে রাস্তাতেই ঘুরতে ঘুরতে প্রাণ হারাচ্ছে। দিনের পর দিন ঘুরেও করোনার পরীক্ষা করানো যাচ্ছে না। এই সরকারের স্বাস্থ্যসেবা এমনই যে, করোনা আক্রান্ত মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।দেশজুড়ে চলছে শোকার্ত মানুষের আহাজারি।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের ইয়াসীন আলী, মোর্শেদ আলম  ও ছাত্রদলের কাজী ইফতেখাররুজ্জামান শিমুল। -ডেস্ক