(দিনাজপুর২৪.কম) আগের সব শর্তের সঙ্গে আরও কিছু শর্ত যুক্ত করে এবার নতুন ১৯ দফা নিয়ে মাঠে নামছে বিএনপি! দলের শীর্ষ নেতাদের দাবি, এরই অংশ হিবেবে সারাদেশে জনমত তৈরি করতে ইতোমধ্যেই ওই দফাগুলো নিয়ে কাজ শুরু করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। জনমত বাড়ানোর পর এসব দাবি নিয়ে দলটি রাজপথের আন্দোলনে নামবে বলেও দাবি করা হচ্ছে। এই লক্ষ্যে জনস্বার্থ সংশ্লিস্ট ওই ১৯ দফা সম্বলিত একটি প্রচারপত্র পোস্টার আকারে তৈরি করে তা এরই মধ্যে সারাদেশে পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, জাতীয় সম্পদ, জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে খালেদা জিয়ার ডাক সংবলিত এ পোস্টারটি দলের প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রচার করছেন। ইতোমধ্যে প্রচারপত্রটির লক্ষাধিক কপি সারাদেশের ৭৭ সাংগঠনিক জেলা ইউনিটে পাঠানো পাঠানো হয়েছে। পোস্টার আকারে এগুলো লাগানোর জন্য তাদের নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই সারাদেশে কাজও শুরু হয়ে গেছে বলে দাবি দলটির।
জনমত গঠনের জন্য তৈরি করা এই প্রচারপত্রে খালেদা জিয়া বলেন, সংসদ ভেঙে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে হবে। দেশে গণতন্ত্র এখন অবরুদ্ধ। বাকস্বাধীনতা ও সভা-সমাবেশের অধিকারসহ সব রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। বিতর্কিত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে গঠিত নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও নির্বাচনী ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর দাবিও জানান সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।
প্রচারপত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ পাচার, ব্যাংক লুট, শেয়ার কেলেঙ্কারিসহ রাষ্ট্রের টাকা আত্মসাৎ ও পাচারকারীদের গ্রেপ্তার এবং পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়। অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে- রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করা, প্রশাসন আওয়ামীকরণ, আঞ্চলিকীকরণ বন্ধ এবং বিচার বিভাগকে সরকারের প্রভাবমুক্ত করা, শিক্ষার মান ধ্বংস, পরীক্ষায় কৃত্রিম উপায়ে পাসের হার বৃদ্ধি, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও সরকারি চাকরিতে নিয়োগে দলীয়করণের ঘৃণ্য অপতৎপরতা বন্ধ করা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি ছাত্র সংগঠনের সন্ত্রাস ও দখলদারিত্ব বন্ধ করা, শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
এছাড়াও  আছে সুন্দরবন রক্ষার্থে পরিবেশ বিধ্বংসী ও বিতর্কিত কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুকেন্দ্র প্রকল্প অবিলম্বে বন্ধ করা, সার, কীটনাশক ও বীজের দাম কমানো, পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য কমানো, শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, ধর্মীয় উপাসনালয়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর পরিকল্পিত হামলা বন্ধ, চাল, ডাল, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপণ্যের দাম কমিয়ে জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনা। পাশাপাশি ‘বাজারে আগুন, বিপর্যস্ত জনজীবন’ শিরোনামে আরেকটি পোস্টার তৈরি করা হয়েছে।
একইভাবে বর্তমান সরকারের সঙ্গে বিএনপি সরকারের আমলে নিত্যপণ্য ও সেবাজাতীয় পণ্যের দামের তারতম্য তুলে ধরা হয়েছে এই পোষ্টারে। ক্যাবের (কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) সূত্র উল্লেখ করে বিএনপি হিসেব করে দেখিয়েছে, মোটা চালের দাম বিএনপি সরকারের সময়ে ছিল ১৮.২৫ টাকা এখন দাম ৩৫.৪১ টাকা। বেড়েছে ১৫৮.১৬ শতাংশ। আটার দাম বেড়েছে ৭০.৬৬ শতাংশ, ডাল ১২৬.৪১ শতাংশ, ভোজ্যতেল ১২৮ শতাংশ, লবণ ১৫৯.১৮ শতাংশ, চিনি ৩১ শতাংশ, গরুর গোস্ত ১০৪.২৮ শতাংশ, খাসির গোস্ত ১৮৭.৯০ শতাংশ, পিঁয়াজ ৯৫ শতাংশ ও গুঁড়া দুধ ৯১.৯৬ শতাংশ বেড়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় এ রকম অনেক পণ্যের বর্তমান দাম তুলে ধরার পাশাপাশি জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, গণপরিবহন, বাড়িভাড়া, ট্রেড লাইসেন্স, সিএনজি অটোরিকশা, জমির খাজনা ও সারের দাম বিএনপি সরকারের চেয়ে অনেকগুণ যে বেড়েছে, তা তুলে ধরা হয়েছে।
তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, জনদাবি সংবলিত এই পোস্টার লাগাতে গিয়ে তারা পুলিশসহ ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের বাধার মুখে পড়ছেন। তারপরও সারাদেশে পোস্টার লাগানো হচ্ছে। সারাদেশের জেলা-মহানগর, অঙ্গ-সংগঠনের মাধ্যমে পোস্টার লাগানোর কাজ চলছে। পোস্টারে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ছাড়াও গুম, খুন, অপহরণ ও বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ এবং এসবে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী; অপহৃত সব নাগরিককে পরিবারের কাছে ফেরত প্রদানের দাবিও জানিয়েছেন খালেদা জিয়া। -ডেস্ক রিপোর্ট