(দিনাজপুর ২৪.কম) সাতক্ষীরার জুডিশিয়াল এক ম্যাজিস্ট্রেটের বাসায় দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিল তার কাজের বাসার ছোট্র মেয়েটি। নির্যাতনে তার অবস্থা যুদ্ধবিধ্বস্ত কোনো দেশের অভুক্ত শিশুর মতো হয়ে গেছে। খাবার না দিয়ে দিয়ে তার শরীরের এ অবস্থা করেছে ওই বাড়ির লোকজন।
ওই ম্যাজিস্ট্রেটের নাম নুরুল ইসলাম। তিনি সাতক্ষীরার সিনিয়র জুডিশিয়াল। তার বাসার নির্যাতিত কাজের মেয়েটির নাম বিথী (১০)। সে ঝিনাইদাহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার বড় আসিয়ান গ্রামের রসুল আলীর মেয়ে।
ম্যাজিস্ট্রেটের বাড়িতে শিশু বিথীকে অভুক্ত রেখে নানাভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরে এমন একটি গোপন সংবাদ আসে পুলিশের কাছে। পরে অভিযান চালিয়ে বুধবার বিকালে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। অভিযানে গেলে প্রথমে ম্যাজিস্ট্রেট তার বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি পুলিশকে। পরে চাপাচাপির প্রেক্ষিতে  বিথীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরার সহকারী পুলিশ সুপার আনোয়ার সাঈদ জানান, শিশুটি দীর্ঘদিন ধরে ওই ম্যাজিস্ট্রেটের বাড়িতে থাকে। বেশ কিছুদিন ধরে তার ওপর বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতে থাকে ম্যাজিস্টেটের পরিবারের সদস্যরা। তাকে ঠিকমত খেতেও দিত না। নির্যাতনের ফলে তার শরীরে বড় বড় ঘাঁ সৃষ্টি হয়েছে।
বিষয়টি স্থানীয়রা জানতে পেরে পুলিশ খরব দিলে সহকারী পুলিশ সুপার আনোয়ার সাঈদের নেতৃত্বে বুধবার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালাতে যায় পুলিশ। কিন্তু পুলিশকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে দেননি ম্যাজিস্ট্রেট।
এ অবস্থায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে খরব দেয়া হয়। পরে তিনি আসার পর তার নেতৃত্বে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের বাড়ি থেকে শিশু বিথীকে নিস্তেজ অবস্থায় উদ্ধার করে। বর্তমানে বিথী চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
তবে এ ব্যাপারে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল ইসলামের দাবি, ‘তার ওপর কোনো প্রকার নির্যাতন করা হয়নি। সে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।'(ডেস্ক)