(দিনাজপুর২৪.কম) মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষায় ভালো ফল করা শিক্ষার্থীরা ভাসছেন আনন্দের জোয়ারে। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের আনন্দের মাত্রাটা একটু বেশি। পছন্দের কলেজে ভর্তি হওয়ার প্রত্যাশা সবারই। এসএসসিতে উত্তীর্ণদের নজর বরাবরের মতো সেরা কলেজগুলোর দিকে। কিন্তু এসব কলেজে আসন কম থাকায় কঠিন ভর্তিযুদ্ধের মুখোমুখি হতে হবে তাদের। মোট পাস নয়, মোট জিপিএ-৫-এর চেয়ে সারা দেশে ভালো মানের কলেজে আসন সংখ্যা কম থাকায় এ সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, কলেজগুলোতে শিক্ষার গুণগত মানের ভারসাম্য করতে পারলে এ বৈষম্য কমানো সম্ভব।
শিক্ষামন্ত্রণালয় ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ডগুলো বলছে, এবার মোট পাস করার শিক্ষাথূীর চেয়ে সারা দেশে মোট কলেজের আসন সংখ্যা বেশি। কিন্তু তারপরও দুশ্চিন্তা ভালো কলেজে ভর্তি নিয়ে। কারণ, ঢাকা মহানগরসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহরের ভালো কলেজে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা চালাবে। আর সংকট তৈরি হবে সেখানেই। কারণ, রাজধানীর মোট ১৪৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণি রয়েছে। এসব কলেজে মোট আসন আছে ৪৩ হাজার ৫০০-এর বেশি। এর মধ্যে ভালো মানের কলেজ আছে মাত্র ২০-২২টি, যেখানে আসন সংখ্যা প্রায় ১৯ হাজার। বিপরীত দিকে ঢাকা বোর্ডেই এবার পাস করেছে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪০ জন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৯ হাজার ৪৮১ জন। আবার জিপিএ-৪ থেকে ৫-এর মধ্যে পেয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮৪৮ জন। এই সাড়ে ৬ লাখ শিক্ষার্থী ছাড়াও রাজধানীর বাইরে থেকে প্রচুর শিক্ষার্থী এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার জন্য আবেদন করবেন।
গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দশটি বোর্ডে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬১ জন, যা মোট পাসের মাত্র ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। অন্যদিকে জিপিএ-৪ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৫ জন। যা মোট পাস করা শিক্ষার্থীর ৩১ দশমিক ১৮ শতাংশ। এই দুই ক্যাটাগরির বাইরে জিপিএ-৩ দশমিক ৫ পাওয়ার শিক্ষার্থী এসব কলেজে ভর্তির জন্য লড়বেন।
শিক্ষামন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সময়সূচি ঘোষণা করেছে। আগামী ৯ই মে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে। ওইদিন থেকে ৩১শে মে পর্যন্ত অনলাইন ও এসএমএসে আবেদন নেয়া হবে। ১লা জুলাই থেকে ক্লাস শুরু হবে। এ কারণে শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন কলেজে ভর্তির খোঁজ-খবর নেয়া শুরু করেছেন।
কলেজ সংকটের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, কলেজে আসন নিয়ে কোনো সংকট নেই। আছে ভালো মানের কলেজ নিয়ে। ভালো রেজাল্ট যারা করেছেন তারা ভালো কলেজে ভর্তি হবেন। আমরা অনলাইন পদ্ধতিতে ভর্তি নিচ্ছি। এতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীই তার প্রাপ্ততা অনুযায়ী ভর্তি হতে পারবেন। এখন কলেজ ভর্তিতে যথেষ্ট স্বচ্ছতা এসেছে। সবাইকে ভালো কলেজ ভর্তি করাতে পারলে আমার ভালো লাগতো।
এ ব্যাপারে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সুফিয়া খাতুন বলেন, আমাদের এখানে তিনটি বিভাগের মোট ১৮০০-এর বেশি আসন আছে। এই আসনের বিপরীতে আবেদন পড়বে কমপক্ষে দেড় লাখ। এদের মধ্যে থেকে যাদের নম্বর বেশি তারাই সুযোগ পাবে। তিনি বলেন, এখান থেকে মাধ্যমিকে পাস করেছে প্রায় ১২০০ শিক্ষার্থী। তারা অগ্রাধিকার বলে আগে সুযোগ পাবে। তারপর বাকি আসনগুলোতে বোর্ড নমিনেশন দেবে।
একই অবস্থা অন্যান্য নামিদামি কলেজগুলোতে। প্রায় প্রত্যেকটি কলেজে মাধ্যমিক শাখা থাকায় সেখান থেকে এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীরা ওই কলেজে থেকে যায়। চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট জিপিএ-৫ ধারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬১ জন। জিপিএ-৫ এর চেয়ে কম কিন্তু জিপিএ-৪ কিংবা তার চেয়ে বেশি পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৫ জন। মূলত এই দুটি ক্যাটাগরির শিক্ষার্থীর লক্ষ্য থাকে নামকরা কোনো কলেজে ভর্তি হওয়া। কিন্তু রাজধানী ও বিভাগীয় শহরগুলোসহ সারা দেশে জেলা পর্যায়ে এমন কলেজের সংখ্যা তুলনামূলক কম।
বাংলাদেশ শিক্ষা, তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) হিসেবে দেখা গেছে, সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৮ হাজার ৮৬৪টি। যার মধ্যে মানসম্মত কলেজের সংখ্যা মাত্র পৌনে দুইশ’। এসব কলেজে আসন সংখ্যা ৪৮ হাজারের মতো। তাই ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে যদি দেড় লাখও ওইসব কলেজ টার্গেট করে, সে ক্ষেত্রেই জটিলতা দেখা দেবে। তারা চাইলেও পছন্দের কলেজে ভর্তি হতে পারবে না। ব্যানবেইসের হিসাবে, ঢাকা বিভাগে ৭০টি, রংপুর বিভাগে ২৯টি, বরিশাল বিভাগে ১২টি, রাজশাহী বিভাগে পাঁচটি, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৭টি, খুলনা বিভাগে ১১টি এবং সিলেট বিভাগে ২২টি মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব কলেজে স্ব-স্ব বিভাগের জিপিএ-৫ ধারীরাও ভিড় করলে সবার সংস্থান হবে না। সেক্ষেত্রে বাকিদের জন্য তেমন কোনো ভালো খবর প্রত্যাশা করা যায় না। -ডেস্ক