(দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরের খানসামায় চলতি বোরো মৌসুমে অনেক এলাকায় বেরো মৌসুমে ব্রিধান-২৮ ক্ষেতে ব্যাপকহারে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। ধানের সাদা শিষ আর লালচে পাতার রঙ থেকে ক্ষেত বাঁচাতে চাষিরা ছুটছে কীটনাশকের দোকানে। সরজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার গোবিন্দপুর, বাসুলী, হাসিমপুর, পাকেরহাট, আঙ্গারপাড়া ও জয়গঞ্জসহ বেশ কিছু এলাকায় ধানক্ষেতে নেক ব্লাস্ট ও পাতা ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ হয়েছে। ধান গাছের পাতা আগুনে ঝলসে যাওয়ার মত লালচে রঙ এবং অনেক ধানক্ষেতে থোড় থেকে শিষ বের হওয়ার পর পরই শিষ ব্লাস্ট রোগের আক্রমণে সাদা হয়ে নষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে ব্রিধান-২৮’র ক্ষেতে এ রোগের আক্রমণ দেখা গেছে অধিক পরিমাণে। আক্রান্ত এসব ধানক্ষেত দূর থেকে দেখতে পাকা ধানের মত দেখালেও ধানের শিষ শুকিয়ে চিটায় পরিণত হয়েছে। কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ৪ হাজার ৬২৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান রয়েছে। এরপর ব্রিধান-২৮ জাত রয়েছে ৩ হাজার ৬৫৫ হেক্টর জমিতে। উপজেলার অনেক এলাকায় কৃষকের চাষকৃত এসব ধানে অধিক পরিমাণে শিষ ব্লাস্ট ও পাতা ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ হয়েছে। গত কয়েক দিনে আবহাওয়া শীতল হওয়ায় এ রোগের আরও বিস্তৃতি ঘটছে। এতে করে চাষিদের অনেকে চাষকৃত এসব ক্ষেত থেকে ধানের পরিবর্তে চিটায় পরিণত হয়েছে। হাসিমপুর গ্রামের আব্দুল বারী বলেন, আমি অনেক আশা করে প্রায় ১ বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম এতে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে পাতা ও ধানের শিষ শুকিয়ে সব নষ্ট হয়েছে। প্রায় ৭-৮ বার ওষুধ দিয়েছি কিন্তু কোন প্রকার ফল পাওয়া যায়নি। ধান হয়েছে মাত্র তিন বস্তা। একই কথা বলেন, গোবিন্দপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের কৃষক সাপিয়ার রহমান। তিনি বলেন, আমি এ বছর ১ একর ১২ শতক জমি ৩০ হাজার টাকায় চুক্তি নিয়েছি। এ ক্ষেতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন ধানের শিষগুলো শুকিয়ে সাদা হয়ে গেছে। ২ বার ¯েপ্র ও দানাদার দিয়েছি, কিন্তু কোন ফল পাই নাই। একই এলাকার আমির বলেন, আমার ক্ষেতে ধানের পাতা পুড়ে যাওয়ার মত হয়েছে। ৪ বিঘা জমিতে ২ বার ¯েপ্র করেছি। এছাড়াও গোবিন্দপুর এলাকার আমিজ উদ্দিন, বর্গা চাষী সাহিদুল ইসলামের ধানক্ষেতে শিষ ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ হতে দেখা গেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফজাল হোসেন জানান, রাতে গরম এবং সকালে ঠাণ্ডা হলে এ রোগের বিস্তৃতি ঘটে। তবে ট্রাইসাইক্লাজন অথবা টোবোকোনাল, ট্রাইক্লোক্সিস স্ট্রবিন গ্র“পের ওষুধ ১০ দিন পর পর ¯েপ্র দিয়ে দমন করা যায়। আমরা বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় হাটে বাজারে ক্লাবে এবং গ্র“পে আলোচনা করছি। সেই সাথে লিফলেট ও পরামর্শপত্র বিতরণ করছি।