(দিনাজপুর২৪.কম) কাশ্মিরের পুলওয়ামায় আত্মঘাতী হামলায় সিআরপিএপের ৪৪ জওয়ান নিহতের ঘটনায় যখন ভারতজুড়ে চলছে বিক্ষোভ, ভবিষ্যতে পাকিস্তানের সাথে কী রকম সম্পর্ক রাখা হবে, সেই নিয়ে যখন মাথা ঘামাচ্ছেন সবাই; ভারতের বিভিন্ন স্থানে কাশ্মিরিদের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন সমস্যা চলছে তখন পশ্চিমবঙ্গও মুখোমুখি হয়েছে আরেক সমস্যার। সে সমস্যা সমাধানে আবারো এগিয়ে এসেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি এর সমাধান দিয়ে বলেন, আরো বেশি করে আলু খান।

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে এবার আলুর চাষ হয়েছে প্রচুর। সিঙ্গুর, আরামবাগ, তারকেশ^র, হুগলিসহ বিভিন্ন এলাকায় এবার এত আলুর চাষ হয়েছে যে, ঠিক মতো দাম পাওয়া যাবে কি না তা-ই নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষক। তাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা শুক্রবার বিকেলে পরামর্শ দিলেন, আরো বেশি বেশি করে আলু খেতে। ভাতে আলু, ঝোলে আলু, দমে আলু..।

বাঙালিদের অন্যতম কমন ও প্রয়োজনীয় খাদ্য হচ্ছে আলু। সেই আলু এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি চাষ হওয়ায় মুখে হাসির বদলে চিন্তার ভাজ ফুটে ওঠেছে চাষীদের মুখে। ঠিকমতো দাম পাওয়া যাবে তো! সব আলু বিক্রি হবে তো! কারণ মওশুমের ওই ফলন দিয়েই অধিকাংশ চাষীর সারাবছর সংসার চলে।

মমতা তাই পরামর্শ দেন, বেশি করে আলু খান। তাহলে কৃষকদের ফলানো আলু ভাল বিক্রি হবে। মমতা বলেন, আলু সেদ্ধ, আলু ভাজা, আলু পাপড়ি, আলুর দম খান। আলু দিয়ে মাছের ঝোল খেতেও তো ভাল লাগে। এ বার আলু বেশি হয়েছে। বেশি করে আলু খেলে, বেশি আলু বিক্রি হবে। তবে একই সঙ্গে কৃষকদের উদ্দেশে মমতা বলেন, সামনের বার থেকে অন্য ফসলও ফলানোর চেষ্টা করুন।

কারণ গত বছরও আলুর চাষ বেশি হওয়ায় ভালো দাম পাননি চাষীরা। ফলে হুগলির রতনপুর, আরামবাগের মায়াপুর, গোঘাটের মদিনাসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার উপর আলু ফেলে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন কৃষকরা। অনেকের মতে, এ বছর ভোট রয়েছে। তাই সেখানে যাতে বিক্ষোভের আঁচ যাতে না পড়ে সে ব্যাপারে সতর্ক মুখ্যমন্ত্রী। কৃষকদের অভয় দিয়ে মমতা এ দিন বলেন, চিন্তা করবেন না। সরকার ১০ লক্ষ মেট্রিকটন আলু কিনবে। এর জন্য সরকারের সাড়ে পাঁচশ কোটি টাকা খরচ হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, ‘ওদের এত সাহস যে নিজেদের মতো আইন করে বলবে কে কোথায় থাকবে, কে কোথায় থাকবে না? এত সাহস ওদের, ভাবছে যে শুধু ওরা থাকবে, আর বাকিদের বার করে দেবে! এ সব বরদাস্ত করা হবে না।’

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে দেশপ্রিয় পার্কে দেয়া এক ভাষণে তিনি সরাসরি বিজেপি বা সঙ্ঘ পরিবারের নাম উচ্চারণ না করে বলেন, একশ্রেণির মানুষ নিজের মতো করে অমানবিক, দানবিক ও পাশবিক ধর্ম তৈরি করে দেশের ইতিহাস বদলে দিতে চাইছে। অবশ্য দু’দিন আগেই তিনি বিজেপি, আরএসএস, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ অশান্তির আগুন জ্বালছে বলে অভিযোগ করেছিলেন।

পুলওয়ামার ওই হামলার পর পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের নানা প্রান্তে যেভাবে ‘দেশপ্রেমের নামে’ মানুষকে হুমকি দেয়া, মারধর ও গোলমালের ঘটনা ঘটছে, তা কড়া হাতে মোকাবিলায় প্রশাসনকে আগেই নির্দেশ দিয়েছেন মমতা। এ বার বাংলার মানুষকে এই নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যে কাশ্মীরি শালওয়ালা রোজ এসে শাল দিয়ে যান, হঠাৎ তাকে দরজা থেকে বার করে দেব? যে চিকিৎসক ২০ বছর ধরে এখানে চিকিৎসা করছেন, হঠাৎ করে তার উপর হামলা হবে কেন? কারা এত লাটসাহেব?’

মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন, ‘এ রাজ্যের শিক্ষা, সংস্কৃতি বাঁচাতে সকলকে দৃঢ়চেতা হয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘চাই ভারত এক থাকুক। ভারত মাথা তুলে দাঁড়াক। ভারত উগ্রপন্থার দেশ হতে পারে না। ভারত চিরকালই তেজস্বী। সব ধর্ম, ভাষার মানুষকে আপন করে নিতে হবে। সকলকে ভালবাসতে হবে। যারা এখানে দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করছে, ওদের মেনে নিতে পারি না।’

গত বৃহস্পতিবারই আবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) সর্বভারতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুরেন্দ্র জৈন কলকাতায় এসে বলেন, ‘পুলওয়ামার ঘটনার পর সাধারণ মানুষের ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে। তাই তারা প্রত্যাঘাত শুরু করেছেন। আমরা একে পূর্ণ সমর্থন করি। যারা এর বিরোধিতা করছেন, তাঁরাই আসল দেশদ্রোহী। তাদের ডান্ডা মারা উচিত।’-ডেস্ক