(দিনাজপুর২৪.কম) দারুণ ছক কষেছিলেন হানিফ আর লাল মিয়া। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কর্মীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ন্যায্যমূল্যের ভোজ্য তেল কিনে নিয়েছিলেন তাঁরা। হানিফ মিয়ার বাসার বক্সখাটের ভেতরে সুকৌশলে থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছিল এসব সয়াবিন তেলের বোতল। কিন্তু বিধিবাম! তেলের গন্ধ পেয়ে যায় রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গত বুধবার রাতে রংপুর নগরীর মধ্য পার্বতীপুর এলাকার হানিফ মিয়ার বাসায় অভিযান চালিয়ে অভিনব কায়দায় রাখা বক্সখাটের ভেতর থেকে তুলে আনা হয় এক হাজার ২৩৮ লিটার ভোজ্য তেল। বোতলের হিসাবে দুই লিটারের ২৫৯টি এবং পাঁচ লিটারের ১৪৪টি। সব মিলিয়ে সয়াবিন তেলের দাম ৯৯ হাজার ৪০ টাকা। এ সময় বাসার মালিক হানিফ মিয়া ও মালামাল সরবরাহকারী লাল মিয়াকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ।

এদিকে বাগেরহাটের চিতলমারী সদর বাজারের আবিদ স্টোর থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার টিসিবির ৯২ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করেছেন ইউএনও। তিনি এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ওই দোকানের মালিক ইসমাইল হোসেনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

নড়াইলে টিসিবির ভোজ্য তেল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এক ডিলারসহ পাঁচজনকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালিয়ে টিসিবির ৪৭ লিটার ভোজ্য তেল উদ্ধার করা হয়।

করোনাকালে টিসিবির ভোজ্য তেল নিয়ে এমন তেলেসমাতির মধ্যে ত্রাণ না পেয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে দুস্থ মানুষ। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে খাবারের জন্য হয়েছে বিক্ষোভ। অন্যদিকে জেল-জরিমানায়ও থামছে না চাল নিয়ে কারসাজি। ত্রাণ নিয়ে নয়ছয়ের প্রমাণ মেলায় গতকালও অনেক জনপ্রতিনিধিকে ‘গদি’ ছাড়তে হয়েছে। এদিকে সরকারদলীয় অনেক নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েও যেন ঠেকানো যাচ্ছে না ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম।

সূত্র : কা.কন্ঠ