(দিনাজপুর২৪.কম) কী ব্যাটিং, কী বোলিং। দুটোতেই সমান দাপট। নিজেদের মাঠে বাংলাদেশের সামনে পাত্তাই পেলো না সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ৯০ রানের বিশাল ব্যবধানে হার। শ্রীলঙ্কার মাটিতে বাংলাদেশের এটি দ্বিতীয় জয়। আগেরটায় বৃষ্টির সহায়তা থাকলেও এটা স্্েরফ নিজেদের নৈপুণ্যে। লঙ্কানদের বিপক্ষে সব মিলিয়ে পঞ্চম জয় এটা। তবে ব্যবধানে এটাই সবচেয়ে বড় জয়। ৩২৪ রান করে বাংলাদেশের জয়ের ভিতটা গড়ে দিয়েছিলেন তামিম-সাকিব-সাব্বির। আর বল হাতে সেই ভিতের ওপর জয়ের সৌধ নির্মাণ করেন মাশরাফি-মোস্তাফিজ-মিরাজ। ২৩৪ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। গত সপ্তাহে টেস্ট জয়ের ম্যাচসেরা তামিম ইকবাল ওয়ানডেতেও পেলেন সেই হিরো হাঙ্ক ম্যাচসেরার পুরস্কার।
টসটা জিতেছিল শ্রীলঙ্কাই। কিন্তু এরপর ক্ষণিকের জন্যও খেলায় নিজেদের জয়ের সম্ভাবনা দেখতে পায়নি লঙ্কানরা। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক উপল থারাঙ্গা বাংলাদেশকে খানিকটা অবজ্ঞা ভরেই আগে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সময় যতো গড়িয়েছে সিদ্ধান্তের জন্য ততই নখ কামড়েছেন তিনি। এমন টস হারে এখন স্বস্তিই পাবেন মাশরাফি। জিতলে তিনিও ফিল্ডিং নেয়ার কথা বলেছিলেন আগে।
টেস্টে জেতার পার ওয়ানডতে জেতাটা চ্যালেঞ্জ ছিল মাশরাফির। সময় বদলের নমুনা দেখালো বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। আর এতেই উড়ে গেল সিংহবাহিনী। ফেবারিটের মতোই দাপুটে জয়ে পেলো বাংলাদেশ। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কাকে তাদেরই মাটিতে হারনো যে কোন দলের জন্যই অনেক আরাধ্য। তবে এ বাংলাদেশ যে আর সে বাংলাদেশ নয়, তা অবাক বিস্ময়েই দেখলো ক্রিকেটদুনিয়া।
৩২৪ রান করার পরই জয় প্রায় নিশ্চিত মনে হচ্ছিল। কারণ শ্রীলঙ্কায় এত রান টপকে জয়ের কোন নজির ছিল না। শেষ পর্যন্ত তাই হলো। তবে এতটা সহজে জয় মিলবে তা নিশ্চয়ই আশা করেন নি মাশরাফিরা। কিন্তু রানের পাহাড় সামনে রেখে শুরুতেই চরম বিপর্যয়ে পড়ে শ্রীলঙ্কা। ইনিংসের মাত্র তৃতীয় বলেই আঘাত হানে বাংলাদেশ। লঙ্কান ওপেনার গুনাতিলাকাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। এতে রানের খাতা  খোলার আগেই উইকেট খোয়ায় শ্রীলঙ্কা। ১৫ রানের মাথায় দ্বিতীয় উইকেট পতন। স্পিনার  মেহেদী হাসান মিরাজ ওয়ানডে অভিষেকেও উইকেটের দেখা পেলেন। ব্যাটিং করার সুযোগ না  পেলেও এক প্রান্তে বোলিং ওপেনিং করেন তিনি। নিজের তৃতীয় আর দলের ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে উইকেট পান তিনি। ১৭ বলে ৪ রান করা কুশল মেন্ডিস তার বলে ক্যাচ দেন বদলি ফিল্ডার শুভাগত হোমের হাতে। এরপর অধিনায়ক থারাঙ্গা ও চান্দিমাল থিতু হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু  পেসার তাসকিন আহমেদের আঘাতে সে প্রচেষ্টা নস্যাৎ হয়ে যায়। কোন রান না দিয়েই তিনি তার প্রথম ওভারে থারাঙ্গাকে বিদায় করেন। অধিনায়ক মাশরাফি ক্যাচটি নেন। ১৪ ওভার  শেষে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৩৯/৩। ১০ ওভারে সংগ্রহ ছিল ৩০/২। এ অবস্থা থেকে আর মাথা তুওে দাঁড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা। মাঝে দিনেশ চান্দিমাল ৭০ বরে ৫৯ রান করেন। আর শেষ দিকে থিসারা পেরেরা মারমুখি খেলে ৩৫ বলে ৫৫ রান করে ব্যবধানটা কমান। বাংলাদেশের পেসার মোস্তকাফিজ ৩ উইকেট নেন ৫৬ রানে। মাশরাফি আর মেহেদী মিরাজ নেন দুটি করে। একটি করে উইকেট নেন সাকিব আর তাসকিন।
এর আগে বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করের ৩২৪ রান। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে অষ্টম  সেঞ্চুরি হাঁকান তামিম ইকবাল। আর সাকিব আল হাসান হাঁকান ক্যারিয়ারের ৩৩তম অর্ধশতক। উইকেট দেয়ার আগে তামিম ইকবাল খেলেন ১২৭ রানের দারুণ ইনিংস। ১৪২ বলের ইনিংসে তামিম হাঁকান ১৫টি চার ও একটি ছক্কা।  সাকিব করেন ৭২ বলে ৭২ রান। চতুর্থ উইকেটে ১৪৪ রানের জুটি গড়েন তামিম-সাকিব। সাব্বির রহমানের ৫৬ বলে ৫৪ রানের ইনিংসও বাংলাদেশের সংগ্রহকে মজবুত করে। শেষ দিকে মোসাদ্দেক হোসেন ৯ বলে ২৪ ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ৬ বলে করেন ১১ রান। -ডেস্ক