মমতাজ, শারমিন সুলতানা সুমি ও সালমা। পুরোনো ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম) প্রতিবছরই শীতে স্টেজ শো দিয়ে মাতিয়ে রাখেন সংগীতশিল্পীরা। এবারের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। করোনার কারণে গত ৬-৭ মাস স্টেজ শো প্রায় বন্ধই ছিল বলা চলে। আর শিল্পীদের আয়ের প্রধান মাধ্যম এখন স্টেজ শো। আসছে শীতে কি আগের মতো জমবে স্টেজ শো। করোনা পরিস্থিতির দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। তার পরও কিছু কিছু স্টেজ শো শুরু হয়েছে। অনেক শিল্পীই এতে পারফর্ম করছেন। এরই মধ্যে বেশ কিছু শিল্পী ইনডোর শোতে অংশ নিয়েছেন। এ নিয়েই আজকের প্রতিবেদন-

মমতাজ

বাংলা ফোক গানের সম্রাজ্ঞী মমতাজ। তিনি বলেন, একজন শিল্পীর মূল জায়গা হচ্ছে স্টেজ শো। পাশাপাশি শ্রোতাদের খুব কাছাকাছি যেতে পারি আমার। করোনার কারণে দীর্ঘদিন সবকিছু বন্ধ ছিল। তাই শো করা হয়নি। মনের মধ্যে ছটফট করছি কবে গান গাইব মঞ্চে। বর্তমানে পরিস্থিতি একটু কন্ট্রোলে আছে। তাই এরই মধ্যে দুটি স্টেজ শোতে অংশ নিয়েছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই স্টেজ শোতে অংশ নিয়েছি। যদি এভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শোর আয়োজন করা হয় তবে তাতে অংশ নেবেন বলেও জানান মমতাজ।

শারমিন সুলতানা সুমি

চিরকুটের অন্যতম সদস্য শারমিন সুলতানা সুমি। তিনি বলেন, কনসার্ট হচ্ছে আমাদের প্রেম, ভালোবাসা আর কাজের জায়গা। দীর্ঘদিন পর কনসার্টে অন্যরকম অনুভূতি হয়েছে। ইতোমধ্যে দুটি কনসার্টে অংশ নিয়েছি। সামনে আরও কয়েকটি কনসার্টে অংশ নেব। আস্তে আস্তে সবাই কাজে ফিরছে, আমাদেরও কাজে ফেরা উচিত। একটা কনসার্টে অনেকেই যুক্ত থাকেন, আমরা তো শুধু গাই; যাদের আয়ের উৎস একটাই, তাদের কথা ভেবে হলেও নিয়ম মেনে আমাদের কাজে ফেরা উচিত বলে আমি মনে করি।

সালমা

আট মাস পর স্টেজ শোতে ফিরেছেন সংগীতশিল্পী সালমা। ২০ নভেম্বর রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে একটি অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সালমা স্টেজ শোতে ফিরেছেন। স্টেজ শোতে ফিরতে পেরে বেশ আনন্দিত তিনি। সালমা বলেন, ‘দীর্ঘ আট মাসেরও বেশি সময় পর স্টেজ শোতে গান গাইতে পারলাম। কী যে ভালো লাগছে, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। আয়োজকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা এবং আমার ভক্ত, শ্রোতা, দর্শকের প্রতি অনেক ভালোবাসা তারা সব সময় আমার পাশে ছিলেন, আছেন। তারা সব সময়ই আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়ে আসছেন। একজন শিল্পী স্টেজ শোতে নিয়মিত না থাকতে পারার মধ্যে মনের দিক দিয়ে অনেক কষ্টে থাকেন। সেই কষ্টটা অবশেষে দূর হলো।’

তাসনিম আনিকা

এ প্রজন্মের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী তাসনিম আনিকা। তিনি বলেন, এর মধ্যে কয়েকটি ইনডোর কনসার্টে অংশ নিয়েছি। গত ৭ নভেম্বর বাংলাদেশ এবং কোরিয়ার যৌথ উদ্যোগে প্রথম ইন্টারন্যাশনাল ডিজিটাল কনসার্ট করলাম। দীর্ঘ আট মাস পর মঞ্চে পারফর্ম করেছি সেই অনুভূতি বোঝাতে পারব না, কতটা ভালোলাগার ছিল। একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস স্টেজ শোয়ের মাধ্যমে আসে। এভাবে আর কতদিন ঘরে বসে থাকব। সবকিছু যখন হচ্ছে তখন শিল্পীরা কেন ঘরে বসে থাকবে। সামনে ডিসেম্বরে আরও বেশকিছু শো নিয়ে কথা হচ্ছে। সেগুলোতে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছি। বাকিটা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।

আয়েশা মৌসুমী

‘পাওয়া ভয়েস’খ্যাত আয়েশা মৌসুমী (১৭ নভেম্বর) ঢাকায় একটি ইনডোর কনসার্টে অংশ নিয়েছেন। আয়েশা বলেন, প্রাণ ফিরে পেলাম। মনে হচ্ছে এতদিন নিঃশ্বাস বন্ধ হয়েছিল। আর একজন কণ্ঠশিল্পীর আয়ের অন্যতম বড় উৎস এই কনসার্ট। তাই নিয়মিত স্টেজ শো করতে চাই। সামনে আরও বেশ কয়েকটি শো নিয়ে কথা হচ্ছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে শোগুলোতে অংশ নেব। -ডেস্ক