(দিনাজপুর২৪.কম) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী হয়ে তো কপাল পুড়ে গেছে। আগে যে রাস্তায় যেতাম, তাও নাই, আবার আকাশ দিয়ে উড়ে যেতে হয়।আকাশ দিয়ে উড়ে যাওয়ার ফলে রাস্তার মজাটাই পাওয়া যাচ্ছে না।এটাই হল দুর্ভাগ্য।”

গণভবনে বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠনে চাঁদপুর জেলায় ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হাসতে হাসতে এ কথা বলেন।

বিভিন্ন সময় যাত্রাপথে ফেরি কিংবা লঞ্চঘাটে মিষ্টি, পেঁয়াজুর মতো মুখরোচক খাবারের কথাও বলেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, “প্রত্যেক ফেরি ঘাটে থেমে থেমে সেখানে কোন ফেরি ঘাটে কোন মিষ্টি ভালো, কোন খাবারটা ভালো, কোথাকার কোন পেঁয়াজুটা ভালো, সে খবর পেতাম। এখন সেটা আর কপালে হয় না।সেটাই হল দুর্ভাগ্য”

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার সময় দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে গিয়েছিলেন দুই বোন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।
ছয় বছর প্রবাসে থাকার পর প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে বাবার দল আওয়ামী লীগের হাল ধরেন শেখ হাসিনা। তারপর এখন তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

অনুষ্ঠনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রামের সাধারণ মানুষের উন্নয়ন ও দেশের সার্বিক উন্নয়নই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই গ্রামের সাধারণ মানুষ বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায় ও দেশের সার্বিক উন্নয়নেই কাজ করা হচ্ছে। উদ্বোধনীতে উন্নয়ন কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে যাতে পরিচালিত হয় সেজন্য সবার সহযোগিতা দরকার বলেও জানান তিনি।

একটি উন্নত রাষ্ট্রের জন্য একটি শিক্ষিত জাতি প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যে বর্তমান সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত উপবৃত্তি, পিএইচডি’র জন্য বিশেষ সুযোগ, বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষার মান উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের জন্য উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, শিক্ষা, অর্থনীতিসহ বিভিন্ন পর্যায়ে উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে সরকার। আর এর সুফল ইতোমধ্যে দেশের জনগণ পাচ্ছে।

বঙ্গবন্ধুর অবদান সর্ম্পকে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ছিল একটা প্রদেশ। সেই প্রদেশকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করা এবং রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো থেকে শুরু করে আইন, নীতিমালা-বিধিমালা তৈরি থেকে শুরু করে একটি রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় সবই তিনি করে গিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তোলার জন্য। এত অল্প সময়ে একটি দেশকে উন্নয়নের গতিধারায় নিয়ে যাওয়ার এমন দৃষ্টান্ত পুরো বিশ্বে বিরল। সেই অসাধ্য সাধন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

‘বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তুলে তিনি যখন অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে অগ্রযাত্রা শুরু করেন, যার সুফল দেশবাসী পেতে শুরু করেছিল, ঠিক সেই সময় নেমে এসেছিল ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর থেকে দীর্ঘ ২১ বছর যারা ক্ষমতা দখল করেছে তারা শুধু নিজেরই উন্নয়ন করেছে, দেশের জনগণের কোনো উন্নতি হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপে প্রথম বাংলাদেশের মানুষ বিম্বাস করতে শুরু করে, সরকার জনগণের জন্য কাজ করে।

‘২০০১ থেকে পরবর্তী সাত বছর যারা ক্ষমতায় এসেছিল, তাদের জনগণের উন্নয়ন বা আমরা যেসব উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছিলাম সেগুলো নিয়ে মাথাব্যথা ছিল না। তাদের মাথাব্যথা ছিল কীভাবে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করবে, কীভাবে লুটপাট, দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং করবে। হাওয়া ভবন খুলে সেখানে প্রতিটি কাজে হস্তক্ষেপ করা এবং দেশে-বিদেশে ঘুষ-দুর্নীতি চলেছিল। এর ফলে আমাদের গুছিযে রাখা অর্থনীতি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে ক্ষমতা ছাড়ার সময় তার সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন ৪ হাজার ৩শ’ মেগাওয়াট রেখে গিয়েছিল। ‘২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের সময় দেখলাম তা ৩ হাজার ২শ’ মেগাওয়াটে নেমে গেছে। স্বাক্ষরতার হার ৬৫.৫ ভাগ থেকে নেমে ৪৪ ভাগে চলে এসেছে। কমিউনিটি ক্লিনিক সব বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আর একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প মৃতপ্রায়। অর্থাৎ জনগণের জন্য উন্নয়নমূলক সব কাজই প্রায় বন্ধ ছিল। আমরা ২০০৯ থেকে আবার শুরু করলাম।’ দীর্ঘ ২৪ বছরের সংগ্রাম ও লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সুফল সরকার বাংলার মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চায়। -ডেস্ক