(দিনাজপুর২৪.কম) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এখানে কোনো জাদু নেই। জাদু একটাই, সেটা হলো আমরা একটা আদর্শ নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করি।’ বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি কৌশল প্রসঙ্গে শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলে ৭ মার্চ ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। তার আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভবনের নাম ফলকের মোড়ক উন্মোচন করেন।

এক হাজার শিক্ষার্থীর আবাসনে সক্ষম এই ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৮৮ কোটি টাকা। ভবনে রয়েছে পাঁচতলা প্রশাসনিক ব্লক, সার্ভিস ব্লক ও জাদুঘর।জাদুঘরে ৭ মার্চের ভাষণ, বাঙালিদের সশস্ত্র সংগ্রামের বিরল ছবি এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে নারীদের অংশগ্রহণ ও অবদান সংক্রান্ত তথ্য রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী হাসিনা বলেন, ‘২০২০ সালে জাতির জন্মশতবার্ষিকী আমরা উদযাপন করব এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব। কাজেই এই সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী খুব অল্প সময়ের ব্যবধানেই কিন্তু আমরা উদযাপন করতে যাচ্ছি।’

বাংলাদেশ আজকে উন্নয়নের রোল মডেল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি যখন যেখানেই যাই, ওই একটাই প্রশ্ন অনেকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনারা এত দ্রুত কীভাবে অর্থনৈতিক উন্নতি করতে পারেন? কোনো কোনো রাষ্টপ্রধান বা সরকারপ্রধান তো জিজ্ঞাসা করেন, ম্যাজিকটা কী?

‘আমি শুধু তাদের একটা কথাই বলি, এখানে কোনো ম্যাজিক নাই। ম্যাজিক একটাই, সেটা হলো একটা আদর্শ নিয়ে আমরা রাষ্ট্র পরিচালনা করি। ক্ষমতা আমার কাছে ভোগের বস্তু নয়। ক্ষমতা হচ্ছে জনগণের জন্য দায়িত্ব পালন করা।’

‘জনগণের জন্য কি করতে পারলাম, কতটুকু করতে পারলাম, সেটাই বিবেচনা করি। সেটাই হিসাব কষি। সেটাই আমরা দেখি। প্রতিটি মুহুর্তে এটাই চিন্তা থাকে, কি কাজটা করলে দেশের মানুষের কল্যাণ হবে, মানুষ একটু ভাল থাকবে, ভালভাবে বাঁচবে, মানুষের জীবনটা উন্নত হবে? মানুষের জীবনে শান্তি ফিরে আসবে? মানুষের জীবনটা উন্নত হবে।’

‘সেই চিন্তা করেই আর জাতির পিতার যে নির্দেশিত পথ, সেই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি বলেই এত দ্রুত আমরা দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছি’ বলে দাবি করেন শেখ হাসিনা।

‘ইনশাল্লাহ, এই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। জাতির পিতা তার ঐতিহাসিক ৭মার্চের ভাষণে বলেছিলেন, কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না, দাবায়ে রাখতে কেউ পারেনি বাঙালীকে, ভবিষ্যতেও পারবে না।’ দেশকে যেন এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি সে জন্য সকলের সহযোগিতাও কামনা করেন শেখ হাসিনা।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের শিক্ষকরা যেমন শিক্ষা দেবেন, শিক্ষার্থী যারা তাদেরও উপযুক্ত শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে। শিক্ষাটা মানে শুধু কেতাবি শিক্ষা না, জীবন মান উন্নয়নের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে।

‘শিক্ষার্থীরা যে শিক্ষাগ্রহণ করবে তার সুফল যেনো আবার সাধারণ মানুষ পায়। সেদিকেও বিশেষ ভাবে দৃষ্টি দিতে হবে,’ যোগ করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উচ্ছৃঙ্খলতা কখনো গ্রহণযোগ্য নয়। সবাইকে নিয়ম মেনে চলতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে হলে নিয়ম মেনে আচরণ করতে হবে।

আগামী প্রজন্মকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করা এবং নিজেদের সেভাবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আমরা চাই আমাদের ছেলে-মেয়েরা সব দিক থেকে এগিয়ে যাক। তাদের জীবন মান উন্নত হোক। তারা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাক। ‘আমাদের তো সময় শেষ, এরপর প্রজন্মের পর প্রজন্ম আসবে তারা যেনো মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে গড়ে তোলে,’ যোগ ক

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক সমস্যা সমাধানে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২টি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেছিলেন। ভবনগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল রোকেয়া হলের ৭ মার্চ ভবন। -ডেস্ক