(দিনাজপুর২৪.কম) ড. কামাল হোসেন, কাদের সিদ্দিকীসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘এখনও সময় আছে- আপনারা মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তিকে ছেড়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দলে ফিরে আসুন। এমপি হওয়ার জন্য স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির সঙ্গে হাত মেলাবেন না।’ রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে শনিবার বিকেলে পহেলা ডিসেম্বরকে মুক্তিযোদ্ধা দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এ সমাবেশের আয়োজন করে। নৌ-পরিবহন মন্ত্রী ও সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক শাহজাহান খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, শাহজাহান খানের ছেলে আসিফুর রহমান খান, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান প্রমুখ।  সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন সংগঠন অংশ নেয়। এতে তারা পহেলা ডিসেম্বরকে মুক্তিযোদ্ধা দিবস হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানান। সমাবেশে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, এ মাস বিজয়ের মাস। এ মাস বিএনপি-জামায়াতকে প্রতিহত করারও মাস। সারাদেশে এদের পরাজিত করতে হবে। সারাদেশে বিজয় মঞ্চ গঠন করে তাদের প্রতিহত করতে হবে। বিএনপি-জামায়াতকে প্রতিহত না করা পর্যন্ত আপনারা কেউ বিজয় মঞ্চ ছাড়বেন না। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে দেশের জনগণ আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করবে এবং বিএনপি-জামায়াতকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করবে। এবার ভোটের বিপ্লব হবে। এমন বিপ্লব করা হবে যে, ‘বাটি চালান’ দিয়েও বিএনপি-জামায়াতকে খুঁজে পাওয়া যাবেনা।  মন্ত্রী বলেন, খেলা হবে মাঠে। মেসি গোল মিস করতে পারে, কিন্তু এ নির্বাচনে শেখ হাসিনা গোল মিস করবেন না। রাশেদ খান মেনন বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি যে- স্বাধীনতা বিরোধীরা বিএনপির মাধ্যমে নির্বাচনে এসেছে। ড. কামাল হোসেন দলে যুদ্ধাপরাধী থাকলে তাদের সঙ্গে তিনি নির্বাচনে যাবেন না বলেছিলেন। কিন্তু এখন বিএনপির প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে তার দল নির্বাচনে গিয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির চক্রান্ত এখনও থামেনি।

সমাবেশ থেকে জানানো হয়, আগামী ১৪ ডিসেম্বর রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে শহীদ বুদ্ধিজীবিদের সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পন করে শ্রদ্ধা জানানো হবে। এ ছাড়া ১৫ ডিসেম্বর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘরে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।

সমাবেশ শেষে সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ‘শিখা চিরন্তন’ এ গিয়ে সমবেত হন। সেখানে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তিরা যেন এদেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেজন্য শপথ গ্রহণ করেন তারা। -ডেস্ক