(দিনাজপুর২৪.কম) দফায় দফায় পেছানোর পর গেলো রোববার রাতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম মেধা তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে তারপরও কাটেনি জটিলতা। এখনও তালিকা পায়নি অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আবার নিজ বিভাগের বাইরে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে অনেক শিক্ষার্থীকে। আর এতকিছুর ফল হলো ভর্ কার্ক্রমে বিলম্ব। এদিকে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম দ্বিতীয় দিনের মতো শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় ভর্তির আনুষ্ঠানিকতা চলবে বিকেল পর্যন্ত। দ্বিতীয় দিনেও ফলাফল আর ভর্তি নিয়ে ভোগান্তীতে অভিভাবক-শিক্ষার্থীরা। ভর্তি সংক্রান্ত এসব জটিলতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কেউ কোন কথাও বলছেন না।

রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার পর ভর্তিচ্ছুদের তালিকা প্রকাশ করে ঢাকা শিক্ষাবোর্ড। বুয়েটের আইআইসিটি’র কারিগরি সহায়তায় এবার এসএমএসের পাশাপাশি সারা দেশে একযোগে অনলাইনে আবেদন করে সদস্য এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা।

ফল প্রকাশের পর আবেদনকারীদের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে তা জানিয়ে দেওয়া হয়। ভর্তির জন্য ওয়েবসাইট (http://xiclassadmission.gov.bd/) ছাড়াও স্ব স্ব শিক্ষা বোর্ডে ফল দেওয়া হয়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে মনোনীত শিক্ষার্থীদের তালিকা ডাউনলোড করে নিতে বলা হয়। প্রথম দফায় ভর্তির জন্য ১০ লাখ ৯৩ হাজার ৩৭৪ জনকে মনোনীত করা হয়েছে। একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির জন্য আবেদন করেছিল মোট ১১ লাখ ৫৭ হাজার ২২৪ জন শিক্ষার্থী।

ঘোষণা অনুযায়ী, মনোনয়নপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে রোববার । ২ জুলাই পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা কলেজে ভর্তি হতে পারবে। তবে বিলম্ব ফি দিয়ে ভর্তি হওয়া যাবে ৮ জুলাই পর্যন্ত। আর দ্বিতীয় মেধা তালিকা প্রকাশ করা হবে ৬ জুলাই। এ তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীরা ১০ জুলাই পর্যন্ত ভর্তি হতে পারবে।পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী, আগামীকাল ক্লাস শুরু হবে। ভর্তি প্রক্রিয়ায় জটিলতার কারণে ক্লাস করা নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

কিন্তু রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মনোনীতদের তালিকা পায়নি। এতে শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে বিলম্ব ঘটছে। এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ শাহান আরা বেগম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আমাদের যারা এসএমএস পেয়েছে, তাদের ভর্তি করানো হয়েছে। কিন্তু তালিকা না পাওয়ায় এর বাইরে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা যায়নি। এছাড়া মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা সিটি কলেজ, উত্তরা সিটি কলেজ, ট্রাস্ট কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও তালিকা পৌঁছেনি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আবেদনের সময় পছন্দ তালিকায় না দেয়ার পরও এক বিভাগের শিক্ষার্থীদের অন্য বিভাগে মনোনয়ন দেয়ার অভিযোগ এসেছে। এসব নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। আবার প্রথম মেধা তালিকায় নাম আসেনি অনেক শিক্ষার্থীর।

ডিজিটাল ভর্তি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের বাদ পড়া এবং মনোনীতদের অনেকেই পছন্দের বিভাগ ও কলেজ না পাওয়ায় ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের নিয়ে গঠিত ‘অভিভাবক ঐক্য ফোরাম’-নামের একটি সংগঠনের সভাপতি জিয়াউল কবীর দুলু সব শিক্ষার্থীর ভর্তির নিশ্চয়তার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে মেধা তালিকায় নাম না থাকলেও ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি উত্তীর্ণদের নিজ প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড মনোনীত তালিকা ধরেই সব কলেজকে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে হবে। এ নিয়মের বাইরে এবার শিক্ষার্থী ভর্তির কোনো সুযোগ নেই।

এসব অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ও কলেজ পরিদর্শক গণমাধ্যমে সঙ্গে কথা বলনে নি। আর ভর্তি প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত অন্য কর্তা-ব্যক্তিরাও কথা কোনো অভিমত দিচ্ছেন না গণমাধ্যমে।

ডিজিটাল ভর্তি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের বাদ পড়া এবং মনোনীতদের অনেকেই পছন্দের বিভাগ ও কলেজ না পাওয়ায় ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবক সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিতা সুলতানা। তিনি বলেন সংবাদ মাধ্যমকে, আগে থেকে বিষয়গুলোর চর্চা করলে এ জটিলতা হতো না। তিনি শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি লাঘবে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান। -(ডেস্ক)