(দিনাজপুর২৪.কম) না ফেরার দেশে চলে গেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হোসেন তৌফিক (এইচ টি) ইমাম। বুধবার রাতে তার মৃত্যু হয়, আজ বৃহস্পতিবার দুটি জানাজার পর তাকে দাফন করা হবে বনানীতে। বেলা ১১টায় উল্লাপাড়া আকবর আলী সরকারি কলেজ মাঠে জানাজা শেষে মরদেহ ফের ঢাকায় নিয়ে আসা হবে। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সবার শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। পরে বাদ আসর গুলশানের আজাদ মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

১৯৩৯ সালের ১৫ জানুয়ারি টাঙ্গাইল শহরে জন্ম নেন এইচ টি ইমাম। তার বাবা পিতা তাফসির উদ্দীন আহমেদ বি.এ. বি.এল.। মায়ের নাম তাহসিন খাতুন। তাফসির উদ্দীনের চাকরির সূত্রে শৈশবে রাজশাহীতে ছিলেন এইচটি ইমাম। সেখানেই তার প্রাথমিক শিক্ষা শুর হয়। পরবর্তীতে পড়াশোনা করেন পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া ও কলকাতায়। ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন তিনি।

পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাসের পর রাজশাহী কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি নিয়ে তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, অর্থনীতিতে এমএ ডিগ্রি নেন। তখন তিনি বাম ছাত্র সংগঠনে যুক্ত ছিলেন।

পড়াশোনা শেষে রাজশাহী সরকারি কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন এইচ টি ইমাম। এরপর তিনি পাকিস্তানে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেন। ১৯৬১ ব্যাচের সিএসপিদের মধ্যে তিনি ৪র্থ স্থান লাভ করেন এবং পাকিস্তান সরকারের উচ্চ পদে যোগদান করেন। ১৯৬৮ সালে তিনি লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্স থেকে ‘উন্নয়ন প্রশাসনে’ পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা করেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসের লোভনীয় চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে দেশের পক্ষে কাজ করেন এবং প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রিপরিষদ সচিবও হন তিনি।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের ২৬ অগাস্ট পর্যন্ত তিনি মন্ত্রিপরিষদের সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। এরপর ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৪ পর্যন্ত সাভারের লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৬ পর্যন্ত তিনি সড়ক এবং যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৭ পর্যন্ত পরিকল্পনা সচিবের পদে নিযুক্ত ছিলেন। তিনি পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া যমুনা মাল্টিপারপাজ ব্রিজ অথরিটির এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অবসর নেওয়ার পর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন এইচ টি ইমাম। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা। দলের নির্বাচন পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি, যে কমিটির চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে উপদেষ্টার দায়িত্ব দেন। প্রথমে তিনি জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। ২০১৪ সালে তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়।

এইচ টি ইমাম নিজে নির্বাচনে না দাঁড়ালেও তার ছেলে তানভীর ইমাম সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য।

মৃত্যুর কয়েকদিন আগে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক সিএমএইচে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মঙ্গলবার থেকে তার শারীরিক অবস্থা বেশি খারাপ হয়ে যায়। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। কিডনির জটিলতাসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ছিল তার।

এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও শোক জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। -ডেস্ক