(দিনাজপুর২৪.কম) মাঠে নামার আগে কী ঝক্কিটাই না পোহাতে হয়েছে! প্রথমে তাকে রেখেই শ্রীলঙ্কা চলে যায় বিমান। পরে দেরিতে শ্রীলঙ্কা পৌঁছে পড়েন করোনা পরীক্ষা ও কোয়ারেন্টাইন বাধায়। গত জুনে করোনা পজিটিভ হওয়ায় শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কথা জানিয়ে কোয়ারেন্টাইন ঝামেলা উৎরে যান এবং অনুমতি পান প্রথম ম্যাচ থেকেই মাঠে নামার।

বলা হচ্ছে পাকিস্তানি অলরাউন্ডার শহিদ আফ্রিদির কথা। যিনি লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) খেলতে এখন শ্রীলঙ্কায় এবং অধিনায়কত্ব করছেন গল গ্ল্যাডিয়েটরস দলের। এতসব ঝামেলা পেরিয়ে মাঠে নামার পর নিজের পুরনো ‘বুম বুম’ রূপটা ফিরিয়ে এনেছেন আফ্রিদি।

এ তারকা অলরাউন্ডারের ব্যাটিং ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়েছে জাফনা স্ট্যালিয়নসের বোলিং লাইনআপ। একের পর এক ছক্কা হাঁকিয়ে মাত্র ২৩ বলে খেলেছেন ৫৮ রানের সাইক্লোন ইনিংস। নিজ দলকে এনে দিয়েছেন লড়াকু সংগ্রহ। মিনিট ত্রিশেকের ইনিংসে ছয়টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন আফ্রিদি।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ১৩ ওভারে ৩ উইকেটের বিনিময়ে ৯২ রান করেছিল গল। পরের ওভারের প্রথম বলেই সাজঘরে ফেরেন ভানুকা রাজাপাকশে, উইকেটে আসেন আফ্রিদি। এরপর আফ্রিদি আউট হন ১৮তম ওভারের শেষ বলে। অর্থাৎ উইকেটে মাত্র ২৯ বল টিকে থাকেন তিনি।

আর এ অল্পসময়েই বিধ্বস্ত করেন জ্যাফনার বোলারদের। ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে আফ্রিদি আউট হওয়ার সময় গলের সংগ্রহ ১৫৫ রান। তিনি উইকেটে আসার পর ২৯ বল থেকে ৬৩ রান করে গল। যেখানে আফ্রিদির একার অবদানই ২৩ বলে ৫৮ রান। টানা তিন ছক্কার মারে মাত্র ২০ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের নবম ফিফটি পূরণ করেন।

প্রথম বাউন্ডারি হাঁকাতে ষষ্ঠ বল পর্যন্ত অপেক্ষা করেন আফ্রিদি। বিনুরা ফার্নান্দোর করা সেই ১৬তম ওভারটিতে মোট তিনটি চার মারেন তিনি। এরপর উইকেটে থাকেন আরও দুই ওভার, একাই মোকাবিলা করেন সবগুলো ডেলিভারি, হাঁকান ছয়টি ছক্কা। কাইল অ্যাবটের করা ১৭তম ওভারে ডিপ মিডউইকেট ও ফাইন লেগ দিয়ে মারেন জোড়া ছক্কা।

মূল তাণ্ডবটা চালান আরেক দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার ডুয়াইন অলিভারের করা ১৮তম ওভারে। তখনও পর্যন্ত ম্যাচে ৩ ওভারে মাত্র ২০ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়ে ফেলেছিলেন অলিভার। এই পেসারকে পাল্টা জবাব দিয়ে তার নিজের চতুর্থ ও শেষ ওভারে ৪টি ছক্কা মারেন আফ্রিদি।

১৮তম ওভারটির প্রথম তিন বলে তিন ছক্কা হাঁকালে মাত্র ২০ বলে পঞ্চাশ পূরণ হয় আফ্রিদির। চতুর্থ বলেও বড় শট খেলার চেষ্টা করেছিলেন, ব্যাটে-বলে হয়নি। পঞ্চম বলে এক্সট্রা কভার দিয়ে হাঁকান নিজের ষষ্ঠ ছক্কা। তবে শেষ বলে তাকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে সাইক্লোনটি থামিয়ে দেন অলিভার।

আফ্রিদির এই ৫৮ রানের ঝড়ের সুবাদে গলের দলীয় সংগ্রহ গিয়ে পৌঁছায় ৮ উইকেটে ১৭৫ রানে। পরে দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের প্রদর্শনী করে নিজের ৪ ওভারে মাত্র ২০ রান খরচ করেন আফ্রিদি। তবু ম্যাচটি জিততে পারেনি গল। খুব সহজেই ১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৮ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে জ্যাফনা।

তাদের জয় এনে দেয়ার মূল কৃতিত্ব ডানহাতি ওপেনার আভিশকা ফার্নান্দোর। দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়ে অপরাজিত থেকেই মাঠ ছেড়েছেন আভিশকা, খেলেছেন ৬৩ বলে ৫ চার ও ৭ ছয়ের মারে ৯২ রানের ইনিংস। যা তাকে পাইয়ে দিয়েছে ম্যাচসেরার পুরস্কার। -ডেস্ক