(দিনাজপুর২৪.কম) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কে হচ্ছেন ফরিদপুর-১ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এ নিয়ে চলছে পুরো ফরিদপুর জেলায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা। ফরিদপুরের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ আসন। এই আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাটি হিসাবে পরিচিত। এই আসন থেকে নৌকা প্রতীক যিনি পাবেন, তিনিই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন এমনটি মনেকরা হতো এক সময়। কিন্তু কালের বিবর্তনে তা পাল্টে গেছে। এখন এই আসনে প্রার্থী একটি বড় বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা-বোয়ালমারী-মধুখালী) উপজেলা নিয়ে গঠিত। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কে হচ্ছেন ফরিদপুর-১ আসনের নৌকার মাঝি। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে কে? এই প্রশ্ন এখন পুরো ফরিদপুর জুড়ে। ফরিদপুর-১ আসনে কে হচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী? বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান এমপি, আমিন জুয়েলার্স এর মালিক সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সিরাজুল ইসলাম নাকি ঢাকা টাইমস এর সম্পাদক কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান দোলন? এই আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ বলে পরিচিত হলেও আগামী নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে বলে মনেকরছেন সাধারণ ভোটারগন। বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান নির্বাচনী এলাকায় নেতিবাচক কর্মকান্ডের কারণে অজনপ্রিয় হওয়ায় নতুন প্রার্থী অপরিহার্য হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেশ কয়েকজন প্রার্থী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুর রহমানও এদের মধ্যে আছেন। এছাড়া বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদানকারী সাবেক সাংসদ কাজী সিরাজুল ইসলাম ও ঢাকাটাইমস ও সাপ্তাহিক এই সময় সম্পাদক তরুণ সমাজসেবক আরিফুর রহমান দোলনও মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিন উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেও তৃণমূলে তার রাজনৈতিক অবস্থান তথৈবচ। সর্বশেষ জেলা পরিষদ নির্বাচনে আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালীতে তার সমর্থিত সদস্য প্রার্থী হেরে গেছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, সর্বশেষ বোয়ালমারী পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাহজাহান মীরদাহ পিকুলের তৃতীয় হওয়ার পেছনে কারণ সাংসদ আব্দুর রহমান। স্থানীয় রাজনীতিতে পিকুল তার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। যে কারণে ভোটের রাজনীতিতে তার ভরাডুবি হয়েছে। তাকে মনোনয়ন দিয়ে আগামী নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের ঘরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।
সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সিরাজুল ইসলামও এবার মনোনয়ন প্রত্যাশী। একসময় তার সম্পর্কে মানুষের মধ্যে ভালো ভাবমূর্তি ছিল। আওয়ামী লীগের টিকিটে তিনি ২০০১ সালে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। পরে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে ২০০৫ সালের ৪ জুন দল ছেড়ে বিএনপি যোগ দিয়ে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা সম্পর্কে নেতিবাচক বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি খুইয়েছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জানান, সুবিধাবাদী লোক হিসেবে তিনি আবার আওয়ামী লীগে ফিরে এসেছেন। কেন্দ্রীয়ভাবে গ্রহণ করা হলেও স্থানীয় রাজনীতিতে তার এখন ভাবমূর্তি সংকট রয়েছে। বয়সও হয়েছে। বয়সের কারণে তরুণদের সঙ্গে অতটা সহজে তিনি মিশতেও পারছেন না। তবে তিনি ব্যক্তি হিসেবে ভদ্র ও দানশীল বলে পরিচিত। আওয়ামী লীগের টিকিট প্রত্যাশীদের মধ্যে আরিফুর রহমান দোলন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন। ব্যক্তি হিসেবে জনগণের মধ্যে তার স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে। বয়সে তরুণ। কাজেকর্মে তার অদম্য স্প্রিহা।
আলফাডাঙ্গার সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান আরিফুর রহমান দোলন পারিবারিক ঐতিহ্যগতভাবেই বহু আগে থেকে সামাজিক উন্নয়ন কর্মকা-ে জড়িত। তিনি বিভিন্ন ধরনের সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে নিজ উপজেলা ছাড়াও বোয়ালমারী ও মধুখালীবাসীর মধ্যে এরই মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। এছাড়া এই তিন থানার রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন। তার চেষ্টা-তদবিরে আলফাডাঙ্গার কামারগ্রামে একটি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিসিসি) নির্মিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকরা আলাপকালে জানান, তিনি সহজে মানুষের সঙ্গে মিশতে পারেন। এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষ তাকে সব সময়ই পাশে পায়। সবমিলিয়ে তরুণ এই নেতা মানুষের মধ্যে স্বচ্ছভাবমূর্তি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। আরিফুর রহমান দোলন সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের কথা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরাসহ স্থানীয় পর্যায়ে মাদকবিরোধী সভা-সমাবেশ করছেন। তার পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তিন উপজেলার বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছে। সামাজিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে লাইব্রেরি পৃষ্ঠপোষণেও কাজ করেছেন আরিফুর রহমান দোলন। এ বছরের শুরুতে মধুখালীর রউফনগরে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতি পাঠাগারে কয়েকশ বই প্রদান করেছেন।
এছাড়া বীরশ্রেষ্ঠের স্মৃতিবিজড়িত জাদুঘর ও তার বাড়িটি সংরক্ষণেও ভূমিকা রেখেছেন তিনি। স¤প্রতি তার চেষ্টা-তদবিরে বীরশ্রেষ্ঠের গ্রামে বিদ্যুতের আলো পৌঁছেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আরিফুর রহমান দোলনকে আগামী নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসনে মনোনয়ন দিলে আসনটি সহজেই আওয়ামী লীগের ঘরে থাকবে। কারণ তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে বরাবরই আলফাডাঙ্গার মানুষের ভোটে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়। দোলন আলফাডাঙ্গার ছেলে হিসেবে পুরো উপজেলায় তার শক্ত অবস্থান রয়েছে। -ডেস্ক