(দিনাজপুর২৪.কম) জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ (জামায়াত) এবং জাতীয় পার্টি বা জাপা আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এককভাবে করার কথাই ভাবছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের সঙ্গ ছাড়ার পরিকল্পনা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত। কারণ নির্বাচন কমিশন জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করায় দলীয় প্রতীক দাড়িপাল্লা পাবে না এবং জামায়াত নাম দিয়ে নির্বাচন করতে পারবে না। যদিও এ নামে রাজনীতি করার ক্ষমতা আছে এবং রাজনীতি করছেও দলটি। আবার জামায়াতের মতোই একক নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় পার্টিও। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী মনোনয়নের ঘোষণা দেওয়ার পর বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়েছে। তিনি গতকাল সিলেটে হজরত শাহজালাল (র.) মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সামনে এ ঘোষণা দেন। তাতে বোঝা যাচ্ছে শিগগিরই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল থেকে বেরিয়ে আসবে জাপা। দলটির চেয়ারম্যান এরশাদের ধারণা, একাদশ নির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী দিলে দুটো লাভ হতে পারে। একটি হচ্ছেÑ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আদলেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলে এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে গৃহপালিত বিরোধী দল হিসেবে দশম নির্বাচন থেকে আরো বেশি সুবিধা আদায় করা এবং যদি বিএনপিসহ সব দলের অংশগ্রহণ হয় তাহলে কোয়ালিশন সরকারের প্রয়োজন পড়লে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করতে না পারলে বাজিমাত করা। জাপার আসনগুলো নিয়ে কোয়ালিশন সরকারে সমর্থন দেওয়ার আগে দরদাম করে আরো বেশি সুবিধা নিতে। যদিও এরশাদ বারবারই বলছেন, কেবল দু-চারটি মন্ত্রী নেওয়ার জন্যই তার দল রাজনীতি করছে না। তিনি মৃত্যুর আগে জাপাকে একবার ক্ষমতায় দেখতে চান। আর সেই স্বপ্ন পূরণ করতে হলে জাপাকে এককভাবে নির্বাচন করতে হবে বলে মনে করেন সাবেক এ স্বৈরশাসক। এছাড়াও এরশাদের বেশ কয়েকটি মামলায় জেল এড়াতেও আওয়ামী লীগের চাপে থেকে দশম নির্বাচনের মতো শেষ পর্যন্ত একক নির্বাচন করতে বাধ্য হবে জাপা। তবে এটি হতে পারে যদি বিএনপি নির্বাচনে না আসে। আর যদি বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয় তাহলে আওয়ামী লীগ ১৪ দলীয় জোটেই রাখার চেষ্টা করবে জাপাকে। এদিকে জামায়াত-বিএনপির সম্পর্কেও দিনদিন ফাটল ধরছে। দুই দলই দূরত্ব নিয়ে চলছে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যুদ্ধাপরাধের মামলায় জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুজাহিদসহ বেশ কয়েকজন নেতার ফাঁসি হওয়ার পর হরতাল কর্মসূচিতে বিএনপিকে পাশে পায়নি জামায়াত। আবার বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ মামলার রায় নির্ধারণের পর বিএনপি যেভাবে রাজপথ উত্তপ্ত করছে তাতে জামায়াতের কোনো সাড়াই নেই। কোনো কথা বলছে না দলটি। নীরব ভূমিকা পালন করছে। এছাড়াও ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দাবিতে আন্দোলনে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের টানা তিন মাস অবরোধ-হরতাল ফ্লপ হওয়ার পর থেকেই বিএনপি-জামায়াতের সম্পর্কের ভাঙন লক্ষ করা যাচ্ছে। তবে জামায়াতের একক নির্বাচন করার চিন্তা এবং ২০ দলীয় জোট ছাড়ার আগ্রহের অন্যতম আরেকটি কারণ হচ্ছে মামলা-হামলা থেকে নেতাকর্মীকে রক্ষা। এরমধ্যে যুদ্ধাপরাধের মামলায় আর যেন কোনো নেতাকে ফাঁসিতে ঝুলতে না হয় সেই চিন্তা। অর্থাৎ সরকারের বিরুদ্ধে যাওয়া এবং বিএনপির পক্ষে থাকা দুটোই করতে নারাজ জামায়াত। দলটি ধরি মাছ না ছুঁই পানিÑ নীতিতে থাকতে চাচ্ছে ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার আগ পর্যন্ত। এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে মুখ খুলতে চাননি জামায়াতের একাধিক নেতা। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াতের একজন নেতা আমার সংবাদকে বলেন, তারা আরো কয়েক মাস নীরবই থাকবেন এবং অবস্থা বুঝে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন একক নির্বাচন করবেন, নাকি বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকবেন। -ডেস্ক