বিষ্ণুপদ রায় (দিনাজপুর২৪.কম) শুধু মাত্র বোর্ড ফি দিয়েই এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পুরণ করার দাবিতে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করে আসছে ঠাকুরগাওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার লোহাগাড়া ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়ায় বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা দিকে কলেজের দুটি কক্ষে ৪ জন শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে দরজায় তালা দিয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করতে থাকে তারা। প্রায় ৫ ঘন্টা পর বিকাল সোয়া ৪ টার দিকে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বন্দি দশা থেকে মুক্তি পায় শিক্ষকরা।
লোহাগাড়া ডিগ্রী কলেজের এইচএসসি ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহিন ইসলাম, রুমা দেব নাথ, জাহাঙ্গীর, মুন্নি সহ অনেকের অভিযোগ, ১২ ডিসেম্বর থেকে তাদের এইচএসসি বোর্ড পরীক্ষার ফরম পুরণ শুরু হয়েছে। কলেজ কতৃপক্ষ ফরম পুরণে বোর্ড নির্ধারিত ফি ছাড়াও বেতন বাবদ ১২’শ টাকা ও সেশন চার্জ বাবদ ৪’শ টাকা সহ আনুষাঙ্গিক ফি মিলে মোট ৬ হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করেন। এতে অসন্তোষ দেখা দেয় ১৮২ জন পরীক্ষার্থীর মাঝে। তারা অন্যান্য ফি বাদ দিয়ে শুধুমাত্র বোর্ড ফি দিয়েই ফরম পুরণের সুযোগ চেয়ে কলেজের অধ্যক্ষের কাছে আবেদন করে। এতে ১২ ডিসেম্বর ৯’শ টাকা কমিয়ে ৫ হাজার ১০০ টাকা ফি পূনঃনির্ধারণ করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা ঐ ফি দিয়ে ফরম পুরণ না করে ১৫ ডিসেম্বর কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে। এরপর সেদিনই আবারো ১ হাজার টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ১০০ টাকা ফি ধার্য্য করে কলেজের ফরম পুরণ কমিটি। এরপর ১৭ ডিসেম্বর ক্যাম্পাসে আবারো বিক্ষোভ করে তারা। এবার কলেজ কর্তৃপক্ষ আবারো ফি পুনঃ নির্ধারণ করে ৩ হাজার ৯৭০ টাকা ধার্য্য করেন।
১৯ ডিসেম্বর ফরম পুরণের শেষ দিন হওয়ায় বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে তাদের ঐ দাবী আদায়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। দুপুর পর্যন্ত অধ্যক্ষ আজাহারুল ইসলাম সরকার কলেজে না আসায় এবং এ বিষয়ে কোন সুরাহা না পেয়ে কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক তোজাম্মেল, জীব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সেলিনাকে কলেজের অফিস কক্ষে এবং হিসাব রক্ষণ বিভাগের শিক্ষক প্রনয় সাহা এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অশোক সাহাকে কলেজের অপর একটি কক্ষে তালা দিয়ে বন্দি রেখে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করতে থাকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। খবর পেয়ে পীরগঞ্জ থানা পুলিশ কলেজে যায়। কিন্তু তাতে কোন কাজ হয়নি। বিক্ষোভ করতে থাকে শিক্ষার্থীরা। বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে উপজেলা চেয়ারম্যান আখতারুল ইসলাম, ইউএনও রেজাউল করিম সহ কর্মকর্তারা কলেজে যান। তারা কলেজের অধ্যক্ষ আজাহারুল ইসলামকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ইউএনও শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে তালা খুলে দেন শিক্ষার্থীরা। বন্দি দশা থেকে মুক্তি পান ঐ ৪ শিক্ষক।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ আজাহারুল ইসলাম সরকার বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ইউএনও মহোদয় বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছেন।
ইউএনও রেজাউল করিম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি পিন্সিপাল সাহেব নেই। তাকে ডেকে নিয়ে বিষয়টির শান্তিপূর্ন সমাধান করা হয়েছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান আখতারুল ইসলাম বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি মেনে নিয়ে বিকাল ৪ টায় কলেজের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। এখন শুধুমাত্র বোর্ড ফি দিয়েই ফরম পুরণ করতে পারবে পরীক্ষার্থীরা।