সংগৃহীত

(দিনাজপুর২৪.কম) বিমানের ‘ময়ূরপঙ্খী’ উড়োজাহাজ ছিনতাইচেষ্টার ঘটনায় কমান্ডো অভিযানে নিহত অস্ত্রধারী তরুণের লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে রয়েছে। লাশ নিতে আজ সোমবার বেলা ১১টা পর্যন্ত তাঁর কোনো স্বজন মর্গে আসেননি। এই সময় পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।

অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তরুণের লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায় নগরের পতেঙ্গা থানার পুলিশ।

পতেঙ্গা থানার কনস্টেবল শংকর নাথ  বলেন, গতকাল দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে লাশটি মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত তরুণের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন পতেঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন দে।

সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়, তরুণের গায়ের রং শ্যামলা। উচ্চতা পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি। তাঁর বুকের দুই পাশে চামড়ায় জখমের দাগ রয়েছে। পাঁজরের বাঁ পাশে শুকনো রক্তের দাগ। পেটের উপরিভাগে নাভির দুই ইঞ্চি ওপরে ডান পাশে একটি গোলাকার ক্ষতচিহ্ন।

তরুণের মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে সুরতহাল প্রস্তুতকারী কর্মকর্তার মন্তব্য ঘরে লেখা রয়েছে, কমান্ডো অভিযানে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি (তরুণ) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে গিয়ে দেখা যায়, নিহত তরুণের লাশটি পড়ে আছে। সেখানে তাঁর কোনো স্বজনকে পাওয়া যায়নি।

পতেঙ্গা থানার কনস্টেবল শংকর নাথ  বলেন, লাশটি মর্গে আনার পর এ পর্যন্ত নিহত তরুণের কোনো স্বজন সেখানে আসেননি।

উড়োজাহাজ ছিনতাইচেষ্টার ঘটনায় আজ বেলা ১১টা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে জানান পতেঙ্গা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নুরুল আলম চৌধুরী।  তিনি বলেন, মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ময়ূরপঙ্খী উড়োজাহাজটির (বিজি-১৪৭ ফ্লাইট) ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে ছেড়ে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল। ঢাকা থেকে উড্ডয়নের পরই উড়োজাহাজটি ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে।

প্রায় দুই ঘণ্টার টান টান উত্তেজনার পর উড়োজাহাজ ছিনতাইচেষ্টার অবসান ঘটে। গতকাল সন্ধ্যা ৭টা ২৪ মিনিটে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মাত্র আট মিনিটের কমান্ডো অভিযানে উড়োজাহাজটিতে থাকা অস্ত্রধারী তরুণ নিহত হন।

২৫ বছর বয়সী ওই তরুণের নাম মাহাদী বলে গতকাল রাতে বিমানবন্দরের ভিআইপি গেটের সামনে এক ব্রিফিং জানানো হয়। তবে তাঁর পুরো পরিচয় পাওয়া যায়নি। উড়োজাহাজটি ছিনতাইচেষ্টার কারণও জানা যায়নি। ডেস্ক