(দিনাজপুর২৪.কম) বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মারাত্মক করোনাভাইরাসের উৎপত্তি হয়েছিল চীনে। তবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ার পর ভাইরাসের প্রকোপ কমতে শুরু করেছে চীনে। এরই মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যায় চীনকে টপকে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। মৃত্যুতে ইতালি। চীনে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৮১ হাজার ৩৪০ জন, মারা গেছে ৩ হাজার ২৯২ জন। এদিকে চীনের একটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সাইট দাবি করেছে, দেশটি করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে মিথ্যা কথা বলছে। প্রকৃত সংখ্যা সরকার ঘোষিত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি। অন্তত ২ কোটি ১৫ লাখ চীনা নাগরিকের খোঁজ মিলছে না। এরা হয় মারা গেছে নইলে কোয়ারেন্টিনে আছে।

এদিকে উহান শহরের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার স্থানে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের লম্বা লাইন এবং শ্মশানের সামনে ছাইয়ের স্তুপ করোনাভাইরাসের হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। চীনা সরকারের কড়াকড়ির কারণে করোনায় হাতাহতের প্রকৃত সংখ্যা কখনো সামনে আসেনি।

করোনার কেন্দ্রস্থল উহানে এই ভাইরাসে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের পরিবারকে আটটি স্থানীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার স্থানে চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। সেখানে শ্মশানগুলোর সামনে লাশ পোড়ানের ছাইয়ের স্তুপ দেখা গেছে। চীনা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত ছবিতে হাজার হাজার লাশের পোড়া দেহাবশেষ দেখা গেছে। এতে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে চীনে আসলে করোনায় প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা কতো?

চীনা গণমাধ্যম কেক্সিন জানিয়েছে, বুধবার (২৫ মার্চ) ও বৃহস্পতিবার একটি শোক প্রকাশ অনুষ্ঠানে ট্রাকে করে প্রায় ২৫০০ শবাধার নিয়ে মানুষেরা হাজির হয়েছিল। কেক্সিন প্রকাশিত আরেকটি ছবিতে দেখা গেছে, মাটির ভিতরে প্রায় ৩৫০০ শবাধার রাখা হয়েছে। এবং এটি পরিষ্কার নয় যে, কতগুলি শবাধার এরই মধ্যে মাটিতে পুতে ফেলা হয়েছে।

উহানের আটটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেওয়া মানুষেরা জানিয়েছে যে, কতগুলো শবাধার মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে সে ব্যাপারে কোনো সঠিক তথ্য তাদের কাছে নেই। তারা নিজেদের স্বজনদের শবাধার পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। কিছু পরিবার বলেছে যে, শবাধার সংগ্রহ করতে তাদের বেশ কয়েক ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল।

মিলান,মাদ্রিদ এবং নিউইয়র্ক সহ পশ্চিমের শহরগুলিতে করোনাভাইরাসজনিত কারণে গণ মৃত্যুর ছবি এই ধারণা আরও দৃড় করছে যে, চীন প্রকৃত সত্য লুকিয়েছে। এই শহরগুলিতে লাশের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমণে এখন পর্যন্ত ২৪ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। আক্রান্ত হয়েছে ৫ লক্ষাধিক।

চীনা সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুসারে, উহানের ২ হাজার ৫৩৫ জন ভাইরাসজনিত কারণে মারা গেছে। চীন জানায় যে জানুয়ারির পর থেকে চলা লকডাউন তুলে দেওয়া হয়েছে। শহরটিতে এখন নতুন আক্রান্তের সংখ্যা শূন্যে নেমে এসেছে। এখন তারা করোনায় আক্রান্ত অন্যান্য দেশগুলিতে কূটনৈতিক প্রচার বাড়িয়েছে এবং সেসব দেশে মেডিকেল সরঞ্জাম প্রেরণ করছে।

তবে চীনের কিছু লোক সরকারী এই পরিসংখ্যান নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন। বিশেষত উহানের হতাহতের সংখ্যা তারা মানতে নারাজ। তাদের দাবি প্রাথমিক প্রাথমিক পর্যায়ে প্রাদুর্ভাবকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি গণনা পদ্ধতিরও সমালোচনা করেছেন তারা। সোশ্যাল মিডিয়ায় উহানের বাসিন্দারা শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন।

কেক্সিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মারা যাওয়া অনেক লোকের মাঝে কোভিড -১৯ এর লক্ষণ ছিল, তবে তাদের পরীক্ষা করা হয়নি এবং সরকারী কেস তালিকায় থেকেও তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলি করোন ভাইরাসযুক্তদের সেবা দিতে গিয়ে অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে সঠিক চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন।

উহানের সিভিল অ্যাফেয়ার্স এজেন্সি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, ২০১৯ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে সেখানে ৫৬ হাজার ৭ টি লাশ  শ্মশানে পোড়ানো হয়েছিল। ২০১৮ এর চতুর্থ ত্রৈমাসিকের তুলনায় এই সংখ্যা ১৫৮৩টি বেশি এবং ২০১৭ এর চতুর্থ ত্রৈমাসিকের তুলনায় ২২৩১টি বেশি ছিল।

উল্লেখ্য, করোনায় বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮৭ জন মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এদের মাঝে মৃত্যু হয়েছে ২৪ হাজার ১৪৫ জনের। সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৫৬৪ জন। -ডেস্ক