(দিনাজপুর২৪.কম) তাপস সরকার নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে উপসচিব পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন কৌশলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়াসহ নানা প্রতারনার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে জানা গেছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরিবার কল্যাণ বিভাগের উপসচিব তাপস কুমার সরকার নামের ভিজিটিং কার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে নানা জনের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেন। এই টাকা ফেরত চাইলে তিনি মিথ্যা মামলাসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখান বলেও জানান ভুক্তভোগীরা। ওই ভিজিটিং কার্ডের সূত্র ধরে গতকাল সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিতে গেলে দেখাগেছে ওই নামের কোন উপ সচিব নেই। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিবের পারসোনাল অফিসার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, তাপস কুমার সরকার নামে কোনো উপ সচিব এই মন্ত্রণালয়ে নেই। তিনি বলেন, আমার জানামতে বিগত কয়েক বছরেও এই নামে কেউ উপ সচিব ছিলেন না। এছাড়াও অপর আরেকটি ভিজিটিং কার্ডে দেখা যায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিবের পরিচয় দেয়া। সেখানে নামের নিচে লেখা প্ল্যানিং ডিভিশন। অথচ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে খবর নিয়ে জানাগেছে, এখানে কোনো প্ল্যানিং ডিভিশন নেই। জনপ্রশাসনের লোক প্রশাসন কম্পিউটার (পিএসিসি) শাখা থেকে তাপস কুমার সরকার নামে কোনো বিসিএস ক্যাডারের তথ্যও পাওয়া যায়নি।
পরে কার্ডে থাকা মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে একজন ব্যাক্তি ফোন রিসিভ করার পর বলেন, তিনি তাপস কুমার সরকার নন। তার নাম্বার ব্যবহার করে ভুয়া ভিজিটিং কার্ড বানানো হয়েছে। তবে তিনি তার নাম ও পরিচয় প্রকাশ করেননি। বরং প্রতিবেদকের বিভিন্ন প্রশ্ন এরিয়ে যান। কথা বলার সময় রাগান্বিত হন। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছে, তাপস কুমারের জাতীয় পরিচয় ও পাসপোর্টের সূত্র ধরে দেখা যায় তিনি একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকুরী করেন। তাপস কুমার সরকার, পিতা- সাধন চন্দ্র সরকার, মাতা-দীপালী রানী সরকার। স্থায়ী ঠিকানা- ৯ রাজাপুর লেন, ইউনিয়ন আন্দরকিল্লা, ওয়ার্ড নং-৩২, থানা-কতোয়ালী, জেলা-চট্টগ্রাম। বর্তমান ঠিকানা- ২৭/২ মায়াকানন, বাসাবো, ঢাকা। জাতীয় পরিচয় পত্র নং- ১৫৯৪১২১৫৭১৬৩৮। পাসপোর্ট নং-এবি৬১৫৬৭০৪, বিকে-০৪৮৮৫৮৪। জন্ম তারিখ-০৫/০৭/১৯৬৩ইং পেশা-প্রাইভেট সার্ভিস। বিশেষ সূত্রে জানাগেছে, তাপস সুদীর্ঘ ২০ বছর যাবৎ নিজেকে উপসচিব পরিচয় দিয়ে অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। জানাগেছে, উৎপল দাস নামের এক ব্যাক্তির কাছ থেকে ২০০৭ সালে চাকুরী দেওয়ার কথা বলে ১০ লক্ষ টাকা গ্রহন করে এবং পরবর্তীতে চাকুরী দিতে ব্যর্থ হয়। কিন্তু উৎপল দাস টাকা ফেরত চাইলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। আরও জানা যায়, তিনি দীর্ঘ দিন যাবৎ স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংস দেবের প্রতিষ্ঠিত অযাচক আশ্রম এর সাথে সম্পৃক্ত। যদিও অযাচক আশ্রম অভিক্ষা নীতিতে পরিচালিত কিন্তু আশ্রমের নাম ব্যবহার করে সাধারণ ভক্তগণের কাছ থেকে চাঁদার মাধ্যমে বিপুল পরিমান অর্থ আদায় করে। এর কানাকড়িও আশ্রমে জমা পড়েনি। সুকুমার রায়, পিতা-মৃত দিলীপ কুমার রায় অযাচক আশ্রম চাঁদপুরের একজন ভক্ত। তার কাছ থেকে তাপস সরকার নিজেকে যুগ্ম-সচিব হিসাবে পরিচয় দেন। এবং একটি ভিজিটিং কার্ড দেন যাতে যুগ্ম-সচিবই লেখা আছে। এক পর্যায়ে সচিবলায়ে চাকুরীর প্রস্তাব দেন। সে প্রস্তাবে সুকুমার রাজী হলে চার লক্ষ টাকা অগ্রীম প্রদান করতে বললে সে আশ্রমের সেবায়েত সুখরঞ্জন দাস এর মধ্যস্থতায় ২০১৫ সালে সমুদয় টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে তাপস সরকারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও টাকা উদ্ধার করতে পারেনি। -ডেস্ক