(দিনাজপুর২৪.কম) দেশের শিল্পায়ন ও উন্নয়নের স্বার্থে মালিক এবং শ্রমিক পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মহান মে দিবস উপলক্ষে সোমবার বিকালে রাজধানীর বন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যকালে এ আহ্বান জানান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক হতে হবে হৃদ্যতাপূর্ণ। একে অপরের পরিপূরক হয়ে কাজ করলেই কেবল দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, আমাদের সকল মেহনতি শ্রমিক ভাই-বোনদেরকে এবং মালিক পক্ষকে আমি এটুকুই বলবো, মে দিবসের চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য সকলে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ  করবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মে দিবসের যে সংগ্রামী চেতনা, সেই চেতনাকে মাথায় নিয়েই আমাদের দেশকে ধীরে ধীরে আমরা শিল্পায়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। আমাদের দেশ উন্নত হবে। বাংলাদেশ হবে দারিদ্র্যমুক্ত। একটি দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্যে ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী আমরা পালন করবো। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
শ্রমের মর্যাদা এবং শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা যথাযথভাবে মিটিয়ে দেয়ার জন্য মালিকপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা মুনাফা অবশ্যই করবেন। তবে, তা যেন শোষণে পরিণত না হয়। শ্রমিকদের বঞ্চিত করে শিল্পের উন্নয়ন হবে না। কারণ শ্রমিক হচ্ছে কারখানার প্রাণ। শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শিল্প টিকে থাকলেই কেবল আপনাদের কর্মসংস্থান হবে। দারিদ্র্য দূর হবে। ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখতে পারবে। তাই শিল্পের ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজে সম্পৃক্ত হবেন না। শ্রমিক ও মালিক পক্ষকে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সবসময়ই আপনাদের পাশে আছে। কোনো সমস্যা হলে অবশ্যই আমরা আলোচনার মাধ্যমে তার সমাধান করতে পারবো। তার সরকার শ্রমনীতি বাস্তবায়ন ও শ্রমিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জীবনধারণের ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং প্রবৃদ্ধির হারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ ও পুনঃনির্ধারণ প্রক্রিয়া রাখা এবং এ জন্য মজুরি কমিশন ও সংশ্লিষ্ট আইনসমূহের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, একটা শ্রেণি আছে যাদের কাজই হচ্ছে ত্রুটি খুঁজে বের করে বদনাম করা। কিছু হলেই তারা কেবল বিদেশে মেসেজ পাঠানোয় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তাতে লাভ কি? দেশে কি ঘটনা ঘটলো তা দেশে বসে সমাধান না করেই মুরব্বি খুঁজতে পর দেশে যাবেন! তারা এসে কি করবে, খবরদারি করবে। আর এই খবরদারির ফলে যদি ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ হয়ে যায়, তবে এসব ইন্ডাস্ট্রিতে যারা কাজ করেন তাদের ভাগ্যে কি জুটবে? প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশ আজ বিশ্বব্যাপী উন্নয়নের রোল মডেল। এই সম্মান আমাদের ধরে রাখতে হবে। যারা কথায় কথায় বিদেশিদের কাছে নালিশ করতে যান-তারা যে নিজে দেশ, মালিক, মানুষ এবং ইন্ডাস্ট্রির ক্ষতি করেন, এটা তারা কেন উপলব্ধি করতে পারেন না? সেটা আমি বুঝতে পারি না।
তথাকথিত নেতৃত্বের দাবিদারদের উস্কানিতে শ্রমিকদের কান না দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্তত এটুকু বলতে পারি আমার রাজনীতি বাংলাদেশ এবং এদেশের জনগণের স্বার্থে ও কল্যাণে। জনগণের উন্নয়নের জন্য এখানে আমাদের চাইতে আর কারো দরদ বেশি উথলে উঠতে পারে তা আমি বিশ্বাস করি না। আমি এটুকু বলবো, আপনারা শ্রমিক ভাইয়েরা এদেশের কল্যাণে শ্রম দেন। বেতন-ভাতার জন্য আন্দোলন করা লাগবে না। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান,  আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কান্ট্রি ডিরেক্টর শ্রীনিবাস বি রেড্ডী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে মে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ, তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের পক্ষে বিজিএমইএ’র সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান,  কর্মজীবীদের পক্ষে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি সালাউদ্দিন কাশেম খান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মিকাইল শিপার। -ডেস্ক