(দিনাজপুর২৪.কম) উন্নয়নের নামে জলাশয় ভরাট বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের নামে আমরা এখন দেখি পুকুর ও খাল ভরাট করা হচ্ছে। এগুলো বন্ধ করতে হবে। এগুলো থেকে কিভাবে পানি সংরক্ষণ করা যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

মঙ্গলবার (২৭মার্চ) বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন শহরে অনেক সময় আগুন লাগলে পানি পাওয়া যায় না। আগে ঢাকার পান্থপথে একটা বিল ছিল। কিন্তু বিল ভরাট করে নগরায়ণ করার ফলে বসুন্ধরা শপিং মলে আগুন লাগার পর পানি পেতে কষ্ট হয়েছে, পরে সোনারগাও সুইমিং পুল থেকে পানি নিয়ে আগুন নেভানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে আমাদের দেশে পানি নিয়ে হাহাকার নেই। বাংলাদেশে প্রায় ৮৪ শতাংশ মানুষ সুপেয় পানি পান করতে পারে। কিন্তু যত নগরায়ন আসছে, প্রযুক্তি ব্যবহারে নদীর দূষণ বাড়ছে। অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে অনেক সময় বিল, পুকুর ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয় তাই অনেক সময় প্রয়োজনীয় পানিও পাওয়া যায় না।

আমাদের বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করতে হবে, এবং অবশ্যই নির্মাণ কাজ করার সময় খাল- বিল যাতে ড্রেসিং করে ভরাট না করা হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। পরিকল্পনার অদক্ষতার জন্য বহুতল ভবনে যেখেন একটি পরিবার থাকার কথা, সেখানে থাকছে ৩৪ থেকে ৩৫ পরিবার। পানি ব্যবহারে আমাদের মিতব্যায়ী হতে হবে। অপচয় যেন না হয় সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। নদী পথে যাত্রা কালে অনেকে চিপস, বিস্কিটের প্যাকেট নদীতে ফেলে দেয় এই অভ্যাস বদলাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হতে হবে। ভারতের নদী গুলোকে যেনো তারা ড্রেসিং করে এই বিষয়ে আমরা তাদের সাথে আলাপ আলোচনা করছি। পানি তো আর ধরে রাখতে পারবে না, কিছু পানিতো আমাদের দিতেই হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য পানির ভূমিকা অনেক। পানির অপর নাম জীবন। জীবজন্তু ও পশুপাখি সবার জন্য পানি প্রয়োজন। গাছপালার জন্যও পানি লাগে। তাছাড়া, কৃষিকাজের জন্যও পানি প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘বিশুদ্ধ পানি কিভাবে সংরক্ষণ করা যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বিশ্বের ১০০ কোটি মানুষ সুপেয় পানি পায় না। পানির জন্য অনেক দেশেই হাহাকার রয়েছে। আমাদের দেশে তা নেই। ’

তিনি আরও বলেন, ‘পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে নদীর ড্রেজিং করার কোনও পরিকল্পনা আসে না। আসে নদীর পাড় বাঁধাই, গাছ লাগানো, নদীর পাড়ে চার লেন রাস্তা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের। কিন্তু রাস্তা করার জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় রয়েছে।’

প্রসঙ্গত, ‘পানির জন্য প্রকৃতি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব পানি দিবস ছিল ২২ মার্চ। কিন্তু বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাওয়ায় ওইদিন সরকারি কর্মসূচি ছিল। তাই সেদিন পানি দিবস পালন করতে না পারায় মঙ্গলবার (২৭মার্চ) সরকারিভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।