re-dinajpur24(দিনাজপুর২৪.কম) অব্যাহত স্রোতে রাজবাড়ী জেলা সদরের উড়াকান্দা এলাকায় পদ্মা নদী ভাঙতে ভাঙতে শহর রক্ষা বাঁধের মাত্র কয়েক ফুটের মধ্যে চলে এসেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে শহর রক্ষা বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

ইতিমধ্যে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে বালুর বস্তা ফেলে শহর রক্ষা বাঁধে সংস্কার কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে আগে থেকে স্থায়ী পদক্ষেপ না নিয়ে এখন শেষ মুহুর্তে এ সংস্কার কাজকে ‘নামে মাত্র সংস্কার’ বলে আখ্যায়িত করেছেন স্থানীয়রা।

 সঠিক সময়ে সংস্কার কাজ না করায় রাজবাড়ী জেলা সদরের বরাট ইউনিয়নের উড়াকান্দা ও নয়নসুখসহ কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাড়ছে অসহায় মানুষের সংখ্যা। এ জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলাকে দায়ী করছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

ফারাক্কার গেট খুলে দেওয়ায় পদ্মা নদীর রাজবাড়ী জেলার অংশে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। গত দুই দিনে নদীতে পানি বৃদ্ধি না হলেও তীব্র স্রোত দেখা দিয়েছে। সেই সাথে নদী ভাঙ্গন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলা সদরের বরাট ইউনিয়নের উড়াকান্দা ও লালগোলা এলাকার এক হাজারেরও বেশি পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ও মালামাল সড়িয়ে নিতেও হিমসিম খাচ্ছে। উড়াকান্দার মিয়া বাড়ি, মোল্লা বাড়ি ও লালগোলা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে ভাঙনের ভয়াবহতা। সেখানে নদী দিয়ে বইছে ঘূর্ণায়মান তীব্র স্রোত।

নদী ভাঙ্গন দেখতে আসা সিরাজ খান বলেন, গত দুই দিন ধরে ফারাক্কার পানির প্রভাব এখানে পড়েছে। নদীতে তীব্র স্রোত দেখা দিয়েছে। যে কারণে ভাঙন শরু হয়েছে। ভাঙন থেকে বসতবাড়ি, স্কুল, মসজিদ, কবরস্থানসহ কোন কিছুই বাদ যাচ্ছে না।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডেও নির্বাহী প্রকৌশলী গৌড়পদ সূত্রধর জানান, জেলা সদরের বরাট ইউনিয়নে সাড়ে ৮ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। উড়াকান্দা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় ২৮০ মিটার স্থানে ৬৫ লাখ টাকা ব্যায়ে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। এছাড়া ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মিয়া বাড়ি এলাকায় ৫০ মিটার এবং লালগোলা এলাকায় ৫০ মিটার করে বাঁশ ও বালু ভর্তি বস্তা ফেলার কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে নদীর ঢেউ আর তীব্র স্রোতের সাথে তারা পেরে উঠছেন না।

তিনি আরও জানান, পুরো এলাকার নদী তীরের স্থায়ী ভাঙন রোধের লক্ষ্যে ইতিপূর্বে দু’শ কোটি টাকার একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছিল। ওই প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)- এ পাশ করা হলে রাজবাড়ীবাসীর আতংক দূর করা সম্ভব হতো। তবে ভাঙন প্রতিরোধে ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৩টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৩০ লক্ষ টাকা করে কাজ শুরু করা হয়েছে। আশাকরা হচ্ছে ওই অর্থ ব্যায় করে ভাঙ্গন রোধ করা সম্ভব হবে।

তবে স্থানীয়রা বলছেন, শেষ মুহুর্তে বালুর বস্তা ফেলে এ লোক দেখানো সংস্কার কাজ করে নদীর ভাঙ্গন ঠেকানো যাবে না। অতিদ্রুত স্থায়ীভাবে নদী ভাঙন ঠেকানোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা। -ডেস্ক