সুকুমার দাস (বাবু) (দিনাজপুর২৪.কম)  ফলবন্ত আর্শীবাদ পুষ্ট কৃষি প্রধান দিনাজপুর জেলার উৎপাদনমুখী মাটিতে ভালো বীজ ভালো ফসল ও অধিক ফসল উৎপাদনে সহায়তা করে। প্রান্তিক কৃষকরাও অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হবে। নিরাপদ ও পুষ্টিগত খাবারের প্রথম শর্ত হলো নির্ভেজাল ও মানসম্পন্ন বীজ দিয়ে উৎপাদন করতে হবে। বীজ ব্যবহারে সর্তক থাকতে হবে। এই প্রত্যয় নিয়ে গতকাল দিনাজপুরে কারিতাস এগ্রো ফার্মের বীজ বিপণনের যাত্রা শুরু হয়। কারিতাস বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ডঃ বেনেডিক্ট আলো ডি রোজারিও এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে  প্রধান অতিথি ছিলেন দিনাজপুর ধর্ম প্রদেশের বিশপ সেবাস্তিয়ান টুডু ডিডি, বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা ডঃ মাহাবুবুর রহমান। বক্তব্য রাখেন, দিনাজপুর কারিতাসের আঞ্চলিক পরিচালক মিঃ যোগেন জুলিয়ান বেসরা, কোর দা জুট ওর্য়াকের পরিচালক বার্থা গীতি বারই, আরটিএমএ’র সদস্য ফাদার মাইকেল, হাবিপ্রবির শিক্ষক মৌসুমী সরকার ছন্দা, ফাদার আন্তনী সেন, ভিক্টর লাকড়া, কৃষক আব্দুস সামাদ, পঞ্চানন, সিডিএ’র আব্দুর রহিম প্রমুখ। প্রধান অতিথি বিশপ সেবাস্তিয়ান টুডু ডিডি বলেন, দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চল কৃষি ও শ্রম নির্ভরশীল এলাকা। এই এলাকা অর্থনৈতিক ভাবে দরিদ্র এই অঞ্চলের মানুষকে সুখি সমৃদ্ধ এবং জেলার উন্নয়ন করতেই কারিতাস কাজ করছে। সভাপতি  ডঃ বেনেডিক্ট আলো ডি রোজারিও বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি  খেলাধুলাসহ সব ক্ষেত্রেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতি ও ভাগ্যের প্রতি যতœশীল হতে হবে। নৈতিকতা বিসর্জন দেয়া যাবে না। ভেজাল বীজ এ মানুষ প্রতারিত হচ্ছে। নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকে মানুষকে মানুষের সেবায় এগিয়ে আসতে হবে। কারিতাস বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রান্তিক কৃষক কূলকে সহায়তা প্রদান করা মাত্র। কৃষিবিদ গোপাল চন্দ্র ঘোষ জেপিও জানান, অত্র অঞ্চলের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মাঝে গুনগত ও মানসম্পন্ন আমন, বোরো, গম, আলু, সরিষাসহ বিভিন্ন ধরনের বীজ উৎপাদন করছে দিনাজপুর কারিতাস। সরকারি অনুমোদন পাওয়ার পর দিনাজপুর জেলার বিরল, বোচাগঞ্জ, বিরামপুর এবং ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলায় প্রায় ৪২ একর জমিতে ধান, গম ও আলু বীজ উৎপাদন করে বীজ গুদামজাত করা হয়েছে। ২০১৪ সালে আমন ধান ১ মেট্রিক টন, বোরো ৬ মেট্রিক টন,  আলু ৫৯ মেট্রিক টন, গম ১২ মেট্রিক টন বীজ উৎপাদন করা হয়। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে আমন ধান ১০ মেট্রিক টন, বোরো ধান ১০ মেট্রিক টন, আলু বীজ ২’শ মেট্রিক টন, সরিষা বীজ ১ মেট্রিক টনসহ করলা, ঝিঙ্গা, ডাটা,লালশাক, মূলা, লাউ ও টমেটো বীজ উৎপাদন করা হবে। উত্তরবঙ্গসহ সারা দেশে কারিতাস উৎপাদিত ‘‘কারিতাস সীড’’ ফসলে গুনগত মান রক্ষা করবে। এছাড়াও কারিতাস এগ্রো ফার্মের গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগী পালনের পাশাপাশি ১২টি পুকুরে মৎস চাষ ও পোনা চাষ করা হয়। কৃষি ক্ষেত্রে দিনাজপুরসহ উত্তরবঙ্গে কারিতাস ব্যপক ভূমিকা রাখবে এই প্রত্যাশা প্রান্তিক কৃষকদের। -(সাহেব)