(দিনাজপুর২৪.কম) সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ২৫৫ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। ফলে জিততে হলে উইন্ডিজদের করতে হবে ২৫৬ রান। শুরুতে লিটনের ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়া আর ইমরুলের আউটের পর চাপে পড়ে বাংলাদেশ। পরে তামিম-মুশফিকের ফিফটিতে ১১১ রানের জুটি পায় বাংলাদেশ। পরে ফিফটি করেন সাকিবও। তবে শেষ দিকে লিটন-সৌম্য এবং মাশরাফি-মিরাজরা ভালো করতে না পারায় সংগ্রহ বড় করতে পারেনি বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে তুলতে পেরেছে ২৫৫ রান। উইন্ডিজদের টার্গেট দাঁড়িয়েছে ২৫৬রান। ওপেনার তামিম ইকবাল ৫০ রানে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন। এরপরই মুশফিক ফেরেন ৬০ রান করে। তাদের আউটের পর সাকিব ৬৫ রানে ব্যাট করছেন।ব্যাটে আছেন মাশরাফি ও মেহেদি মিরাজ। তার আগে মাহমুদুল্লাহ ৩০ রানে আউট হয়েছেন। এছাড়া ওসানে থমাসের বলে ব্যথা পেয়ে মাঠ ছাড়ার আগে লিটন ৫ রান করেন। স্ক্যান করানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।চিড় ধরা পড়েনি। লিটন ব্যাটে নামবেন আবার। তারপর উঠে যাওয়ার পর ব্যাটে নামা ইমরুল কোন রান না করেই ফিরে। প্রথম ম্যাচে মাত্র ৪ রান করেন আগের সিরিজে রেকর্ড রান করা ইমরুল কায়েস।

এর আগে টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জয়ের সুযোগ বাংলাদেশের। অন্যদিকে ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচে ওপেনার কিয়েরণ পাওয়েলকে বসিয়ে চন্দ্রপল হ্যামরাজকে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শিশিরের কারণে পরে ব্যাট করলে বল সহজে ব্যাটে আসবে বলে মনে করেন উইন্ডিজ অধিনায়ক।

বাংলাদেশ এ ম্যাচে কোন পরিবর্তন না নিয়েই মাঠে নেমেছে। এর আগের ম্যাচে বাংলাদেশ দল অধিনায়ক মাশরাফির ২০০তম ওয়ানডে জিতে স্মরণীয় করেছে। এবার তাদের সামনে আরেক উপলক্ষ্য। মাশরাফি, তামিম, সাকিব, মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহর বাংলাদেশ দলের হয়ে একত্রে খেলা শততম ম্যাচ এটি।

টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জয়ের হাতছানি মাশরাফিদের সামনে। মিরপুরে আজ ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচটি জিততে হ্যাটট্রিক সিরিজ জয়ের সাধ পাবে টাইগার বাহিনী। ওয়ানডেতে সব শেষ পাঁচ ম্যাচের মাত্র একটিতে হেরেছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, নিজেদের খেলা সব শেষ ৫ ম্যাচের একটিতে জয়, একটিতে ড্র আর বাকি তিনটিতেই হেরেছে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ২৩টি ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে। ঘরের মাঠেই জিতেছে ১৮টি সিরিজ। আর অ্যাওয়ে সিরিজে পাঁচবার সিরিজ জয়ের স্বাদ নিয়ে এসেছে।

তবে পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে টাইগারদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে থাকবে উইন্ডিজরা। ১৯৯৯ সালের পর থেকে বাংলাদেশ মোট ৩২ ওয়ানডে ম্যাচে উইন্ডিজের মুখোমুখি হয়েছিল। যেখানে জয়ের পাল্লা ভারী ক্যারিবীয়ানদের দিকে। ২০ ম্যাচে জিতেছিল ক্যারিবিয়ানরা। আর বাংলাদেশের জয় আছে ১০টি তে। বাকি দুটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়।

হার দিয়ে শুরু করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ একটি পরিবর্তন এনেছে একাদশে। কিয়েরন পাওয়েলের জায়গায় দলে রয়েছেন চন্দরপল হেমরাজ। ওয়ানডেতে দারুণ সময় কাটাচ্ছে বাংলাদেশ। আজ ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে টাইগারদের সামনে টানা তৃতীয় সিরিজ জয়ের হাতছানি। তবে হেরে গেলেও সিলেটের তৃতীয় ম্যাচে সুযোগ থাকবে। তবে মিরপুরেই কাজটা সেরে রাখার লক্ষ্য মাশরাফিদের। জিতলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চতুর্থ ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের। ২০০৯ সালে প্রথমবার ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছিল টাইগাররা। পরের জয়টি এসেছে ঘরের মাঠে ২০১২ সালে। ৫ ম্যাচের ওই সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে জিতেছিল স্বাগতিকরা। এরপর চলতি বছর জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতেই তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জেতে বাংলাদেশ।

প্রথম ওয়ানডের মতো এই ম্যাচটিতেও আছে মাইলফলক ছোঁয়ার উপলক্ষ। বাংলাদেশের পাঁচ সিনিয়র ক্রিকেটার- মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ ও তামিম ইকবাল একসঙ্গে শততম ওয়ানডে খেলতে নামবেন মিরপুরের ২২ গজে।

বাংলাদেশ একাদশ: মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশ: চন্দরপল হেমরাজ, শাই হোপ (উইকেটরক্ষক), ড্যারেন ব্রাভো, মারলন স্যামুয়েলস, শিমরন হেটমায়ার, রোভম্যান পাওয়েল (অধিনায়ক), রোস্টন চেজ, কিমো পল, দেবেন্দ্র বিশু, কেমার রোচ ও ওশানে থমাস। -ডেস্ক